পৌর ৪ ও ৯নং ওয়ার্ডের যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত

সাতক্ষীরা পৌরসভার ৪ ও ৯নং ওয়ার্ডের যুবলীগের কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার বিকালে পৌর যুবলীগের সভাপতি মোনায়ার হোসেন অনু ও সাধারণ সম্পাদক তুহিনুর রহমান তুহিন স্বাক্ষরিত একপত্রে উক্ত কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

কলারোয়ার বামনখালীতে পুলিশের বিশেষ জনসভা আজ

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়ার বামনখালী বাজারে বিশেষ জনসভার আয়োজন করেছে থানা পুলিশ। আজ ১৩ মার্চ, মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় কলারোয়া থানাধীন বামনখালী বাজারস্থ কলেজ গেট সংলগ্ন মাঠে ওই জনসভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথ।
তিনি জানান, মাদক, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন রোধকল্পে আইন-শৃংখলা বিষয়ক বিশেষ জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। ওই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদুর রহমান।
জনসভায় সবাবন্ধবে সকল জনসাধারণকে উপস্থিত থাকার আহবান জানিয়েছেন ওসি বিপ্লব কুমার নাথ। যেকোন প্রয়োজনে তাঁর মোবাইল নং ০১৭১৩-৩৭৪১৪২-এ যোগাযোগ করারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

শ্যামনগরে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

শ্যামনগর (সদর) প্রতিনিধি: শ্যামনগরে পানিতে ডুবে ফাতেমা পারভীন (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার সদর উপকন্ঠে ইসমাইলপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শিশুটির পিতা ফারুক কয়াল জানান, দুপুরের দিকে সবাই বাড়ির বাইরে ছিল। এ সময়ে উঠানে খেলার সময় পার্শ্ববর্তী পুকুরে ডুবে সে মারা যায়। খোঁজাখুজির পর পুকুর হতে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডা. রিদওয়ান রাইসুল ইসলাম তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

জেলা প্রশাসকের সাথে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়

আশাশুনি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি: নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেনের সাথে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন আশাশুনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নব-নির্বাচিত নেতৃবৃন্দ। সোমবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন আশাশুনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নব-নির্বাচিত সভাপতি এএসএম মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক গণেশ চন্দ্র বৈদ্য ও কোষাধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম তুষারসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এসময় নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সংগঠনের বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন এবং নব-নির্বাচিত শিক্ষক নেতৃবৃন্দের সাথে পরিচিত হন। অপরদিকে সংগঠনের নব-নির্বাচিত নেতৃবৃন্দ জেলা পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান ও জেলা শিক্ষা অফিসার এসএম আব্দুল্লাহ আল-মামুনের সাথে ফুলের শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেন।
সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়: নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেনের সাথে ফুলের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ। শুভেচ্ছা বিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা খাতুন, সহকারি প্রধান শিক্ষক সমরেশ কুমার দাস, সহকারি শিক্ষক ইয়াহিয়া ইকবাল, শেখ মুস্তাফিজুর রহমান, শেখ মোবাশশেরুর রহমান, মিজানুর রহমান, গাজী মোমীন উদ্দিন, ইকবাল হোসেন, শারমিন সুলতানা, মো. জোবায়ের আলম প্রমুখ। এসময় শিক্ষকবৃন্দ সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট এবং স্কুলের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
ভূমিহীন ঐক্য পরিষদ: জেলা ভূমিহীন ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে নবাগত জেলা প্রশাসক ইফতেখার হোসেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নেতৃবৃন্দ এ শুভেচ্ছা জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন, ভূমিহীন ঐক্য পরিষদের সভাপতি কওছার আলী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ, দেবহাটা কালিগঞ্জ ভূমিহীন উচ্ছেদ প্রতিরোধ সমন্বয় কমিটির সভাপতি মো. ওহাব আলী সরদার, ভূমিহীন উন্নয়ন সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার, শওকত হোসেন, দেবহাটা নোড়ারচক ভূমিহীন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি আব্দুল গফফার, সহ-সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মনিরুজ্জামান টুটুল, দেবহাটা ইউপি সদস্য শহীদুল ইসলাম, শ্যামনগর ভূমিহীন উন্নয়ন সমিতির সভাপতি মোকছেদ আলী, যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান, বাবলু হাসান, নোড়ারচক ভূমিহীন সংগ্রাম কমিটির সদস্য রুহুল আমিন, আব্দুল মালেক, জেলা ভূমিহীন সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আব্দুস সেলিম, ইব্রাহিম হোসেন মধু, নাজমা খাতুন, হাফিজুর রহমান প্রমুখ।

শ্যামনগরে দুটি সরকারি অফিসে দু:সাহসিক চুরি

শ্যামনগর (সদর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলা মৎস্য ও কৃষি অধিদপ্তরে দু:সাহসিক চুরি সংগঠিত হয়েছে। সোমবার ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে চোরের দল দুটি অফিসে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কাগজপত্রাদি তছরুপ করে সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে তথ্য নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্তা ব্যক্তিরা। নৈশ প্রহরী, সিসি ক্যামেরা ও চারিদিকে সুরক্ষিত গ্রীল বেষ্টিত থাকার পরেও এ ধরণের চুরির বিষয়টি রহস্যজনক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ফারুক হোসাইন সাগর ও কৃষি কর্মকর্তা আবুল হোসেন মিয়া জানান, চোরের দল অফিসের ল্যাপটপ ও মোবাইল সেট সহ অন্যান্য মূল্যবান মালামালের কোন ক্ষতি করে নি। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজজামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। ক্যামেরা ফুটেজ দেখে ঘটনা উৎঘাটনের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

শহর ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন: শোভন সভাপতি ও শিমুল সম্পাদক

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শহর শাখা কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং সংগঠনকে আরও গতিশীল করতে আগামী এক বছরের জন্য নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রোববার (১১ মার্চ) জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম রেজা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমান সাদিক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান শহর ছাত্রলীগের অনুমোদিত নতুন কমিটির সভাপতি শেখ মোস্তাফিজুর রহমান (শোভন) ও আরিফুল রহমান (শিমুল) কে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

আদিবাসী জনগোষ্ঠীদের জীবনমান উন্নয়ন করে মূল ¯্রােতধারায় ফিরিয়ে আনাতে এমপি রবির আহ্বান

নিজস্ব প্রতিনিধি: জেলায় বসবাসরত নিপীড়িত অধিকার বঞ্চিত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মৌলিক স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও ভূমি অধিকার সুরক্ষায় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। সোমবার সকালে সদর উপজেলা মিলনায়তনে আদিবাসী বিষয়ক জাতীয় কোয়ালিশন জেলা কমিটির আয়োজনে জাতীয় কোয়ালিশন জেলা কমিটির সভাপতি মরিয়ম মান্নানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। এসময় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ব্যাপক সহায়তা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীদের জীবনমান উন্নয়ন জরুরী। আদিবাসীরা আমাদের সমাজের একটি অংশ। সমাজের পিছিয়ে পড়া আদিবাসী জনগোষ্ঠীদের জীবনমান উন্নয়ন করে মূল ¯্রােতধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে।’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তহমিনা খাতুন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কোহিনুর ইসলাম, জেলা পরিষদ সদস্য মাহফুজা সুলতানা রুবি ও হিউমেন রাইটস প্রোগ্রাম অফিসার দীপঙ্কর সাহা প্রমুখ। আলোচনা সভার কিনোট উপাস্থাপন করেন অপরেশ পাল। জেলার সুন্দরবন উপকুল অঞ্চলের আদিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে এবং মানবাধিকার রক্ষায় ১৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। আলোচনা সভা শেষে আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহুয়া মঞ্জুরী।

জাতির পিতার প্রতি কেন এই অসম্মান?

মিজানুর রহমান
আজ লেখাটা লেখার প্রয়োজন ছিল না। কারণ নির্মম সত্যটা লিখনে অনেকের ঘৃণার পাত্র হতে হয়। তবুও বিবেকের তাড়নায় এই লেখা। এই লেখাটা পড়ে হয়তো অনেকের গাত্রদাহ হবে। তবুও সত্য চিরদিন সত্যই থেকে যায়। শেখ মুজিবুর রহমান তার রাজনৈতিক জীবনে অক্লান্ত পরিশ্রম সৎ ও নিষ্ঠার সাথে দল গঠনের ফলশ্রুতিতে সফলতা পেয়েছিলেন, যে কোন সিদ্ধান্ত থেকে সরে না যাওয়ার কারণে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে তিনি হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেছিলেন এই যৌথ পাকিস্তান বাঙালিদের জন্য হয়নি। বাংলার ভাগ্য নিয়ন্তা বাঙালিদের হতে হবে। তাই ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি প্রিয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ, ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগ গঠন করে একটি জাতিকে স্বাধীনভাবে বাঁচার পথ দেখিয়েছিলেন। বাংলার মেহনতি মানুষের জন্য তার অন্তর কাঁদতো। তিনি সব সময় চিন্তা করতেন একটি শোষণমুক্ত সমৃদ্ধ দেশ। বাংলার মানুষের প্রতি ছিল তার গভীর ভালবাসা ও মমত্ববোধ। সেই ভালবাসা ছিল অকৃত্রিম। তিনি দিনের পর দিন বাংলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ছুটেছেন সংগঠনের জন্য, মানুষের জন্য। তিনি যেখানে যেতেন সেখানকার নেতাদের কর্মকান্ডে আবেগাপ্লুত বক্তৃতার মধ্য দিয়ে মানুষের কাছে বড় করে উর্দ্ধে তুলে ধরতেন। ইউনিয়ন, থানা, জেলা আওয়ামী লীগ নেতাকে কর্মকান্ডের বিচারে যাচাই-বাছাই করে জাতীয় নেতাদের রূপান্তরিত করে তিনি বঙ্গবন্ধু হয়েছিলেন। তার জীবন ও মৃত্যু একই সাথে চলতো। তিনি কোনটাই পরোয়া করতেন না। কঠিন অবস্থায়ও অবিচল ছিলেন তার সিদ্ধান্তে। পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী আগরতলা মামলা করে ফাঁসি দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ৬৯’এর গণ আন্দোলন যখন বাংলার জনগণ তার মুক্তির দাবিতে এক কাতারে দাঁড়িয়েছিল, তখন বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তিনি ঘৃণা ভরে সে প্রস্তাব প্রত্যাখান করে ছিলেন। ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ নির্বাচনে বিজয়, ১৯৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯ এর গণ আন্দোলন, ৭০ এর নির্বাচনে বিজয় লাভ করার পরও যখন পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করছিল তখন বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের বিশাল জনসভায় স্বাধীনতার ডাক দিয়ে বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিলেন। স্বাধীন বাংলার ঘোষণা দিয়ে জাতীয় পতাকা উড়ালেন। এরপর শুরু হলো আরো ষড়যন্ত্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যার জন্য বন্দী করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হলো। বাংলার মানুষকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য ইয়াহিয়া খান গণ হত্যার নির্দেশ দিলেন সেনাবাহিনীকে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ মোতাবেক বাংলার জনগণ অস্ত্র তুলে নিলো হাতে। ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হলো ২ লক্ষ বোন ইজ্জত দিলো। বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। বহু ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হলো। বাংলার জনগণের আন্দোলন ও বৈদেশিক চাপের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ১০ই জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখলেন। বঙ্গবন্ধুকে বাঙালির পিতা উপাধি দেওয়া হলো। পাকিস্তানের কারাগারে তাকে বহু চেষ্টা করা হয়েছে হত্যার জন্য। কিন্তু তিনি একবারও ভীত হননি। তিনি বুঝতেন যে বীজ তিনি বাঙালির অন্তরে বপন করেছেন সেই বাঙালি জাতি তাকে একদিন মুক্ত করে নিয়ে যাবেই।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, বাংলার নয়নের মনি, স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মদাতা বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান কেবলমাত্র একজন ব্যক্তি নন। বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন একটি পতাকা, একটি মানচিত্র, একটি দেশ, একটি আন্দোলন, বাঙালি জাতীয়তার একটি মহাকাব্য। জাতি নির্মাণের কারিগর, একটি ইতিহাস, বাঙালি জাতির ধ্রুবতারা; জাতির উত্থান জনগণের বন্ধু, রাষ্ট্রের পিতা, স্বাধীনতার প্রতীক, ইতিহাসের মহানায়ক, বাঙালি জাতির পিতা। জাতির পিতা ও ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে দেশের মানুষের জন্য স্বাধীন বাংলাদেশের পথভ্রষ্ট বাঙালিদের হাতে স্বপরিবারে জীবন দিয়েছেন। তবুও তিনি বাঙালি জাতির পিতা।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কোন দলের নন, কোন প্রতিষ্ঠানের নন, কোন ব্যক্তির একক ব্যক্তি নন। তিনি সমগ্র বাঙালি জাতির পিতা। বাংলাদেশের সকল বাঙালিকে, সকল রাজনৈতিক দলকে সকল প্রতিষ্ঠানের কর্ণধরকে জাতির পিতার সম্মান অক্ষুণœ রাখতে হবে। তার যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে। যে নিজেকে বাঙালি দাবি করবে তাকে তার জাতির পিতাকে মানতে হবে। কারণ তার নেতৃত্বের কারণে তার ডাকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে স্বাধীন দেশে বসবাস করছি, রাজনীতি করছি, জনগণের মঙ্গল করার ব্রত নিয়ে বিভিন্ন দল গঠন করে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি।
বড় দু:খের বিষয় আমরা জাতির পিতাকে কতটুকু সম্মান দিচ্ছি? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির পিতা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বিদেশের (খুব সম্ভবত স্পেনে) বিমান বন্দরে যখন নিজের পাসপোর্ট জমা দিয়েছিলেন, তখন সেই বিমান বন্দরের কর্মকর্তা শেখ হাসিনাকে না চিনে বলেছিল তোমরা বাঙালির কেমন জাতি? তোমরা তোমাদের জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যা করেছো? তোমরা ঘৃণিত জাতি। যেদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোন উত্তর দিতে পারেন নি। বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় দেখি কাগজে পোস্টারে, ব্যানার, হ্যান্ডবিল এর উপরে জাতির পিতার ছবি ছোট করে দিয়ে, সাথে জননেত্রী দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি একটু বড় করে তার পার্শ্বে জয় এর ছবি দিয়ে এই বার যে ব্যক্তি পোস্টার ছাপালেন তার ছবি বিশাল করে দেওয়া হয়। ঐ পোস্টার ব্যানারগুলো বিভিন্ন দেওয়ালে, দড়িতে টাঙিয়ে জানানো হয় আমি আওয়ামী লীগ করি। জাতির পিতা কোন দলের সম্পদ নয়। পৃথিবীর কোন দেশে জাতির পিতার পাশে কোন ব্যক্তির ছবি সংযোজন করা যায় কিনা আমি জানি না। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধির ছবি ছাপাতে গেলে রাষ্ট্রের অনুমতি লাগে। অন্যথায় ছাপানো যায় না।
আমাদের জাতির পিতার ছবি যত্রতত্র ছাপানো হচ্ছে। ঐ সমস্ত পোস্টারগুলো দু’এক দিনের মধ্যে প্রাকৃতিক কারণে খুলে মাটিতে পড়ে যায়। টোকাইরা খুলে নিয়ে যায়। যেগুলো নষ্ট হয় লোকে পা দিয়ে মাড়ায় অথবা ঝাড়–দার এক সাথে করে ডাস্টবিনে ফেলে দিচ্ছে। হ্যান্ডবিলগুলো রাস্তায় পড়ে থাকে। জনগণ সেই ডাস্টবিনে জাতির পিতার ছবি সম্বলিত পোস্টারে প্রসাব করছে, কেউ বাড়ির নোংরা আর্বজনা দিয়ে পোস্টারগুলো ঢেকে দিচ্ছে। কেউ বা ব্যানার পোস্টার আগুন দিয়ে পোড়াচ্ছে। জাতির পিতার ছবি থাকবে প্রতিটি দপ্তরে, প্রতিটি বাঙালির ঘরে, প্রতিটি অফিসে। জাতির পিতার ছবি ছাপায়ে আমরা কেন তার ছবিবে এভাবে অবমাননা করছি। জাতির পিতার ছবির সাথে আর কারও ছবি সংযোগ করা যায় বলে আমার জানা নেই। তাই সকল বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল, সংগঠন, ব্যক্তিদের কাছে বিনীত অনুরোধ জাতির ছবি পোস্টারে ছাপাবেন না বা জাতির পিতার ছবির সাথে কারো ছবি সংযোগ করবেন না। তা তিনি যত বড়ই নেতা বা নেত্রী হন না কেন। আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তিনি জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দিবসে প্রথমে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মান্যদান করেন, তারপর দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, তারপর দলীয় প্রধান হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদন করে মাল্য দান করেন। যেখানে আওয়ামী লীগের প্রধান বঙ্গবন্ধুর কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সমগ্র পৃথিবীর বড় বড় নেতা, নেত্রীরা, রাষ্ট্র প্রধানরা আমাদের জাতির পিতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তার দেওয়া ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ বিশ্বের সেরা ভাষণের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। সেই জাতির পিতার প্রতি আমাদের কেন এত অশ্রদ্ধা। পৃথিবীর সব দেশের জাতির পিতার ছবি সর্বত্র ব্যবহার করা যায় না, তাই সকলকে অনুরোধ যদি সম্ভব হয় আওয়ামী লীগের প্রধানদের সাথে আলোচনা করে দেখুন জাতির পিতার ছবি পোস্টার, হ্যান্ডবিল, ব্যানার থেকে বাদ দিয়ে দলীয় সভানেত্রীর বা অন্যকারে ছবি সংযুক্ত করে পোস্টার হ্যান্ডবিল ব্যানার তৈরী করে ব্যবহার করলে কোন ক্ষতি হবে কি না? জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো প্রতিটি বাঙালির কর্তব্য বলে আমার মনে হয়। ভুল ক্রটি ক্ষমা করে দেবেন। মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান, ভারতীয় তালিকা নং- ৪৫৩৩২, সাতক্ষীরা জেলা

