কেশবপুরে পুত্রবধুকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ


প্রকাশিত : মার্চ ১৮, ২০১৮ ||

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: কেশবপুরের ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামে মেয়ের প্রেমকাহিনী ফাঁস করায় পুত্রবধুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে শ্বশুর-শাশুড়ি। থানা পলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার ১নং ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামের আফসার মোল্যার ছেলে পলাশ রহমান ৬ মাস আগে পিতা-মাতার অমতে পাশ্ববর্তী কলারোয়া উপজেলার খেত্রপাড়া গ্রামের জাকির সরদারের মেয়ে সানজিদা থাতুন অনতুকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর শ্বশুর-শাশুড়ী তাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে না পারায় অনতুর সাথে তাদের প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ, মারধর এমনকি মাঝেমধ্যে মেরে ফেলারও হুমকি দিত। গত ১৫মার্চ অনতু তার ননদের কাছ থেকে পড়ার জন্য একটি বই চেয়ে নেয়। বইতে একটি মোবাইল নম্বর পেয়ে ফোন দেয়। ফোনে জানতে পারে ননদের প্রেমিকের নাম পরিচয়। নিহত অনতু ঘটনাটি প্রতিবেশীদের কাছে ফাঁস করে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে শনিবার তার শ্বশুর-শাশুড়ী ও ননদ তাকে ঘরের মধ্যে আটকিয়ে মারধর করে। এক পর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। প্রতিবেশিদের ধারনা, মৃত্যু নিশ্চিত বুঝতে পেরে শ্বশুর-শাশুড়ি ননদমিলে গলায় শাড়ী পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সাথে অনতুকে ঝুলিয়ে দেয়। পরে তারা হত্যার ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে আত্মহত্যার প্রচার চালায় এবং থানা পুলিশকে অবহিত না করে তড়িঘড়ি এলাকার হাতুড়ে ডাক্তার শফিকে ডেকে অনতুর লাশ নামিয়ে উপস্থিত লোকজনের সামনে চিকিৎসার নামে নাটক করে। ইতোপুর্বে ঐ হাতুড়ে ডাক্তারের হাতে উপজেলার বরনডালী গ্রামের মাঝেরপাড়ার মতিয়ারের স্ত্রী মারা যায়। গ্রামবাসির দেয়া সংবাদ পেয়ে কেশবপুর থানার এসআই দিপক ও এসআই রাকিব দুপুরে অনতুর লাশ উদ্ধার করে। এ সময় নিহত অনতুর হাতেলেখা একটি চিরকুটও উদ্ধার হয়। চিরকুটে তার মৃত্যুর জন্য শ্বশুর-শাশুড়ীকে দায়ী করেছে অনতু। এঘটনায় কেশবপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলে কেশবপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ মো. শাহাজাহান আহম্মেদ জানান।