বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণের উদ্বোধন


প্রকাশিত : মার্চ ৩০, ২০১৮ ||

আব্দুর রহমান: সাতক্ষীরা ০২ আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি বলেন ‘দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খাদ্য চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে। দেশের এই খাদ্য চাহিদা মিটাতে ধান উৎপাদন বৃদ্ধিকল্পে বোরো ধানের পাশাপাশি আউশ ধানের আবাদ বাড়াতে হবে। তাই বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব সরকার আউশ ধানের আবাদ বৃদ্ধির জন্য প্রনোদনা সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নিয়েছে। কারন আউশ ধান উৎপাদনে পানি কম লাগেএই জন্য প্রনোদনার সহায়তা কাজে লাগিয়ে আউশ ধান চাষ বৃদ্ধির করার তিনি উদাত্ত আহবান জানান। এমপি মীর মোস্তাক আহমেদ রবি আরো বলেন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উফশী ও নেরিকা ধান চাষাবাদে উৎসাহিত করার জন্য এ প্রণোদনা কর্মসূচি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেয়া হয়েছে। এতে ইতিবাচক ফলও পাওয়া যাচ্ছে। কৃষি বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে এসব প্রণোদনা কৃষকরা পাবেন। পরিশেষে তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রনোদনা আউশ ধান উৎপাদন ও কৃষি উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহবান জানান।’
শুক্রবার সকাল ১১টায় সদর উপজেলা চত্বরে উফশী আউশ ও নেরিকা আউশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিনামূল্যে বীজ, রাসায়নিক সার, সেচ সহায়তা, আগাছা দমন সহায়তা বিতরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন’র সভাপতিত্বে সাতক্ষীরা ০২ আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি এসব কথা বলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান বাবু, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তহমিনা খাতুন, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কোহিনুর ইসলাম, সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আমজাদ হোসেন, কৃষি কর্মকর্তা তামান্না তাছনীম প্রমুখ।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি তহমিনা খাতুন জানান, ‘সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৪৫০ জন উফশী আউশ চাষীকে সার ও বীজ প্রদান করা হয়েছে। প্রত্যেককে ৫ কেজি আউশ ধান বীজ, ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি সার ও ৫০০ টাকা সেচ সহায়তা প্রদান করা হবে এবং ৬৬০ জন নেরিকা আউশ চাষী এ সহায়তা পাবে। প্রত্যেককে ৫ কেজি নেরিকা আউশ ধান বীজ, ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি সার, ৫০০ টাকা সেচ সহায়তা ও ৫০০ টাকা আগাছা দমন সহায়তা প্রদান করা হবে। এ কর্মসূচিতে সরকার কৃষককে এই প্রণোদনার উপকরণ দেবে। ধান চাষে ভালো ফলন পেতে এই প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কৃষকরা বলছেন, শুধু প্রণোদনার সিদ্ধান্ত থাকলেই হবে না। প্রণোদনা উপকরণ সঠিকভাবে কৃষকদের কাছে পৌছাতে হবে।