যোদ্ধা হতে চাই

শরীফ সাথী

আমি যোদ্ধা হতে চাই
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের
চেতনাকে বুকে লালন করে পালন করে
আঁকড়ে ধরে আগামী প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে
স্বাধীন সার্বভৌম এই বাংলাদেশের জন্য
কল্যাণকর মঙ্গলজনক সমুজ্জ্বল সাফল্যকে
ত্বরান্বিত করার অগ্রপ্রয়াসের
আমি যোদ্ধা হতে চাই
বিপথগামী মানুষের সুপথে ফেরানোর
নিপীড়িত শোষিত বঞ্চিত মানুষের
অধিকার আদায়ের
দেশের বুকে সবুজের অরণ্য সাজানোর।
পাখিদলের অভয়ারণ্যের ছন্দশীল গানের
মুখরিত করার।
কৃষকের আধুনিকী করণের
ফসলের ঘ্রাণে প্রাণের আবেশ মাখানো
ফুল ফল নদী জল বৃক্ষ সমারোহে
মমতাময় বাংলার শোভাবর্ধনে
আমি যোদ্ধা হতে চাই
দেশ-জাতিকে উন্নতিকরণের
সমগ্র বিশ্বে সুপ্রতিষ্ঠিত জাগরণের
উত্তাল মঞ্চে জয় বাংলার জয়ধ্বনি শোনানোর।
সত্য প্রতিষ্ঠা করার
মায়া-মমতার বন্ধনে আবদ্ধ করে
নিবিড় মধুময় সম্পর্ক করার
ভেদাভেদ ভুলে মানুষে মানুষের
সোহার্দ্যপূর্ণ আচরণের।
সমস্ত মন্দ পদদলিত করে
আনন্দে ভালোর দিশারী হওয়ার
অমানিশা দূর করে সম্ভাবনাময়
স্বপ্নোজ্জ্বল উন্নত বাংলাদেশ উপহার দেওয়ার।
আমি যোদ্ধা হতে চাই
শ্রমিক কুলি চাকুরিজীবী, চাষার
মেহনতি মানুষের ভালোবাসার
সমাজ ও দেশ মাতৃকার
শিকড়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে
সুশিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি ঐতিহ্য
সামাজিক রাজনৈতিক মানবিক মূল্যবোধ
প্রস্ফুটিত করার
আমি যোদ্ধা হতে চাই
এই বাংলার
আমি যোদ্ধা হতে চাই
এই বাংলাদেশের।

মেয়ে বলে

অপরিচিতা সুলতানা

প্রকৃতির অপরূপ লালিত্য সচ্ছল
দেখে নয়ন হবে সার্থক
হব আমি মুগ্ধ।

কিন্তু সমাজে অনেক বাঁধা
জীবনটা যেন গোলক ধাঁধাঁ
অপরাধী আমি, মেয়ে বলে
বন্দি এখন চার দেওয়ালে।

বড়ই কঠিন আজ বাইরের জগৎ
মেয়ের নিরাপত্তায় শঙ্কিত বাবা-মা
চারিদিকে শেয়াল-শকুনের দল
তবুও মুছবে না আমার কষ্টের জল।

মেয়ে হয়ে জন্মেছি বলে
এটাই কি আমার দোষ?
কেন শুধু এ ধরণীতে
মানতে হবে পোষ?

কেন পারবো না মনের কথা বলতে
অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে
সমাজটাকে বদলে নিয়ে
নিজের মতো বাঁচতে?

