সুন্দরবনের দত্তা নদীতে বন্দুকযুদ্ধ! আশাশুনি শ্যামনগর ও কয়রার ৪ জনকে অস্ত্রসহ আটক করেছে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ


প্রকাশিত : মার্চ ২৪, ২০১৮ ||

 

পত্রদূত রিপোর্ট: সুন্দরবনের ভারতীয় অংশ থেকে চারজনকে আটক করেছে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ। দেশটির পুলিশের দাবি, ওই চারজন জলদস্যু এবং এরা বাংলাদেশের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার ভোরে ভারত ভূখন্ডের সুন্দরবনের পীরখালি ৪ নম্বর জঙ্গল থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ওই চারজন ‘বাংলাদেশি জলদস্যুকে’ আটক করেছে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ভারত ভূখন্ডের সুন্দরবনের গোসাবা থেকে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সুন্দরবনের কোস্টাল থানার পুলিশ, গোসাবা থানার পুলিশ এবং বারুইপুর থানার স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ যৌথভাবে অভিযান চালায়। সুন্দরবনের দত্তা নদীতে বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে অভিযান শুরু হয়। একটি লঞ্চ ও একটি স্পিডবোটে করে এ অভিযান চালানো হয়। জলদস্যুরা একটি যন্ত্রচালিত নৌকায় করে ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছিল। তারা সংখ্যায় মোট ৮ থেকে ১০ জন ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় ‘জলদস্যুরা’ পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা গুলি করে পুলিশও। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ২০ মিনিট গুলিবিনিময় চলে। এরপরেই চার ‘জলদস্যু’কে আটক করে পুলিশ।

আটক ব্যক্তিরা হলেন, হাবিবুর ঢালি (২৬), হাবিবুল্লাহ  বাহার (৩২), সাহেব আলী গাজী (৩১) ও বিল্লাল হোসেন (২৭)। পুলিশ জানিয়েছে, হাবিবুর ঢালির বাড়ি বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি এলাকায়। হাবিবুল্লাহ ও সাহেব আলীর বাড়ি একই জেলার শ্যামনগর এলাকায়। বিল্লাল হোসেনের বাড়ি খুলনা জেলার কয়রা এলাকায়। অন্যরা পালিয়ে যায় বলে দাবি করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে চারটি বড় পাইপগান, তিনটি ছোট পাইপগান, ১০টি ৮ এমএম গুলি এবং ৫টি ১২ এমএম গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, সুন্দরবনে জেলেদের নৌকা লুটের জন্যই ওরা পীরখালির ৪ নম্বর জঙ্গলে জড়ো হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অরিজিত সিনহা জানান, আটক ব্যক্তিদের জেরা করে বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ওই বাংলাদেশি জলদস্যুরা ডাকাতি করার উদ্দেশ্যেই জড়ো হয়েছিল ওই এলাকায়। গোপন সূত্রে খবর পেয়েই বৃহস্পতিবার ভোরে অভিযান চালানো হয়।