পলি জমে নদী ভরাটের আশঙ্কা কেশবপুরে কপোতাক্ষ নদে নেট ও পাটা দিয়ে জোয়াঁর ভাটায় বাঁধা সৃষ্টির অভিযোগ


প্রকাশিত : মার্চ ৩০, ২০১৮ ||

 

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি মাছ ধারার জন্য কপোতাক্ষ নদের বিভিন্ন জায়গায় নেট ও পাটা দিয়ে জোঁয়ার ভাটার পানি প্রবাহকে বাঁধা সৃষ্টি করছেন। এমন অভিযোগ উঠেছে। ফলে সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কপোতাক্ষ নদ খননের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কেশবপুরের নদী অববাহিকার বন্যা কবলিত হাজার হাজার পরিবার। এক সময়ের প্রমত্তা নদ পলির আগ্রাসনে জোয়ার ভাটা বন্ধ হয়ে মৃত নদে পরিণত হয়। যে কারণে কপোতাক্ষ নদ অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে প্রতি বছর বন্যা প্লাবিত হয়ে দু:সহ জীবন যাপন করেছেন। সরকারের যুগন্তকারী পদক্ষেপে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ২৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের আওতায়  ৮২.৫০০ কি. মি. কপোতাক্ষ নদ খননের কাজ শেষ হয়। তার পর থেকে আবার কপোতাক্ষ নদে স্বাভাবিক জোয়ার ভাটা শুরু হয়। ফলে ঐ এলাকার মানুষ বন্যার কবল থেকে রক্ষা পায়। কিন্তু এরই মধ্যে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি মাছ ধারার জন্য কপোতাক্ষ নদের বিভিন্ন জায়গায় নেট ও পাটা দিয়ে জোয়ার ভাটার পানি প্রবাহকে বাঁধা সৃষ্টি করছে। অবৈধভাবে নেট ও পাটা দিয়ে পানি প্রবাহকে বাঁধাগ্রস্ত করায় পলি জমে নদী ভরাট হওয়ার আশঙ্কা করছেন নদী বাঁচাও আন্দোলন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সরেজমিনে দেখা গেছে, চিংড়া গ্রামের মোখলেছ, জয়া, শওকত শেখ, রবিউল, সাগরদাড়ী গ্রামের নিতাই মালো, গৌর মালো, নজরুল ইসলাম, শাহাজান আলী, জয়দেব, কিনারাম, সারসা গ্রামের মোস্তফা, শামছুর রহমানসহ শতাধিক মানুষ কপোতাক্ষ নদের বিভিন্ন জায়গায় নেট ও পাটা দিয়ে মাছ শিকার করছে। কেশবপুর উপজেলার চিংড়া থেকে শুরু করে সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা পর্যন্ত  নদে শতশত জায়গায় নেট ও পাটা দিয়ে কোমর তৈরী করে মাছ ধরছে এবং ঐ সব অবৈধ মৎস শিকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন নদী বাঁচাও আন্দোলনের নেতারা। এ বিষয়ে নদী বাঁচাও আন্দোলনের নেতা এড. আবুবক্কার সিদ্দিক বলেন, নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্তকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী  সায়েদুর রহমান বলেন, নদীর প্রবাহ বাঁধাগ্রস্ত করা যাবেনা, কেউ সেটা করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাদের জনবল কম তাই এটাকে প্রতিরোধ করতে হলে জরপ্রতিনিধিসহ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।