প্রধানমন্ত্রীর খুলনায় আগমন উপলক্ষে ২৪ দফা উন্নয়নের দাবিতে উন্নয়ন কমিটির সংবাদ সম্মেলন


প্রকাশিত : February 27, 2018 ||

আজ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখ মঙ্গলবার বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে খুলনা প্রেস ক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে আগামী ৩ রা মার্চ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর খুলনায় শুভ আগমন উপলক্ষে খুলনার বিভিন্ন উন্নয়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান। লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, শিল্পের ক্ষেত্রে খুলনাঞ্চল তথা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় বাঁধা হচ্ছে, অবকাঠামোগত সমস্যা এবং সস্তায় জ্বালানী না পাওয়া। আমরা জানি, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জ্বালানী যোগান দেয়া বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির অন্যতম পূর্বশর্ত। অর্থনীতির সাধারণ নিয়ম অনুযায়ি, এই খাত গুলোয় সরকারি ভাবে বিনিয়োগ করতে হবে। তবেই বেসরকারি উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে পারেন বা করেন। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের জন্য সকল ধরণের অনুকূল পরিবেশ চাই, তাই জমি বলুন, আর ব্যাংক ঋণ বলুন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশের জন্য সকল ধরণের নিয়ম নীতি তৈরি করেছে এবং অবকাঠামোগত খাতে ব্যপক মাত্রায় বিনিয়োগ করছে যা দ্রুত বাস্তবায়ন হওয়া দরকার। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ১.খুলনায় পাইপ লাইনে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ, ২. খানজাহান আলী বিমান বন্দর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া; ৩. ভোমরা বন্দর আধুনিকায়ন, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং ভারতের সাথে ভোমরা-খুলনা-ঢাকা সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেয়া; ৪. খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি কলেজ, প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার ঘোষনা দেয়া, ৫.খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ১০০০ বেডে উন্নীত করণসহ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষনা, আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গরূপে চালু ও সদর হাসপাতালের উন্নয়ন, ৬.মেরিন একাডেমী, ৭.মংলা বন্দরের সক্ষমতাবৃদ্ধিসহ আধুনিকায়ন, ৮.খুলনা-মংলা-ভাঙ্গা মহাসড়ক চার লাইনে উন্নীত, ৯.খুলনা-যশোর-দর্শনা ডবল রেল লাইন নির্মাণ, ১০.খুলনা-যশোর-ঢাকা মহাসড়ক সংস্কার, খুলনা সাথে জেলা-উপজেলা দ্রুত সড়ক উন্নয়ন, ১১.খুলনা-জোড়াগেট ফুলতলা পর্যন্ত চার লেনে উন্নীত, ১২.রূপসা ও ভৈরব নদীর তীর ঘেষে শহর রক্ষা বাঁধসহ রিভার ভিউ রোড ও পার্ক, ১৩.সুন্দরবনকে ঘিরে খুলনায় পর্যটন শিল্পের বিকাশ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও পাঁচ তারকা হোটেল-মোটেল নির্মাণ, ১৪.কম্পোজিট টেক্সটাইল পার্ক নির্মাণ, ১৫.বঙ্গবন্ধু মিডিয়া কমপ্লেক্স নির্মাণ ও বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার নির্মাণ, ১৬.খুলনায় পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন কেন্দ্র চালু, ১৭.খুলনা গণ-উন্নয়ন গ্রন্থাগার আধুনিকায়ন, ১৮.খুলনায় দ্রুত আন্তর্জাতিক মানের পাবলিক হল নির্মাণ, ১৯.ভৈরব ও রূপসায় নদীর তলদেশে ট্যানেল নির্মাণ, ২০.