বিধ্বস্ত বিমানে গাজীপুরের একই পরিবারের পাঁচজন

ন্যাশনাল ডেস্ক: ফারুক আহমেদ প্রিয়ক, তার স্ত্রী আলমুন নাহার অ্যানি ও তাদের সন্তান তামাররা প্রিয়কনেপালে বিধ্বস্ত ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স বিমানের যাত্রীদের মধ্যে গাজীপুরের নগরহাওলা গ্রামের একই পরিবারের পাঁচ সদস্য ছিলেন। বিমানে থাকা ফারুক আহমেদ প্রিয়কের (৩২) মা ফিরোজা বেগম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে দুর্ঘটনার পর এদের অবস্থার বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।
ওই বিমানে থাকা একই পরিবারের পাঁচজন হলেন, উপজেলার নগরহাওলা গ্রামের মৃত শরাফত আলীর ছেলে ফারুক আহমেদ প্রিয়ক (৩২), তার স্ত্রী আলমুন নাহার অ্যানি (২৫), তাদের একমাত্র সন্তান তামাররা প্রিয়ক (৩), নগরহাওলা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান মাসুম (৩৩) ও তার স্ত্রী সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা আক্তার (২৫)।
ফারুক পেশায় একজন ফটোগ্রাফার। আর মেহেদী হাসান পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। ফারুক ও মেহেদী হাসান সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো ভাই।
নেপালে ভ্রমণে যাওয়ার সময় ফেসবুকে দেওয়া ছবি
ফারুকের মা ফিরোজা বেগম বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর একমাত্র শিশুকন্যা তামাররাকে ছাড়া পরিবারের সবাইকে টিভিতে দেখতে পেয়েছি। তারা সবাই ভ্রমণের উদ্দেশে নেপাল যাচ্ছিলেন।
প্রসঙ্গত, সোমবার (১২ মার্চ) নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ইউএস-বাংলার একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। বিমানের ৫০ আরোহীর প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে নেপালের সেনাসূত্র। ৯ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে তারা। নেপাল টাইমস-এর খবরে বলা হয়েছে, ৭৮ জনকে ধারণে সক্ষম ওই বিমানে চার ক্রু ও ৬৭ যাত্রী মিলে ৭১ জন আরোহী ছিল। বিমানের ৩২ আরোহী বাংলাদেশি এবং ৩৩ জন নেপালি।

অবতরণের আগে কন্ট্রোল রুম থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছিল: ইউএস বাংলার সিইও