মেয়ে হয়ে জন্মেছি বলে
অধিকার থেকে বঞ্চিত
অবহেলিত সমাজে আজ
সবার কাছে লাঞ্ছিত।

ভালোবাসি

তামান্না জাবরিন

আমার হৃদয়ে বিঁধে তীর
তুমি আছো বসে কোন সে নীড়।
ভেঙে চুরমার করে এ মন
তুমি লুকিয়েছ কি সুদূর বন?
ভালোবাসি বলেছি, ভালোবাসি তাই
তুমি বিনা আমি পুড়ে হবো ছাই।

আমার স্বপ্ন আশা মনোবল
তুমিই যে আমার সম্বল।
আমার সুখ-শান্তি ভাষা
তুমিই যে আমার ভালোবাসা।
ভালোবাসি বলেছি, ভালোবাসি যে তোমায়
তুমিহীনা আমার, কোথাও নেই যে ঠাঁই।

তুমি শুধু আমার এ আমার ধারণা
তুমিই আমার বাঁচার একমাত্র প্রেরণা
হে আমার স্বপ্নের রাজকুমার
বলো না কি চাই তোমার?
ভালোবাসি বলেছি, ভালোবাসাও যে চাই
তুমি ছাড়া এক মুহূর্তেও শান্তি না পাই।

তুমি আমার স্বপ্নের রাজকুমার
তোমায় ঘিরে হাজার স্বপ্ন আমার।
তুমি অন্ধকার এ দীপ আমার
লক্ষ কষ্টের মাঝে সুখ আশার।
ভালোবাসি বলেছি, ভালোবেসে যেতে চাই
প্রার্থনা আমার, জনম জনম যেন তোমায় শুধু কাছে পাই।

ধর্ষিত হচ্ছে দেশ

কাজী জুবেরী মোস্তাক

ধর্ষিতার নীরব চিৎকারে আজ প্রকম্পিত বাতাস ,
আর কত তনু বিউটিদের হতে হবে এমন লাশ ?
অসহায় পিতামাতার সম্বল আজ শুধুই দীর্ঘশ্বাস।

ধর্ষকের কাঁধেই কাঁধ মিলিয়ে দিব্যি আছে সমাজ ,
সাধের গণতন্ত্রে আজ চলছে শুধু ধর্ষকেরই রাজ
আর অসহায় ধর্ষিতার মাথায় শুধু কলঙ্কের বাজ।

স্বাধীনতা! স্বাধীনতা! স্বাধীনতা! সে আজ কোথায়?
নীতিকথা সেও আজ মোটা মানিব্যাগে মুখ লুকায়
আইন সেতো বন্দী আছে ঐ ক্ষমতাধরের জিম্মায়।

গণতন্ত্র! তাকে তো দেখি আজ সংবিধানে আট্কা ,
আর স্বাধীনতা! সেও আজ একটা বাক্সবন্দী প্রথা ,
মনুষ্যত্ব আজ মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা এক নীতিকথা।

প্রতিনিয়তই ধর্ষণ হচ্ছে আমার সোনার বাংলাদেশ ,
এ যেন সেই একাত্তরের পাকিস্তানী হায়েনার বেশ
জাতি তুমি কত লুকাবে প্রিয় পতাকায় তব ক্লেশ?

বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণের উদ্বোধন

আব্দুর রহমান: সাতক্ষীরা ০২ আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি বলেন ‘দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খাদ্য চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে। দেশের এই খাদ্য চাহিদা মিটাতে ধান উৎপাদন বৃদ্ধিকল্পে বোরো ধানের পাশাপাশি আউশ ধানের আবাদ বাড়াতে হবে। তাই বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব সরকার আউশ ধানের আবাদ বৃদ্ধির জন্য প্রনোদনা সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নিয়েছে। কারন আউশ ধান উৎপাদনে পানি কম লাগেএই জন্য প্রনোদনার সহায়তা কাজে লাগিয়ে আউশ ধান চাষ বৃদ্ধির করার তিনি উদাত্ত আহবান জানান। এমপি মীর মোস্তাক আহমেদ রবি আরো বলেন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উফশী ও নেরিকা ধান চাষাবাদে উৎসাহিত করার জন্য এ প্রণোদনা কর্মসূচি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেয়া হয়েছে। এতে ইতিবাচক ফলও পাওয়া যাচ্ছে। কৃষি বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে এসব প্রণোদনা কৃষকরা পাবেন। পরিশেষে তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রনোদনা আউশ ধান উৎপাদন ও কৃষি উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহবান জানান।’
শুক্রবার সকাল ১১টায় সদর উপজেলা চত্বরে উফশী আউশ ও নেরিকা আউশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিনামূল্যে বীজ, রাসায়নিক সার, সেচ সহায়তা, আগাছা দমন সহায়তা বিতরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন’র সভাপতিত্বে সাতক্ষীরা ০২ আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি এসব কথা বলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান বাবু, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তহমিনা খাতুন, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কোহিনুর ইসলাম, সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আমজাদ হোসেন, কৃষি কর্মকর্তা তামান্না তাছনীম প্রমুখ।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি তহমিনা খাতুন জানান, ‘সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৪৫০ জন উফশী আউশ চাষীকে সার ও বীজ প্রদান করা হয়েছে। প্রত্যেককে ৫ কেজি আউশ ধান বীজ, ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি সার ও ৫০০ টাকা সেচ সহায়তা প্রদান করা হবে এবং ৬৬০ জন নেরিকা আউশ চাষী এ সহায়তা পাবে। প্রত্যেককে ৫ কেজি নেরিকা আউশ ধান বীজ, ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি সার, ৫০০ টাকা সেচ সহায়তা ও ৫০০ টাকা আগাছা দমন সহায়তা প্রদান করা হবে। এ কর্মসূচিতে সরকার কৃষককে এই প্রণোদনার উপকরণ দেবে। ধান চাষে ভালো ফলন পেতে এই প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কৃষকরা বলছেন, শুধু প্রণোদনার সিদ্ধান্ত থাকলেই হবে না। প্রণোদনা উপকরণ সঠিকভাবে কৃষকদের কাছে পৌছাতে হবে।

প্রতাপনগরে অবৈধভাবে গৃহ নির্মাণ, গাছপালা কর্তন: থানায় ডায়েরী

শরিফুল ইসলাম: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরে একটি পরিবারের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে মোজাম ঢালীর পরিবার। বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে পরিবারটি। শুক্রবার (৩০মার্চ) গৃহবধু আবেদা খাতুন ও তার পরিবার সাংবাদিকদের সাথে দুঃখ প্রকাশ করে এসব কথা বলেন। মোজাম ঢালীর পরিবার কর্তৃক দীর্ঘদিন ধরে ১০নং প্রতাপনগর ইউনিয় পরিষদে সুষ্ঠু বিচারের আশায় অভিযোগ করলেও কোন ফলাফল পায়নি অসহায় পরিবারটি। আশাশুনি থানায় এ ব্যাপারে একাধিকবার জিডিও করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের আকবর সানার ছেলে মো. শাহিন, মো. আক্তারুল, স্ত্রী মোছা. ফাতেমা বেগম, দেছের হালদার’র ছেলে আব্দুর রহিম হাওলাদার ও মৃত মুজিব সানার ছেলে মো. কাজল, সহ একটি সন্ত্রাসী বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবারের নামে মিথ্যা রটনা ও পৈত্রিক সম্পতি দখলের পায়তারাসহ নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে।
প্রতাপনগর গ্রােেমর বদও উদ্দীন ঢালীর ছেলে মোজাম ঢালী জানান, পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে তারা এ বসতবাড়ী ভোগ দখলে আছেন। প্রতাপনগর মৌজার এসএ খতিয়ান নং- ৩৪২ সাবেক দাগ নং- ৯২৩। মোট জমির পরিমাণ ২৭শতক। শুধু মিথ্যা দাবি নিয়ে আমাদের উচ্ছেদ করতে চাইছে তারা। আমাদের দখলীয় জমিতে অবৈধভাবে গৃহ নির্মাণ, গাছপালা কর্তন করার মতো অপরাধও তারা করেছেন।
আবেদা খাতুন জানান, প্রতাপনগরে আমার শশুর বাড়ী। কিন্তু ওই পরিবারের অত্যাচারে আমরা ওখানে বসবাস করতে পারছিনা। আমার শশুরের পৈত্রিক এ সম্পত্তিতে বসতঘর নির্মাণ করে অদ্যবদি ভোগ দখলে আছেন। গত ২৩ জানুয়ারি আমি ও আমার ননদ মোছা. হোসনেয়ারা খাতুন আমাদের জমিতে মাটি কাটতে থাকলে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বিবাদীরা উত্তেজিত হয়ে আমার ও আমার ননদকে এলোপাতাড়ীভাবে কিল, ঘুশি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করে। আমাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন আসলে তারা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমরা থানায় অভিযোগ করলে আসামীরা আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। আশাশুনি থানার জিডি নং- ২০৬০ তারিখ: ২৬ জানুয়ারি ২০১৮।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে তারা আমার সাথে যোগাযোগ করলে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