খুলনা পাটকলের আধুনিকায়ন ও পাট রপ্তানীকারকদের সমস্যা সমাধান, ২১.নিউজপ্রিন্ট ও দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরীর স্থানে আধুনিক কাগজকল, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও আইটি পার্ক নির্মাণ, ক্ষুদ্র শিল্প স্থান সম্প্রসারণ, ২২.অগ্রধিকার ভিত্তিতে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অলীয়া মাদ্রাসা ও নতুন করে খুলনার কলেজ ও স্কুল সরকারিকরণ, ২৩.খুলনা জেলা স্টেডিয়াম পূর্ণাঙ্গভাবে তৈরি ও শহীদ আবু নাসের স্টেডিয়ামে দর্শক ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা, ২৪.খুলনার সকল নদী ড্রেজিংকরে সচল করাসহ খুলনাকে ভবিষ্যতে পদ্মাসেতু নির্মাণের পর এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব হিসাবে ভৈরব নদীতে সেতু নির্মাণসহ, ময়ুরী, আত্রাই, আঠারোবাকি ও রূপসা নদীকে ঘিরে প্যাকেজ হিসাবে আধুনিক খুলনা গড়ে তোলার দাবি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উল্লেখ করা হয়, পদ্মা সেতু হলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে যে অভূতপূর্ব পরিবর্তন ঘটবে, তার ফলে এই অঞ্চলে বিনিয়োগও বাড়বে। হতে পারে গার্মেন্টস শিল্পের প্রসার ঘটবে, অথবা অন্যান্য শিল্প। ইতিমধ্যেই খুলনায় বেশ কিছু উদ্যোক্তা টোয়াইন ও স্পিনিং মিল গড়ে তুলেছেন এবং মুনাফাও অর্জন করছেন। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শতভাগ রফতানীমুখী ট্যানারী, সিরামিক কারখানা প্রভৃতি। আরও কয়েক’শ প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার জন্য চেষ্টা করছে। গার্মেন্টস এর প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই আমাদের দেশে উৎপাদিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানও এখন এই অঞ্চলে গড়ে উঠতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী, সাবেক মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক, এমপি, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান, উন্নয়ন কমিটির সভাপতি শেখ মোশাররফ হোসেন, খুলনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো: ফারুক আহমেদ, সহকারি পুলিশ কমিশনার এম এম কামরুল ইসলাম, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এস এ হাবিব, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মল্লিক শুধাংসু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাহিদ হোসেন, মামুন রেজা, উন্নয়ন কমিটির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব এস এম দাউদ আলী, মো: নিজামউর রহমান লালু, শাহিন জামাল পন, মো: ফজলুর রহমান, অধ্যাপক মো: আবুল বাসার, মামনুরা জাকির খুকুমনি, এ্যাড. শেখ হাফিজুর রহমান হাফিজ, মো: মনিরুজ্জামান রহিম, মো: মিজানুর রহমান বাবু, মিনা আজিজুর রহমান, আফজাল হোসেন রাজু, শেখ মোহাম্মদ আলী, মিজানুর রহমান জিয়া, শিক্ষক মো: বদিয়ার রহমান, মো: খলিলুর রহমান, রসু আক্তার, খুলনা কলেজের অধ্যক্ষ শেখ আবুল কালাম আজাদ, আলহাজ্ব অধ্যাপক মো: আযম খান, মোঃ আরজুল ইসলাম আরজু, সরদার রবিউল ইসলাম রবি, এস এম আকতার উদ্দির পান্নু, মো: রকিব উদ্দিন ফারাজী, আলহাজ্ব হোসাইন মো: ইউছা ওয়ায়েজ আররাফী নাজু, অধ্যাপক এ বি এম আদেল (মুকুল), এস এম তানভীর হোসাইন তসলিম, মোঃ জিয়াউর রহমান বাবু সাহেব, এস এম ইকবাল হোসেন বিপ্লব, এ্যাড. মনিরুল ইসলাম পান্না, শিকদার আব্দুল খালেক, মো: ইসমাইল হোসেন, এস এম এ রহিম, মো: জিলহাজ্জ হাওলাদার, কাজী মিরাজ হোসেন প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি