কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর কৃষাণ মজদুর স্কুলে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালন না করায় বিক্ষোভ


প্রকাশিত : March 18, 2018 ||

কৃষ্ণনগর (কালিগঞ্জ) প্রতিনিধি: কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর কৃষাণ মজদুর ইউনাইটেড একাডেমি মাধ্যামিক বিদ্যালয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠান পালন করেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় স্থানীয় ছাত্রলীগ, প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ কিছু ব্যক্তি প্রধান শিক্ষক বিনয় কৃষ্ণ ঘোষসহ সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
জানা যায়, ১৭ মার্চ মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস-২০১৮ যথাযথ ভাবে পালনের জন্য সরকারি নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এর প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কেক কাটা, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু এর ব্যতিক্রম ছিল উপজেলার কৃষ্ণনগর কিষাণ মজদুর ইউনাইটেড একাডেমি। জাতীয় দিবসটি সেখানে যথাযথভাবে পালন করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে অন্যান্য শিক্ষকমন্ডলী স্কুলে এসে অল্পসময় পর জাতীয় পতাকা নামিয়ে স্কুল বন্ধ করে চলে যান। এদিকে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস পালন না করার বিষয়টি জানতে পেরে প্রধান শিক্ষক বিনয়কৃষ্ণ ঘোষ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সোহরাব হোসেন বিশ^াসের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগসহ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তি বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করে। এক পর্যায়ে তারা স্কুলের বারান্দার গ্রীলে তালা মারে। ঘন্টাখানেক পর কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান কেএম মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে ইউপি সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় যুবলীগ ও কৃষকলীগের নেতৃবৃন্দ সম্মিলিতভাবে তালা ভেঙে ফেলেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কিষাণ মজদুর ইউনাইটেড একাডেমি’র প্রধান শিক্ষক বিনয় কুমার ঘোষ বলেন, আমি শারীরিক অসুস্থতার কারণে স্কুলে যেতে পারিনি। তবে অনুষ্ঠান হয়েছে। কী অনুষ্ঠান হয়েছে জানতে চাইলে তিনি স্কুলের শরীরচর্চা শিক্ষক দেবদাস কুমার মন্ডলের সাথে কথা বলতে বলেন।
জানতে চাইলে দেবদাস কুমার মন্ডল বলেন, স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি কম ছিল। প্রধান শিক্ষক অসুস্থ থাকায় তিনি স্কুলে আসতে পারেননি। বেলা ১টা পর্যন্ত আমরা ছিলাম। ব্যানার তৈরী করা হয়নি বা মাইক বাজিয়ে অনুষ্ঠান করতে পারিনি কিন্তু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতা ও ক্রিকেট খেলা হয়েছে। এলাকার কিছু ব্যক্তি দুপুরের পর স্কুলে এসে মিষ্টি খেতে চায়। মিষ্টি দিতে না পারায় তারা অযথা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং স্কুলে তালা মারে।
ইউপি চেয়ারম্যান কেএম মোশাররফ হোসেন বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে তালা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। যথাযোগ্য মর্যাদায় বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালন না হয়ে থাকলে যে কেউ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিতে পারেন, মিছিল দিতে পারেন। কিন্তু স্কুলে তালা ঝুলানোটা অযৌক্তিক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকতে পারে না। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বাঁধাগ্রস্থ হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।