পলি জমে নদী ভরাটের আশঙ্কা কেশবপুরে কপোতাক্ষ নদে নেট ও পাটা দিয়ে জোয়াঁর ভাটায় বাঁধা সৃষ্টির অভিযোগ

 

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি মাছ ধারার জন্য কপোতাক্ষ নদের বিভিন্ন জায়গায় নেট ও পাটা দিয়ে জোঁয়ার ভাটার পানি প্রবাহকে বাঁধা সৃষ্টি করছেন। এমন অভিযোগ উঠেছে। ফলে সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কপোতাক্ষ নদ খননের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কেশবপুরের নদী অববাহিকার বন্যা কবলিত হাজার হাজার পরিবার। এক সময়ের প্রমত্তা নদ পলির আগ্রাসনে জোয়ার ভাটা বন্ধ হয়ে মৃত নদে পরিণত হয়। যে কারণে কপোতাক্ষ নদ অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে প্রতি বছর বন্যা প্লাবিত হয়ে দু:সহ জীবন যাপন করেছেন। সরকারের যুগন্তকারী পদক্ষেপে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ২৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের আওতায়  ৮২.৫০০ কি. মি. কপোতাক্ষ নদ খননের কাজ শেষ হয়। তার পর থেকে আবার কপোতাক্ষ নদে স্বাভাবিক জোয়ার ভাটা শুরু হয়। ফলে ঐ এলাকার মানুষ বন্যার কবল থেকে রক্ষা পায়। কিন্তু এরই মধ্যে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি মাছ ধারার জন্য কপোতাক্ষ নদের বিভিন্ন জায়গায় নেট ও পাটা দিয়ে জোয়ার ভাটার পানি প্রবাহকে বাঁধা সৃষ্টি করছে। অবৈধভাবে নেট ও পাটা দিয়ে পানি প্রবাহকে বাঁধাগ্রস্ত করায় পলি জমে নদী ভরাট হওয়ার আশঙ্কা করছেন নদী বাঁচাও আন্দোলন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সরেজমিনে দেখা গেছে, চিংড়া গ্রামের মোখলেছ, জয়া, শওকত শেখ, রবিউল, সাগরদাড়ী গ্রামের নিতাই মালো, গৌর মালো, নজরুল ইসলাম, শাহাজান আলী, জয়দেব, কিনারাম, সারসা গ্রামের মোস্তফা, শামছুর রহমানসহ শতাধিক মানুষ কপোতাক্ষ নদের বিভিন্ন জায়গায় নেট ও পাটা দিয়ে মাছ শিকার করছে। কেশবপুর উপজেলার চিংড়া থেকে শুরু করে সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা পর্যন্ত  নদে শতশত জায়গায় নেট ও পাটা দিয়ে কোমর তৈরী করে মাছ ধরছে এবং ঐ সব অবৈধ মৎস শিকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন নদী বাঁচাও আন্দোলনের নেতারা। এ বিষয়ে নদী বাঁচাও আন্দোলনের নেতা এড. আবুবক্কার সিদ্দিক বলেন, নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্তকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী  সায়েদুর রহমান বলেন, নদীর প্রবাহ বাঁধাগ্রস্ত করা যাবেনা, কেউ সেটা করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাদের জনবল কম তাই এটাকে প্রতিরোধ করতে হলে জরপ্রতিনিধিসহ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

