শাহাদাতের বেল্ট চশমার দোকান ভেঙে দেয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার সামনে বেল্ট চশমার দোকানটি পলাশপোল মৌজার এসএ ৩২৩৬ নম্বর খতিয়ানে লিখিত সম্পত্তির ওপর সাতক্ষীরার মুন্সিপাড়ার শাহাদাত হোসেনের মালিকানাধীন। গত ২২ এপ্রিল ব্যাংকের সম্পত্তি না হওয়া সত্ত্বেও কোন রকম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গায়ের জোরে ভাংচুর করা হয়েছে। এতে প্রতিবাদ করায় শাহাদাত তার স্ত্রী মেহেরুন নিগারের ওপর চড়াও হয় সোনালী ব্যাংক কর্মচারিরা। এখন রোজগারের পথ না পেয়ে তিনটি মেয়ে সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে শাহাদাত পরিবার।

রোববার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে একথা বলেন, সাতক্ষীরা মুন্সিপাড়ার সাখাওয়াত হোসেন মোড়লের ছেলে শাহাদাত হোসেন শিমুল। শাহাদাত হোসেন এ বিষয়ে পুলিশ সুপারের সহযোগিতা কামনা করেন।

রোটারী ক্লাব সাতক্ষীরার গভর্নর ভিজিট

 

রোটারী ক্লাব সাতক্ষীরার গভর্নর ভিজিট অনুষ্ঠিত হয়েছে।  সোমবার বেলা ১২টায় শহরের চায়না বাংলা কনফারেন্স রুমে রোটারী ক্লাব অব সাতক্ষীরার প্রেসিডেন্ট এনছান বাহার বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। ক্লাব ভিজিট করেন ২০১৭১৮ বর্ষের ৩২৮১ ডিস্ট্রিক গর্ভনর এফএইচ আরিফ (পিএইচএফ) বিশেষ অতিথি ছিলেন, ডিস্ট্রিক সেক্রেটারী শহিদ সিদ্দিকী, ডিস্ট্রিক ট্রেজারার খালেকুজ্জামান, জোন চেয়ারম্যান খুলনা কামরুল করিম বাবু, সাতক্ষীরা ক্লাবের সহকারী এসিস্ট্যান্ট গভর্নর মাহমুদ হাসান সোহেল। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

দেবহাটার পারুলিয়ায় ২য় বার্ষিকী ক্রিকেট লীগ টুর্নামেন্ট আজ

 

দেবহাটা ব্যুরো: দেবহাটার পারুলিয়ায় আজ থেকে শুরু হচ্ছে ২য় বার্ষিকী দক্ষিণা কানন নিউ পার্ক ক্রিকেট লীগ ২০১৮। মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় খেজুরবাড়ীয়া দক্ষিণ পাড়া ইয়াং জেনারেশনের আয়োজনে খেজুরবাড়ীয়া দক্ষিণ কানন পার্কে ২নং পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ম্যাচ শুভ উদ্ভোধনী করবেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ সদস্য আলফেরদাউস আলফা। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সমাজ সেবক মৎস্য ব্যবসায়ী শামসুর রহমান খোকন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার জহিরুল ইসলাম।

পাইকগাছা উপকূল সাহিত্য পরিষদের মাসিক সভা ও সাহিত্য আসর

 

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: পাইকগাছা উপকূল সাহিত্য পরিষদের মাসিক সভা সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকালে উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবনে সাহিত্য পরিষদের সভাপতি সরদার মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা উপজেলা চেয়ারম্যান বাবর আলী। উপস্থিত ছিলেন, অধ্যক্ষ মিহির বরণ মন্ডল, প্রাক্তন অধ্যক্ষ রমেন্দ্রনাথ সরকার, খুলনা সাহিত্য মজলিসের সভাপতি শাহীনা বাবর, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক অপু মন্ডল, সাহিত্য পরিষদের সম্পাদক বিকাশেন্দু সরকার, সাংবাদিক আব্দুল আজিজ, পঞ্চানন সরকার, শারমীন সুলতানা, শাহনাজ পারভীন পপি, নিজাম উদ্দীন শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল। সভায় রবীন্দ্রনজরুল জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে উপকূল সাহিত্য পরিষদের পক্ষ থেকে আগামী ২২ শ্রাবণ বিশেষ স্মরণিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

পাইকগাছা উপজেলা পরিষদের মাসিক আইন শৃংখলা সভা

 

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: পাইকগাছা উপজেলা পরিষদের মাসিক আইন শৃংখলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফকরুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান বাবর আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহানারা খাতুন, ওসি (তদন্ত) এসএম শাহাদাৎ হোসেন, অধ্যক্ষ মিহির বরণ মন্ডল, উপাধ্যক্ষ সরদার মোহাম্মদ আলী, উপজেলা স্বাস্থ্য . . কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. নজরুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন, ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল, প্রধান শিক্ষক অজিত কুমার সরকার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সরদার আলী আহসান, অধ্যাপক জিএমএম আজাহারুল ইসলাম, শিক্ষক খালেকুজ্জামান, পাইকগাছা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি মো. আব্দুল আজিজ, যুগ্মসম্পাদক এন ইসলাম সাগর, সাংবাদিক প্রকাশ ঘোষ বিধান, আব্দুর রাজ্জাক রাজু, প্যানেল চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন লিটন, আহসান উল্লাহ আব্দুল মান্নান হাজরা। সভায় পৌরসভাধীন সরল বাজারের ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে মার্কেট নির্মাণ পরিকল্পনা বিরুদ্ধে, বহিরাগত ব্যবসায়ী কর্তৃক দেলুটি ইউনিয়নে ডিস লাইন স্থাপন, শহীদ জিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোলানাথ সুখদা সুন্দরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে বখাটেদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি, রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখা, ইটভাটার মাটি বহনকারী ট্রলি কর্তৃক রাস্তা নষ্ট, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

ওসির হস্তক্ষেপে মুক্ত হলো বৃক্ষ মানব আবুল বাজনদার

 

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: অবশেষে পাইকগাছা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের হস্তক্ষেপে অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত হলো বৃক্ষ মানব আবুল বাজনদার তার পরিবার। ওসি সার্বিক সহযোগিতায় প্রতিপক্ষ নজরুল ইসলাম যাতায়াতের পথ ছেড়ে দেওয়ায় সোমবার নতুন ইট বিছিয়ে যাতায়াতের পথ তৈরী করে নিয়েছেন আবুলের পরিবার। উল্লেখ্য, পাইকগাছা পৌরসভার সরল গ্রামের মানিক বাজনদারের ছেলে বিরল রোগে আক্রান্ত আবুল বাজনদার ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে সরকারি তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেডিকেল টিমের অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ডা. কবির চৌধুরী জানতে পারেন আবুলের বসবাসের জন্য কোন জায়গা জমি নেই। জন্য তিনি জমি কিনে বাড়ি করার জন্য আবুলকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেন। চিকিৎসকের আর্থিক সহায়তা পেয়ে আবুল ২০১৬ সালের জুন মাসের দিকে পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের সরল মৌজায় শিক্ষক মাখন লাল গংদের নিকট থেকে ২টি কোবলা দলিল মূলে এসএ ৬৩০ দাগসহ ভিন্ন দাগে প্রায় ১১ শতক জমি ক্রয় করে কোন রকমে বসত বাড়ি তৈরী করে নতুন বাড়ীতে গত মাস বসবাস শুরু করেন। কিন্তু বাড়ি হতে রাস্তায় ওঠার যাতায়াতের কোন পথ না থাকায় চরম বিপাকে পড়েন আবুল তার পরিবার। তার জমির পাশের প্রতিবেশী প্রতিপক্ষ নজরুল ইসলাম যাতায়াতের পথে একটি খুবড়ে ঘর তৈরী করায় অনেকটাই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন আবুলের পরিবার। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ স্থানীয় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন আবুল। অবরুদ্ধ থেকে মুক্তি পেতে আবুল সবশেষে গত বুধবার শরণাপন্ন হন থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের। বিষয়টি ওসিকে অবহিত করলে তিনি আবুলের পাশে এসে দাড়িয়ে যাতায়াতের পথ উদ্ধারে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেন। ওসি হস্তক্ষেপে প্রতিপক্ষ নজরুল পথের উপর তৈরী করা খুপড়ি ঘরটি রোববার সরিয়ে নিলে সুগম হয়ে যায় আবুলের যাতায়াতের পথ। গত দুদিনে আবুল পথে নতুন ইট বিছিয়ে যাতায়াত শুরু করেছেন। অবশেষে ওসির বলিষ্ঠ পদক্ষেপের কারণে আবুল তার পরিবার অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত হলো। ওসি আমিনুলের হস্তক্ষেপে বৃক্ষমানব তার পরিবার অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত হওয়ায় সোমবারের মাসিক আইন শৃংখলা সভায় তাকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

কলারোয়ায় রাসেলের চিকিৎসা সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান

 

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় দৃষ্টিশক্তি হারাতে বসা এসএসসি ফলপ্রার্থী রাসেল আলমের চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক শিক্ষানুরাগী এমআর ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় কলারোয়ার এমআর ফাউন্ডেশন একাডেমির অফিসকক্ষে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে রাসেলের মায়ের হাতে চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে নগদ ১০ হাজার টাকা তুলে দেন ওই সমাজসেবক। সময় প্রতিষ্ঠানের অফিস রুমে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল হামিদ, এমআর ফাউন্ডেশন একাডেমির অধ্যক্ষ আবুল হোসেন, প্রধান শিক্ষক সাংবাদিক রাশেদুল হাসান কামরুল, প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন, পৌরসভার প্রকৌশলী ওয়াজিহুর রহমান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সহকারী সমর দেবনাথ, ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষার্থী রাসেল আলমসহ এমআর ফাউন্ডেশন একাডেমির অন্যান্য শিক্ষকমন্ডলী। উল্লেখ্য, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষানুরাগী সমাজসেবক ব্যক্তিরা যেভাবে ওই মেধাবী ছাত্রের জন্য সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসছে তাতে করে দ্রুতই চিকিৎসার জন্য লক্ষাধিক টাকা সংগৃহীত হবে বলে আশা করছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল হামিদ।

কলারোয়া বেত্রবতী হাইস্কুলের সাইকেল শেড ঝড়ে লন্ডভন্ড

 

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়া বেত্রবতী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত সাইকেল শেডটি ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেলো। সোমবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে কলারোয়ার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কাল বৈশাখী ঝড় সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে নিলো অবহেলিত এই প্রতিষ্ঠানের চার শতাধিক শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত একমাত্র সাইকেল শেডটি। প্রতিষ্ঠানের সম্পূণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত সাইকেল শেডটি জরুরিভাবে নির্মাণ করা না হলে শিক্ষার্থীদের পড়তে হবে চরম ভোগান্তিতে। সেজন্য জরুরিভাবে সাইকেল শেডটি নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে একান্ত অনুরোধ জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক সাংবাদিক রাশেদুল হাসান কামররুলসহ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। সেই সাথে টিনশেডের জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ে একটি আধুনিক যুগোপযোগী ভবন নির্মাণে সংশ্লিস্ট সকলের একান্ত সহযোগিতা কামনা করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকঅভিভাবকসহ শতাধিক ছাত্রছাত্রী এলাকার সুধিজন। এদিকে আমাদের কাজীরহাট প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম জানান, সোমবারের ঝড়ে ধানঘরা মাদরাসার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কেশবপুরে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী সাদেকের ৮৪তম জন্মবার্ষিকী পালন

 