ডেস্ক রিপোর্ট: বিধ্বস্ত হওয়া বিমানের ব্ল্যাক বক্সনেপালের ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কন্ট্রোল রুম থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার কারণেই ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহের কথা জানিয়েছেন ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আফিফ। তিনি দাবি করেন, এ দুর্ঘটনায় বিমানের পাইলটের কোনও গাফিলতি ছিল না।
সোমবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় বারিধারায় ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করতে গিয়ে ইমরান আফিফ এসব কথা বলেন।
ব্রিফিংয়ে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের সিইও বলেন, আমাদের ফ্লাইটটি অবতরণ করার আগের তিন মিনিটের একটি কথোপকথন আমাদের হাতে এসেছে। ফ্লাইটের পাইলটের সঙ্গে কন্ট্রোল রুমের যে কথা হয়, তা রয়েছে ওই কথোপকথনে। এটা থেকে আমরা ধারণা করছি, দুর্ঘটনায় আমাদের পাইলটের দিক থেকে কোনও গাফিলতি ছিল না।
সিইও ইমরান আফিফ আরও বলেন, ‘ফ্লাইট অবতরণের আগে কাঠমান্ডুর কন্ট্রোল রুম থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছে। কোন রানওয়ে দিয়ে অবতরণ করতে হবে, সে সম্পর্কে ওই তিন মিনিটের কথোপকথনে বিভিন্ন ধরনের তথ্য দেওয়া হয়েছে। অবতরণের তথ্য সঠিকভাবে না দেওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।’
ইউএস বাংলার সিইও আরও বলেন, দুর্ঘটনায় আহত ১৬ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।
উল্লেখ্য, ৭১ জন যাত্রী নিয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে পৌঁছায়। অবতরণের সময় বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। এরপর বিমানবন্দরের কাছেই একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয় এটি। নেপাল টাইমস-এর খবরে বলা হয়েছে, ৭৮ জনকে ধারণে সক্ষম ওই বিমানে যাত্রীদের পাশাপাশি ৪ ক্রু ও ৬৭ যাত্রী মিলে ৭১ জন আরোহী ছিলেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন এ দুর্ঘটনায়। তবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৪১ জন নিহতের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পাইলট আবিদ আহত, সহকারী পাইলট প্রিথিলা নিহত

নেপালের ত্রিভুবন বিমান বন্দরের কাছে দুর্ঘটনার শিকার ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সহকারী পাইলট প্রিথিলা রশিদ নিহত হয়েছেন।

বেলা ১২টা ৫১মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৬৭জন যাত্রী নিয়ে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বিমানটি দুপুর ২টা ২০মিনিটে বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্তের পর নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে নেপালের সেনাবাহিনী।

রাজধানীর বারিধারায় ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান কার্যালয় থেকে জানানো হয়, নেপালের কাঠমুন্ডু এয়ারপোর্টের কাছাকাছি বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানটির ফ্লাইট নম্বর ছিল BS-211 ঘটনা তদন্তে সিভিল অ্যাভিয়েশনের কমিশন গঠন করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে নেপালের ত্রিভুবন এয়ারপোর্টের কাছে দুর্ঘটনার শিকার ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের যাত্রীদের মৃতদেহের ছবি প্রকাশ করতে শুরু করেছে নেপালি গণমাধ্যম।

চার যুক্তিতে খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট

 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় কারাগারে আটক বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চার যুক্তিতে চার মাসের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

আদেশের সময় আদালত বলেন, আমরা উভয়পক্ষকে শুনেছি। এখন আদেশ দিচ্ছি। চার বিষয় বিবেচনা করে এই আদেশ দেওয়া হচ্ছে। এক. সাজার পরিমাণ বিবেচনা (অর্থাৎ বিচারিক আদালতে তাকে যে স্বল্প মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়েছে, তা বিবেচনা)। দুই. মামলাটির বিচারিক আদালতের নথি এসেছে এবং এটি আপিল শুনানির জন্য পেপার বুক তৈরি হয়নি। তিন. বিচারিক আদালতে মামলা চলাকালে তিনি নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়েছেন, তিনি জামিনে ছিলেন এবং জামিনের অপব্যবহার করেননি এবং চার. তার বয়স এবং শারীরিক অসুস্থতার বিষয় বিবেচনা করা হলো।

