অন্যের টাকা আদায় করতে ভোমরার গরু রাখাল খায়রুলকে আটকে রাখার অভিযোগ


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৮ ||

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: অন্যের পাওনা টাকা আদায়ের লক্ষে বাংলাদেশী গরু রাখাল খায়রুলকে ভারতীয় গরু ব্যবসায়ী মনু মুন্সি কর্তৃক আটকিয়ে ছিকল দিয়ে বেধে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় ভারতীয় ব্যবসায়ীর হাতে অকারণে রাখালকে তুলে দেয়ার অভিযোগে একই এলাকার রাখাল সরদার মীর হোসেনের নামে সদর থানায় ডিজি হলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি পুলিশ। এঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সদর উপজেলার হাড়দ্দাহ দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা আনসার গাজীর ছেলে তরিকুল ইসলাম ভারতের শাকচুর গ্রামের মনু মুন্সির নিকট ১৯ লাখ টাকা দেয় গরু নেয়ার জন্য। বিপুল পরিমান এই টাকা ভারতীয় ব্যবসায়ী হাতিয়ে নিয়ে অন্য ব্যবসায়ীদের নিকট গরু পাঠাতে থাকে সে। বিষয়টি তরিকুল জানার পর স্থানীয়দের সহয়তায় অন্য ব্যবসায়ীদের গরু আটকিয়ে বিক্রয় করে ১৩ লাখ টাকা উদ্ধার কওে তরিকুল। এঘটনায় নানা ষড়যন্ত্র করতে থাকে ভারতীয় ব্যবসায়ী মনু মুন্সি। সে কৌশলে বাংলাদেশ থেকে গরু রাখাল সরদার সদরের হাড়দ্দাহ দক্ষিণ পাড়ার গোলাম হোসেনের ছেলে মীর হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করতে থাকে। মীর হোসেন গত ২৫ ফেব্রুয়ারী তরিকুলের চাচাতো ভাই গরু রাখাল খায়রুলকে ভারত থেকে গরু আনার জন্য বাড়ি থেকে সন্ধ্যায় নিয়ে যায়। হিসাব অনুযায়ী রাত ১টার দিকে অন্য রাখালরা ফিরে আসলেও খায়রুল বাড়িতে না আসায় তার পরিবার মীর হোসেনের সাথে যোগাযোগ করে। কিন্তু মীর হোসেন কোন সদত্তর না দিয়ে খায়রুলের বাবাকে উল্টো মারধর করে। বিষয়টি প্রাথমিকভাবে জানায় স্থানীয় ভোমরা ইউপি চেয়ারম্যান ইসরাইল গাজীকে জানান। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে মিমাংসা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে পুলিশের সহযোগিতা নেয়ার পরামর্শ দেন ভূক্তভোগিদের। অবশেষে ২৬ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা সদর থানায় খায়রুলের মা আমেনা খাতুন বাদী হয়ে রাখাল সরদার মীর হোসেনের নামে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ডায়েরি নং ১৪৯৯। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মারুফ আহম্মদ বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন এসআই নাজমুল হোসেনকে। তিনি তদন্তের নামে গড়ি মশি করছেন এমনটি অভিযোগ খায়রুলের পরিবারের। ফলে এখনও উদ্ধার হয়নি খায়রুল অপরদিকে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে মীর হোসেন। এদিকে খায়রুলের মা আমেনা খাতুন জানান, ছেলে ভারত থেকে তাদের কাছে মোবাইলে জানাচ্ছে যে, ভারতীয় ব্যবসায়ীর টাকা ফেরত না দেয়া পর্যন্ত তাকে ছেড়ে দেবেনা। এমনকি পায়ে মোটা শিকল দিয়ে বেধে রাখার পাশাপাশি ব্যাপক শারিরিক নির্যাতন করা হচ্ছে। থানায় জিডির ঘটনা ভারতীয় ব্যবসায়ী জানার পর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানান তার পরিবার। এব্যাপারে রাতে এসআই নাজমুল হোসেন গনমাধ্যমকে জানান, মীর হোসেন পলাতক রয়েছে। আমি দায়িত্ব প্রাপ্তির পর থেকে তাকে খুজছি। কিন্তু এলাকায় না থাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। মীর হোসেনকে পেলেই খায়রুলকে পাওয়া যাবে এমনটি মনে করছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আজ রাতে আবারো ওই এলাকায় যাবো। দেখা যাক কি হয়।