কেশবপুরে দুই সাংবাদিকসহ ৬ জনের নামে মানহানির মামলা


প্রকাশিত : মার্চ ১৫, ২০১৮ ||

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: বিভিন্ন জালজালিয়াতির সাথে জড়িত, জিনের বাদশা খ্যাত, কেশবপুর মহিলা কলেজ থেকে বরখাস্তকৃত শিক্ষক ও জমি জালিয়াতি চক্রের সক্রিয় সদস্য রাজ্জাকের বিরুদ্ধে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী ও সিনিয়র সহ-সভাপতি এমএ রহমানসহ ৬ জনের নামে যশোর আদালতে একটি মানহানি মামলা করেছেন। এ মামলায় কেশবপুরের বহুল আলোচিত জঙ্গি আসাদুজ্জামান (বর্তমানে জেলখানায়) এর ভাই আশরাফুজ্জামানসহ ৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
সুত্রে জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার আলতাপোল গ্রামের মৃত আনসার আলীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাক, জিনের বাদশা সেজে কেশবপুর পৌরসভার সাবেক মহিলা কাউন্সিলর শাহিদা বেগমসহ বিভিন্ন এলাকার সহজ সরল মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়া রাজ্জাক কেশবপুর হাজী মোতালেব মহিলা কলেজ থেকে প্রায় ৪ বছর ধরে টাকা আত্মসাতের দায়ে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছে। উক্ত রাজ্জাক জালজালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে দু’টি প্রতিষ্ঠানে চাকরি ও বেতন উত্তোলন, সাংবাদিক না হয়েও বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করছিলেন, যার বিভিন্ন প্রমাণ আছে।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৮ দৈনিক পত্রদূত পত্রিকায় ‘কেশবপুরে জমি জালজালিয়াতির হোতা ওয়াকফ মশিয়ার এখন জেলে’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়, এতে ওয়াকফ মশিয়ারের সহযোগী হিসেবে উক্ত বরখাস্তকৃত শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাকের নাম আসে। এ ঘটনায় রাজ্জাক ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১১ মার্চ ১৮ তারিখ কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দৈনিক জনতা পত্রিকার কেশবপুর প্রতিনিধি রুস্তম আলী ও ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি দৈনিক আমাদের সময় ও দৈনিক পত্রদূত পত্রিকার কেশবপুর প্রতিনিধি এম রহমান, ওয়াকফ মশিয়ারের মামলার বাদী আয়ুব আলী খাঁন, হাফিজুর রহমান বাবু, আব্দুল লতিফ মোড়ল ও তপন কুমার সাহার নাম উল্লেখ করে যশোর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে একটি মানহানী মামলা করেন। যার নং-সিআর ৭৩/১৮। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য কেশবপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
এদিকে সাংবাদিকের নামে মিথ্যা মানহানী মামলা করায় কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সভাপতি, দৈনিক আমাদের সময়ের স্টাফ রিপোর্টার (যশোর জেলা) এ এইচ.এম. কামরুজ্জামান হোসেনসহ ক্লাবের সকল সদস্যবৃন্দ ও কেশবপুরে কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকার সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং জাল জালিয়াতি চক্রের অন্যতম সদস্য মহিলা কলেজ থেকে দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত, জিনের বাদশা নামে পরিচিত আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য থানা পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।