একইসঙ্গে আদালত তার আদেশে আগামী চার মাসের মধ্যে মামলার আপিল শুনানির জন্য পেপার বুক প্রস্তুত করতে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেন। এই পেপার বুক তৈরি হলে উভয়পক্ষের আইনজীবীরা আপিল শুনানির জন্য আসতে পারবেন বলেও আদেশ দেন আদালত।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান।। রায় ঘোষণার পরপরই তাকে ওই দিন বিকালে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন তার আইনজীবীরা। ২০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে এই মামলার আপিল আবেদনে ৪৪টি যুক্তি তুলে ধরেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। আদালত শুনানি শেষে ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে মামলার নথি তলব করেন। নিম্ন আদালত থেকে সেই নথি ১১ মার্চ রবিবার দুপুরের পর উচ্চ আদালতে এসে পৌঁছায়। তবে এদিনই জামিন বিষয়ে আদেশ ঘোষণার পূর্ব নির্ধারিত তারিখ নির্ধারিত ছিল আদালতের। এদিন সকালে আদালত যথারীতি বসলেও নথি পর্যালোচনার জন্য আদেশ ঘোষণা আরও একদিন পিছিয়ে আজ সোমবারের তারিখ নির্ধারিত করেন। সে অনুযায়ী আজ দুপুরে আদালত এ আদেশ ঘোষণা করেন।

ইউএস বাংলার বিমান বিধ্বস্তে নিহত অন্তত ৫০, নিখোঁজ ৯

বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানের ৫০ আরোহীর প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে নেপালের সেনাসূত্র। ৯ জনের নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে তারা। ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিএস-২১১ মডেলের ফ্লাইটটি বিধ্বস্ত হয়। নেপাল টাইমস-এর খবরে বলা হয়েছে, ৭৮ জনকে ধারণে সক্ষম ওই বিমানে ৪ জন ক্রু ও ৬৭ যাত্রী মিলে ৭১ জন আরোহী ছিলেন। বিমানের ৩২ আরোহী বাংলাদেশি এবং ৩৩ জন নেপালি।

ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে পৌঁছায় বিমানটি। অবতরণের সময় বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। এরপর বিমানবন্দরের কাছেই একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয় এটি। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, যাত্রীদের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ , ২৭ জন নারী ও দুইজন শিশু। ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও নেপাল সেনাবাহিনী উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। ত্রিভুবন বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রেমনাথ ঠাকুর জানান, ২৫ জনকে কাঠমান্ডু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ৭ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নেপালের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র গোকুল ভান্ডারি রয়টার্সকে বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ৫০টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছি। জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ থেকে কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।’ ওই সেনা মুখপাত্র জানান, নয়জনের এখনও কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা নিজেরাও এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি কী ঘটেছিল। আমাদের স্টেশন ম্যানেজারও দেশে রয়েছে। বিস্তারিত জেনে আমরা জানাতে পারবো।’

নেপালের বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পরিচালক সঞ্জীব গৌতম বলেন, রানওয়েতে অবতরণের সময় বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এটা দক্ষিণ দিকে নামার কথা থাকলেও উত্তর দিক দিয়ে নামে। তিনি বলেন, ‘কারিগরি ত্রুটির কারণে এমনটা হয়ে থাকতে পারে। আমরা বিধ্বস্ত হওয়ার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’

আর্নিকো পান্ডে নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী নেপালের সংবাদমাধ্যম মাই রিপাবলিকাকে বলেছেন, রানওয়েতে বাঁক নেওয়ার সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। তিনি বলেন, আমি সংযোগ সড়কে ছিলাম। দেখলাম বিমানটি টার্মিনালকে পেছনে ফেলে দক্ষিণ দিকে দ্রুত বাঁক নিলো। এরপরই রানওয়ে থেকে তা অদৃশ্য হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে বিশালাকার ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। তিনি জানান, খুব নিচে দিয়ে কন্ট্রোল টাওয়ারের ওপর দিয়ে বিমানটিকে উড়তে দেখেছিলেন।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মহাব্যবস্থাপক রাজকুমার চেত্রিকে উদ্ধৃত করে নেপালি সংবাদমাধ্যম মাই রিপাবলিকা জানিয়েছে, বিমানটির ৫০ জনেরও বেশি আরোহী নিহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজকুমার বলেন, ‘আমরা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছি। বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি আমরা। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর ত্রিভুবন বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক: সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিধি মেনে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে

পত্রদূত ডেস্ক: শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে কোনো ধরনের অসাধু উপায় অবলম্বন করা হয়নি। এই নিয়োগে আইনগত কোনো বিধিনিষেধ নেই। এমনকি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর প্রধান শিক্ষক নিয়োগে কোনো ধরনের আপত্তিও তোলেনি।

সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা বলেন সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আজিজুর রহমান। তিনি বলেন সরকারি বিধি মেনেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। আজ মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় শ্যামনগর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এই নিয়োগ পরিক্ষার দিন ও সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে মহাপরিচালকের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাই উপস্থিত থাকবেন।

মো. আজিজুর রহমান বলেন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রশ্নে বিদ্যালয়ের অভিভাবক ক্যাটেগরির সদস্য এসএম রবিউল ইসলাম একবার ধুয়া তোলেন যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নিয়োগে বিলম্ব করা হচ্ছে। কিছুদিন পর তিনি আবার ভোল পাল্টে বলেন নিয়োগ প্রক্রিয়া অবৈধ। সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার নিয়োগের পক্ষে মতামত প্রদান করেছেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন এ ব্যাপারে কোনো বাধানিষেধ নেই। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরও বলেন কমিটির সদস্য রবিউল ইসলাম আদালতে একটি মামলা ঠুকে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিজ্ঞ আদালত নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন নি। তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরে অভিযোগ করেছিলেন । সেখান থেকেও নিয়োগ বন্ধের নির্দেশ আসেনি। এমনকি যশোর শিক্ষাবোর্ডও এ ব্যাপারে অনুকূল অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন এই নিয়োগ তড়িঘড়ি করে হচ্ছে না। সব বিধি মেনেই নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান। তিনি আরও বলেন ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ ১৮ মে পর্যন্ত রয়েছে। আবেদনকারী দুই শিক্ষক দুলাল কৃষ্ণ মিস্ত্রি ও আরিফা এদিব চৌধুরীর কাছে ডাকযোগে প্রবেশপত্র পৌছালেও তারা ইচ্ছা করেই গ্রহণ করেন নি। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডাকবিভাগের পিয়ন। তিনি আরও বলেন কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের কোনো অসাধু ইচ্ছা নিয়োগ বোর্ড ও ম্যানেজিং কমিটির নেই। এ ব্যাপারে রবিউল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে যা বলেছেন সবই মিথ্যা ও বানোয়াট। সংবাদ সম্মেলনে আজিজুর রহমান আরও বলেন জেলা প্রশাসক বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য জেলা শিক্ষা অফিসারের ওপর দায়িত্ব দিয়েছেন। অথচ জেলা শিক্ষা অফিসার নিয়োগের ব্যাপারে ইতিবাচক নির্দেশ দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির ১১ সদস্যের ১০ জনই নিয়োগের পক্ষে। কেবলমাত্র রবিউল ইসলামই তারা ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের জন্য পানি ঘোলা করছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রধান শিক্ষক নিয়োগে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দেবহাটায় মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা

দেবহাটায় বুরো: দেবহাটায় মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল ১০ টায় উপজেলা পরিষদ হল রুমে প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাফিজ আল আসাদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও নওয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুজিবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, যুগ্ন-সম্পাদক আনারুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন রতন, দেবহাটা থানার ইনচার্জ অফিসার কাজী কামাল হোসেন, সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবুবকর গাজী, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল ওহাব, পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, কুলিয়া ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিকাশ সরকার, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন্নাহার, বিজিবি সুবেদার নজরুল ইসলাম, আনসার ভিডিপি’র নার্গিস প্রমুখ। সভায় উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি রতন হত্যা চেষ্টায় তীব্র নিন্দা জানান এবং আব্দুল আজিজকে পাটি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত জানান।