পুলিশি হয়রানি থেকে সন্তানদের নিস্কৃতির দাবিতে বৃদ্ধা মায়ের সংবাদ সম্মেলন


প্রকাশিত : February 27, 2018 ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: জেলায় একজনের অপরাধের কারণে অন্য সন্তানদের পুলিশি হয়রানি থেকে নিস্কৃতির দাবি জানিয়েছেন এক বৃদ্ধা মাতা। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান, সাতক্ষীরা শহরের বাটকেখালী এলাকার মৃত কোরবান আলীর স্ত্রী মোসা. সাজেদা খাতুন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার ৫ ছেলে ও এক মেয়ে। আমার বড় ছেলে শামসুল হুদা, সেজো কামরুল হুদা ও ছোট ছেলে মেজবাহুল হুদা স্থানীয় চালতেতলা বাজারে দোকানদারি করে ও ৪নং ছেলে নাজমুল হুদার শহরের খুলনা রোড মোড়ে একটি মোবাইলের দোকান আছে। মেঝ ছেলে নুরুল হুদা ২০০৫ সাল থেকে আশাশুনি উপজেলার কুলতিয়া গ্রামে আরএন ব্রিকস নামে একটি ইটভাট যৌথভাবে পরিচালনা করে আসছিল। আমার প্রত্যেকটি ছেলের ব্যবসা আলাদা আলাদা এবং বহু বছর ধরে তার সবাই পৃথক অন্নভূক্ত হয়ে ঘর সংসার নির্বাহ করছে। কারও সাথে কারও আর্থিক কোন লেনদেন নেই।

তিনি বলেন, কয়েক বছর পর ভাটার অন্য শেয়ার হোল্ডার রফিকুল ইসলামের সাথে ব্যবসায় বনিবনা না হওয়ায় তার (রফিকুল) অর্ধেক শেয়ার নুরুল হুদা কিনে নিয়ে ওই ভাটার একক মালিক হয়। এতে হঠাৎ করে নুরুল হুদা আর্থিক সংকটে পড়ে। এমতবস্থায় সে ইট দেয়ার নাম করে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নেয় ও ব্যাংকের চেক দিয়ে সুদে টাকা ধার করে। পরবর্তীতে দেনার দায়ে পাওনাদারদের ভয়ে ভাটা ফেলে পালিয়ে যায় সে। ফলে নুরুল হুদার নামে বিভিন্ন পাওনাদার অনেক গুলো মামলা করেছে বলে আমি জানতে পেরেছি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ছেলেরা সবাই পৃথক অন্নভূক্ত হওয়া স্বত্বেও সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ আমার ৪নং ছেলে নাজমুল হুদাকে তার দোকান থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং তার ভাই নুরুল হুদাকে থানায় হাজির করতে বলে। একপর্যায় স্থানীয় পৌর কাউন্সিলরের হেফাজতে পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। আমি নিজে বা আমার অন্য কোন সন্তান নুরুল হুদার কোন খবর রাখি না। নুরুল হুদা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ও ক্রয়কৃত কয়েক বিঘা জমি তার স্ত্রী ফারহান মুক্তার নামে লিখে দিয়েছে। তার স্ত্রী মুক্তা সব জানা স্বত্বেও পুলিশ তার উপর চাপ সৃষ্টি না করে আমার অন্য সন্তানদের অহেতুক হয়রানি করছে। এছাড়া নুরুল হুদার স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও জামাতা কামরুজ্জামান মিলে আমার অন্য সন্তানদেরকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি নারী নির্যাতনের মামলা করার ভয় দেখাচ্ছে।

তিনি তার অন্য সন্তানদের অযথা পুলিশি হয়রানি থেকে নিস্কৃতির দাবি জানিয়ে নুরুল হুদার শশুরবাড়ির লোকজনদের অত্যাচার নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।