সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দের সাথে নবাগত জেলা প্রশাসক ইখতেখার হোসেনের মতবিনিময়


প্রকাশিত : মার্চ ৯, ২০১৮ ||

মো. আসাদুজ্জামান সরদার: সাতক্ষীরা জেলার রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ, আইনজীবী ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দের সাথে সদ্য যোগদানকৃত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইখতেখার হোসেন মতবিনিময় করেছেন। বুধবার (৮ মার্চ) বিকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
মুক্ত আলোচনায় বক্তাদের বক্তব্য শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইখতেখার হোসেন বলেন, সমস্যাগুলো খুবে বের করে জেলাবাসীর প্রত্যাশা পূরণে স্বচেষ্ট থাকবে। আমি জানি ভূমি অফিসে এসে সাধারণ মানুষ হয়রানি হয়ে থাকে। আমি নিজেও যেয়ে হয়রানির শিকার হয়েছি। এটি একদিনে সেই হয়রানি বন্ধ করা সম্ভব না। তারপরও আমি চেষ্টা করবো, কালেক্টরেট ভবনে এসে সকলেই কাঙ্খিত সেবা নিয়ে ফিরে যাবে।
কালেক্টরেট ভবনের প্রাচীর ভেঙ্গে চীফ জুডিশিয়াল আদালতের সাথে সরাসরি রাস্তানোর ব্যাপারে একাধিক আইনজীবীর দাবীর পেক্ষিতে তিনি বলেন, আমি এটির বিপক্ষে নই। তারপরও বিষয়টি আমার কোন ব্যাপার নয়। দুটি মন্ত্রণালয় এক সাথে কাজ করলে এই রাস্তা বানানো সম্ভব।
এ সময় মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, আইনজীবী ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দের সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দর ও পর্যটন শিল্প, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, রেল লাইন চালু, রপ্তানিযোগ্য আম, কুল ও চিংড়িসহ বিভিন্ন সম্ভাবনা, বাইপাস সড়ক নির্মাণে অনিয়ম এবং জরাজীর্ণ রাস্তা-ঘাট, যাটজট, হাসপাতালে সুচিকিৎসা না পাওয়া, সুশাসনের অভাবসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এসময় একাধিক নেতৃবৃন্দ মেডিকেল কলেজ এলাকা থেকে ভোমরা সড়কের সাথে বাইপাসের লিংক রোডের দাবী জানান।
এসময় মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু আহমেদ, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর লিয়াকত পারভেজ, প্রফেসর আব্দুল হামিদ, প্রফেসর ওলিউল্লাহ, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী, জেলা জাতীয় পার্টির আশরাফুজ্জামান আশু, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শাহ আলম, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড. ওসমান গনি, জেলা ওয়ার্কর্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক এড. ফাহিমুল হক কিসলু, এড. গাজী লুৎফর রহমান, এড জামাল উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা বিশ্বজিৎ সাধু, জেলা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেবীর সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রাসেল, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু সাইদ, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন, জেলা ন্যাপের সভাপতি হায়দার আলী শান্ত, ভোমরা সিএন্ডএফ এজেস্ট এ্যাসোসিয়শনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম, মন্দির সমিতির বিশ্বনাথ ঘোষ, রনি গ্রুপের সত্তাধিকারী নুর ইসলাম রনি, শিল্পী আবু আফফান রোজ বাবু, জেলা উদিচীর সভাপতি শেখ সিদ্দিকুর রহমান, এড. শাহনেওয়াজ পারভীন মিলি প্রমুখ। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক আব্দুল লতিফ খান।
মুক্ত আলোচনায় বক্তরা বলেন, জেলার শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। শিক্ষরা ক্লাস না দিয়ে কোচিং বাণিজ্যের দিকে বেশি ঝুকে পড়েছে। জেলার সরকারি দুটি বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করিয়ে তাদের মেধাকে নষ্ট করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কোচিং বাণিজ্য ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। বেতনা, কপোতাক্ষ, মরিচ্চাপ ও প্রাণ সায়ের খালের কারণে জেলায় জলাবদ্ধতা বাড়ছে। জলাবদ্ধতা দুর করতে হলে জেলে নদীগুলো খনন প্রয়োজন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ পার্কিয়ের কারণে শহর জুড়ে ঘন্টার পর যানজট লেগে থাকছে। শহরের যানজট কমাতে যে বাইপাস নির্মাণ হচ্ছে। সেটা জেলারবাসীর কোন কাজে আসবে না উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, এই বাইপাস চালু করতে হলে আরও একটি বাইপাস বানানোর প্রয়োজন হবে। একটি পরিবারের জমি বাঁচাতে বাইপাসের মূল নকশাকে পাশ কাটিয়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এনে তোল হয়েছে। এই বাইপাস মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় বিঘœ ঘটবে। মেডিকেল কলেজ এলাকা থেকে ভোমরা সড়কের সাথে বাইপাসের লিংক রোড এবং শহরের সার্কিট হাউজ এলাকা থেকে একাধিক লিংক রোড করার দাবী জানান বক্তরা।
এছাড়া ভোমরা বন্দরকে পুর্ণাঙ্গ বন্দর, ভোমরা বন্দরে দ্রুত ট্রাক টার্মিনাল, সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন শিল্প, সাতক্ষীরায় রেল লাইন চালু, সাহিত্যিকদের জন্য বসার জায়গা করার দাবী করেন বক্তরা। ভূমিদস্যুদের কবল থেকে সরকারি ভূমি উদ্ধার করে ভূমিহীনদের মাঝে বন্ঠন করার দাবী জানান অনেকে। সাধারণ মানুষকে পুলিশি হয়রানির মুক্ত করার দাবী জানান।