 

 

 

খলিষখালি হাইস্কুলে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

খলিষখালি (পাটকেলঘাটা) প্রতিনিধি: যথাযথ মর্যাদায় তালা খলিষখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। বিকাল ৫ টায় খলিষখালী নতুন মাঠে বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুর ও সহকারি শিক্ষক ফারুক হোসেন।

ভাইঝির জমির উপর চাচার কু-নজর: থানায় জিডি

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভাইঝির জমির উপর কু-নজর পড়েছে চাচার। ছলে বলে কলে কৌশলে জমি দখলের পায়তারা চালাচ্ছে চাচা বাবর আলী বিশ্বাস (৬০)। ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা পেতে অসহায় নুর জাহান শেষ পর্যন্ত সদর থানায় জিডি করেছেন। জিডি নং ১১০২ তাং ১৯-২-১৮ ইং।
জিডি সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার বহেরা গ্রামের রুহুল আমিনের স্ত্রী নুর জাহান বেগমের পিতার মৃত্যুর পর শ্রীরামপুর ও বৈচনা মৌজায় পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া এক একর এবং ক্রয়সূত্রে পাওয়া ৪৮শতক জমি আছে। ১৯৮২ সাল থেকে তারা উক্ত জমি ভোগ দখল করে গাছ গাছালি লাগিয়েছে। নূর জাহান বেগম জানান, তার নূরুজ্জামান নামে একটি প্রতিবন্ধী সন্তান আছে। তাদেরকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে জমি দখলের পায়তারা করছেন শ্রীরামপুর গ্রামের বাবর আলী ও তার পুত্র মিরাজ হোসেনসহ ছাত্তার বিশ্বাসের পুত্র ফারুক হোসেন। তারা নূর জাহান ও তার প্রতিবন্ধী সন্তানকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করছে। এ ব্যাপারে অসহায় নুর জাহান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পাইকগাছায় ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান

 

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: পাইকগাছায় ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে কলেজ মিলনায়তনে অধ্যক্ষ রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, পাইকগাছা কলেজের অধ্যক্ষ মিহির বরণ মন্ডল, ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ সরদার মোহাম্মদ আলী, সহকারী অধ্যাপক সেখ রুহুল কুদ্দুস, নাসরিন আরা, প্রভাষক ময়নুল ইসলাম, ইতি বৈরাগী, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সংগঠক প্রভাষক আবু সাবাহ, শিক্ষার্থী তারানা জামান খুশি, স্বর্ণালী মন্ডল, নানজীবা তাসনিম ও সামিয়া মোকাররম। অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পরীক্ষা উপকরণ ও বই পড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

কলারোয়ার কাজীরহাট কলেজে পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

 

 

 

কাজীরহাট (কলারোয়া) প্রতিনিধি: কলারোয়ার কাজীরহাট কলেজে বৃহস্পতিবার চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও ৪৭তম মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন তালা কলারোয়ার এমপি এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার নাথ, মুক্তিযদ্ধো গোলাম মোস্তফা, ইব্রাহীম হোসেন, কলেজের অধ্যক্ষ এসএম সহিদুল আলম প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কলেজের প্রভাষক ইদ্রিস আলী।

শার্শা লক্ষণপুর ইউপি উপনির্বাচনে নৌকার বিজয়: আনোয়োরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত

 

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ব্যাপক নিরাপত্তায়-যশোরের শার্শা লক্ষণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। নৌকার প্রার্থী আনোয়ারা খাতুন ১০ হাজার ২৭২ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী চশমা প্রতিক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী কামলা হোসেন পেয়েছেন ২২৩ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোতাছিম হোসেন খোকন আনারস পেয়েছেন ৮২ ভোট, রজনীগন্ধা প্রতিক নিয়ে জুলফিক্কার আলী পেয়েছেন ১৪ ভোট। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোট গ্রহণ। শার্শার লক্ষণপুর ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১৪ হাজার ৮৬৭ জন। দলীয় কোন্দল থাকায় ৯টি কেন্দ্রে নিরাপত্তার জন্য মোবাইল টিমসহ বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মন্ডল বলেন, কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়ায় সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ হয়। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শার্শা উপজেলার লক্ষণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন শান্তি গত ৯ জানুয়ারি রাতে মারা যাওয়ায় এ ইউনিয়নে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উপ-নির্বাচনে তার স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য মনোনিত হন।

