শ্যামনগরে গৃহবধুকে গাছে বেধে নির্যাতন, গ্রেপ্তার দুই নারী, ইউপি সদস্য মামলায় বাদ


প্রকাশিত : মার্চ ১৮, ২০১৮ ||

নুরনগর/ শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার হাজীপুর গ্রামের দুই সন্তানের জননী গৃহবধু মাহফুজা খাতুনকে (৩০) গাছের সাথে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে। সদ্য তালাকদাতা স্বামী অহিদুল্লাহ গাজীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকেরা এমন কান্ড ঘটিয়েছে। গত ১৭ মার্চ দুপুরের দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের আড়ংগাছা গ্রামে লোমহর্ষক ঐ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে সংকটাপন্ন অবস্থায় আহত গৃহবধুকে উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করে। এসময় অন্যরা পালিয়ে গেলেও পুলিশ মাসুমা ও মর্জিনা নামের নির্যাতনকারী দুই নারীকে গ্রেপ্তার করে। এঘটনায় নির্যাতিত গৃহবধুর ছোট ভাই লাভলুর রহমান বাদি হয়ে অভিযুক্ত স্বামীসহ সাত জনকে আসামী করে মামলা করেছে। তাপশিয়া এবং তন্নী নামের ১২ এবং ৮ বছর বয়সী তার দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। এদিকে গৃহবধু মাহফুজার উপর এমন বর্বরতার নির্দেশদাতা স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুম বিল্লাহ সুজনকে আসামী না করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নির্যাতনের শিকার গৃহবধুর ভাই বাবলুর রহমান জানায় পারিবারিক কলহের জেরে গত এক মাস আগে বোন মাহফুজা খাতুনকে তার স্বামী অহিদুল্লাহ গাজী তালাক দেয়। কিন্তু শুধুমাত্র একটি তালাকনামা ছাড়া দেনমোহরের টাকাসহ প্রয়োজনীয় অপরাপর কাগজপত্র দেয়নি অহিদুল্লাহ গাজী।
তিনি আরও বলেন এক পর্যায়ে তার ছোট মেয়ে পিতাকে দেখতে বায়না ধরায় মাহফুজা খাতুন দুই সন্তানকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে যায়। এসময় সেখানে মাহফুজাসহ তার সন্তানদের উপস্থিত হওয়ার ক্রোধে দুই ননদ ও স্বামী রাগান্বিত হয়ে মারতে উদ্যত হয়। এসময় মাহফুজা দুই সন্তানকে নিয়ে স্বামীর ঘরের মধ্যে ঢুকে দরজা আটকে দিয়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করলে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন ঘরের দরজা ভেঙে মাহফুজাকে উঠানের সছেদা গাছের সাথে বেঁধে ফেলে। এক পর্যায়ে তার স্বামী অহিদুল্লাহ গাজী, দুই ননদ মাসুমা, মর্জিনা, ননদ দুই জনের স্বামী জোমাত আলী, আব্দুল মজিদ ও দেবর মহিবুল্লাহ ব্যাপক মারপিট করে।
বাবলুর রহমান আরও অভিযোগ করেন বলেন স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির ঐ লোকজন তার বোনের হাত পা বেঁধে পরে লোহার রড এবং তাল গাছের বেগো দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। এসময় স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তারা পুলিশের সহায়তা নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে মুমুর্ষূ অবস্থায় তার বোনকে উদ্ধার করে।
বাবলুর রহমানসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানায় অহিদুল্লাহ গাজী সম্প্রতি তার বোনকে একাধিকবার মারধর করায় তারা বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুম বিল্লাহ সুজনকে জানায়। কিন্তু সুজন তিন তিন বার থানায় ডেকে অহিদল্লাহ গাজীর সতর্ক করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বার বার কালক্ষেপন করতে থাকে। এক পর্যায়ে তার বোন গত শনিবার শ্বশুর বাড়িতে হাজির হলে মুলত ঐ ইউপি সদস্যের ইন্ধনে তার বোনের উপর এমন বর্বরতা চালান হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছে ঐ ইউপি সদস্য সরকার দলীয় রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকার দরুন তাকে বাইরে রেখে নির্যাতিত গৃহবধুর পরিবার মামলা করতে বাধ্য হয়েছে। তারা যথাযথ তদন্তপুবর্ক ঐ নির্মমতার সাথে জড়িত সকলকে মামলার আসামী করে দৃষ্টান্ত স্থাপনের দাবি জানান।
এদিকে এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রধান অভিযুক্ত অহিদুল্লাহ গাজী সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কোন কথা বলতে অস্বীকৃতি জানায়। পুলিশের উপ পরিদর্শক লিয়াকত আলী জানিয়েছে ঐ ঘটনায় মামলা দায়ের ছাড়াও দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।