ভোমরা স্থলবন্দর রাস্তার দু’ধারে জবরদখলকৃত জমি পরিদর্শন করলেন জেলা পরিষদ সদস্যবৃন্দ


প্রকাশিত : মার্চ ২৫, ২০১৮ ||

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: শনিবার দুপুরে আলীপুর থেকে ভোমরা স্থলবন্দর পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারের জবরদখলকৃত জমি পরিদর্শন করলেন জেলা পরিষদের সদস্যরা। তারা জবরদখলকারিদের সঙ্গে কথা বলে জেলা পরিষদ থেকে যথাযথভাবে বন্দোবস্ত নিয়ে তা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন।

জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বাবু জানান, আলীপুর থেকে ভোমরা স্থলবন্দরের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাঁশকল পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে জেলা পরিষদের ১ একর ৬৪ শতক জমি রয়েছে। এ জায়গায় গড়ে উঠেছে রাইস মিল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পল্ল¬ী বিদ্যুতের সাব স্টেশন, বসত বাড়ি। এসব দেওয়ানী আদালতে মামলা থাকার পরও ভোমরা ইউপি’র সাবেক সদস্য রফিকুল ইসলাম, শহীদুল ইসলামসহ কয়েকজন অনিয়ম ও দূর্ণীতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ তৈরির কাজ করে যাচ্ছেন। এ নির্মাণের পক্ষে ওই জমিতে জালালউদ্দিন আকবর, কামরুল ইসলামসহ ১৫ জনের একসনা বন্দোবস্ত থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে তাদেরকে দখলচ্যুত করা হয়েছে। আবার অনেকেই ইতোপূর্বে বন্দোবস্ত নিয়ে বর্তমানে তা নবায়ন করছেন না। আবার কৃষি জমি হিসেবে বন্দোবস্ত নিয়ে তাতে পাকা ইমারত গড়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। আবার কোন প্রকার নিয়ম না মেনেই রাইস মিলের চাতাল বা পল্ল¬ী বিদ্যুতের সাব স্টেশন তৈরির কাজ করে যাচ্ছেন। অনেকেই জলাশয় ভরাট করে স্টোন চিপ বা বালির ব্যবসা করে যাচ্ছেন।

তিনি জানান, এ সব জমি জবরদখলের পিছনে জেলা পরিষদের তদারকির গাফিলতি, জমি নিয়ে দেওয়ানী আদালতে মামলা থাকলেও জেলা পরিষদের আইনজীবীদের যথাযথ ভূমিকা না রাখা, সেটেলমেন্টে রেকর্ডের সময় জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের যথাযথ ভূমিকা না রাখা ছাড়াও বেশ কিছু অনিয়মের বিষয়টি স্থানীয়রা তাদেরকে অবহিত করেন। একপর্য়ায়ে তারা রফিকুল ইসলাম ও শহীদুল ইসলামকে নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখে কাগজপত্রসহ পরিষদে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। এ ছাড়াও আলীপুরের এসএস রাইস মিলের স্বতাধিকারি ফিরোজ হোসেনসহ জবরদখলকাািরদের আইনি প্রক্রিয়ায় বন্দোবস্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন। ১৯৮১ সালের ১২ আগস্ট থেকে ছয় বছর মেয়াদী বন্দোবস্ত দলিল ছয় মাসের মধ্যে হস্তান্তর করা যাবে না উল্লে¬খ থাকলে একদিন পর আবুল হোসেন এক একর ৬৪ শতক জমি কিভাবে বিক্রি করলেন তা নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে বসা হবে। দেওয়ানী ৩৮৫/১৫, ল্যান্ড সার্ভে ১৪৯/১৫ ও দেওয়ানী ৯৮/১৬ মামলা সম্পর্কে করণীয় কি তা তারা আইনজীবী ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে কথা বলবেন। বন্দোবস্ত নিয়ে সচেতনতা  বৃদ্ধির জন্য অবিলম্বে মাইকিং করা হবে বলে জানান তিনি।

জেলা পরিষদের পরিদর্শন টিমের অন্য সদস্যরা হলেন, সদস্য এড. শাহানাজ পারিভন মিলি, মাহাফুজা সুলতানা রুবি খাতুন, আল ফেরদৌস আলফা, মনিরুল ইসলাম, আফজাল হোসেন, মতিয়ার রহমান , নজরুল ইসলাম হিল্লোল, আব্দুল হাকিম, ডালিম কুমার ঘরামী, মুকুল হোসেন, ওবায়দুর রহমান লাল্টু, মহিতুর রহমান ও সার্ভেয়র হাসানুজ্জামান।