 

শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের দাবিতে মতবিনিময়

 

আব্দুর রহমান: শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের কার্যালয়ে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ জেলা শাখার উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ জেলা শাখার আহবায়ক প্রভাষক এম সুশান্ত। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বাশিপ’র কেন্দ্রীয় নেতা আফসার উদ্দিন আহমেদ বাবলু।

এসময় তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে প্রশ্নোত্তর পূর্বে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছেন। নি:সন্দেহে বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য এটি একটি সুখবর। জাতীয়করণ শুধু টাকার বিষয় নয়। এটা সরকারের রাজনৈতিক নীতি-নির্ধারণী বিষয়। এ জন্য দরকার দেশের সব শিক্ষক-কর্মচারীদের ঐক্যবদ্ধ থাকা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থা আবশ্যই জাতীয়করণ করতে হবে।’ মতবিনিময় সভায় শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ, আসন্ন বাংলা নববর্ষে বৈশাখী ভাতাসহ বিভিন্ন দাবীর কথা উল্লেখ করে বক্তব্য রাখেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সদস্য সচিব ও প্রধান শিক্ষক লায়লা পারভীন সেঁজুতি, সহকারী অধ্যাপক আকবর হোসেন, অধ্যাপক ইউনুছ আলী খান, অরুপ কুমার সাহা, গাজী শাহ্জাহান সিরাজ, অধ্যাপক আব্দুল আজিজ, পার্থ সারথী সেন, সাইদুল ইসলাম, প্রভাষক মফিজুল ইসলাম, নিশিকান্ত ব্যানার্জী, পরিমল দাস প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন স্বাশিপ’র জেলা সচিব আব্দুল মালেক গাজী।

 

 

বাঁশদহায় আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে ১০লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

 

মনিরুল ইসলাম মনি: সদর উপজেলা ১নং বাঁশদহা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি কাবিটা ও টিআরের ১০ লক্ষ টাকা ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিতভাবে এ অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে বাঁশদহা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের পাঁচরকি গ্রামের পুর্বপাড়া ইটের সোলিংয়ের মুখ হতে সাহাজদ্দীনের ডিপ পযর্ন্ত মাটির রাস্তার সংস্কারের নামে কাজ না করে ১০লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছেন ওই মাষ্টার। এছাড়া ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে একই এলাকায় কাউনডাঙ্গা মিজানের খেজুর বাগান হতে লুৎফরের বাড়ি পযর্ন্ত মটিররাস্তা সংস্কারের নামে কাজ না করে তিন লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছেন। টিআরের ৩নং ওয়ার্ডের আজাহারুলের বাড়ি থেকে মজিদের বাড়ি পযর্ন্ত রাস্তা সংস্কারের ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে দুই লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা কাজ না করে তুলে নিয়েছেন। ২নং ওয়ার্ডে ৪০দিনের হতদরিদ্র কর্মসুচির লোক দিয়ে কাজ করে একই রাস্তায় ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে ৩ লক্ষ টাকা ৯৭ হাজার টাকা তুলেছেন। এইসব ভূয়া প্রকল্পের টাকা তুলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পিআইও জালাল উদ্দিন এবং সদর এমপির প্রতিনিধি বাঁশদহা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার মফিজুল ইসলাম ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে বাঁশদহা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার মফিজুল ইসলাম বলেন, যে অভিযোগ জেলা প্রশাসক বরাবর করা হয়েছে তা সঠিক নয়।