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এএসএইচকে সাদেকের ৮৪তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। উপলক্ষে উপজেলা সদরের দলীয় কার্যালয়ে সোমবার বিকাল ৪টায় আলোচনা সভা দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানে কেশবপুরের উন্নয়ন সাধারণ মানুষের ভাগ্যান্নয়নে সাদেক সাহেবের অবদান জীবনীর উপর আলোচনা করেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি তপন কুমার ঘোষ মন্টু, সহসভাপতি যশোর জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এড. রফিকুল ইসলাম পিটু, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা সাদেক, জেলা পরিষদ সদস্য হাসান সাদেক, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গৌতম রায়, চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত, কাউন্সিলর এবাদত সিদ্দিকী বিপুল, দপ্তর সম্পাদক মফিজুর রহমান, মহিলালীগ কেশবপুর কলেজের সভাপতি অধ্যাপক রেবা ভৌমিক, পৌর আওয়ামী লীগের আহবায়ক সোবহান পেশকার যুগ্মআহবায়ক কাউন্সিলর জামাল উদ্দীন, কাউন্সিলর মফিজুর রহমান মফিজ, চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক শহিদুজ্জামান শহিদ, যুগ্ম আহবায়ক আবু সাঈদ লাভলু, ছাত্রলীগ নেতা খন্দকার আব্দুল আজিজ, সবুজ হোসেন নিরব প্রমুখ।

উল্লেখ্য, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মরহুম এএসএইচকে সাদেক ১৯৩৪ সালের ৩০ এপ্রিল কেশবপুর উপজেলার বড়েঙ্গা গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম ইয়াহিয়া সাদেক এবং মাতা আসগারুন্নিসা সাদেক। তিনি সাত ভাই এবং দুই বোনের মধ্যে তৃতীয় সন্তান ছিলেন। তার স্ত্রী ইসমত আরা সাদেক (বর্তমান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী যশোর০৬কেশবপুর আসনের এমপি) বগুড়ার সাতানী জমিদার বাড়ির মরহুম মাহবুবুর রহমান চৌধুরী এবং মরহুম বেগম সায়েরা খাতুনের একমাত্র কন্যা।

 

চুকনগরে বাজেট সভার প্রশিক্ষণ

 

চুকনগর (খুলনা) প্রতিনিধি: চুকনগরে সিএনআরএস উদ্যোগে আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বার্ষিক উন্মুক্ত বাজেট সভার প্রস্তুতি পরিচালনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় পরিষদ মিলনায়তনে প্রশিক্ষণে সভাপতিত্ব করেন আটলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান প্রতাপ রায়। বক্তব্য রাখেন ইউপি সদস্য শেখ শহিদুল ইসলাম, এমএ সালাম, বিএম হাবিবুর রহমান হবি, কামরুল ইসলাম, মোস্তফা সরদার, অসীম বিশ্বাস প্রমুখ। প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন নুরে আযম হায়দারী রাজা।

চুকনগরে আটলিয়া ইউপি’র বাজেট পেশ

 

চুকনগর (খুলনা) প্রতিনিধি: চুকনগরে আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ইউনিয়ন পরিষদের ২০১৮২০১৯ অর্থ বছরের উন্মুক্ত বাজেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল ১১টায় ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন আটলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান প্রতাপ রায়। সভায় বাজেট পেশ করেন  ইউপি সচিব রমেশ চন্দ্র সানা। বাজেটে আগামী অর্থ বছরে কোটি ৯৮ লক্ষ ৫০ হাজার ৬২৬ টাকা আয় এবং কোটি ৯৬ লক্ষ ২৯ হাজার ১শত টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। ইউপি সদস্য বিএম হাবিবুর রহমান হবির পরিচালনায় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক গোপাল কৃষ্ণ সরকার, অজিত সরদার, মিনতি কুন্ডু, আফজাল হোসেন, জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে ল স্টুডেন্টস ফোরামের মতবিনিময়

 

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের সাথে স্টুডেন্টস ফোরামের নির্বাহী কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্টুডেন্টস ফোরামের সভাপতি নাজমুল হকের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। ফোরামের সাধারণ সম্পাদক কাজী সাহাব উদ্দীন সাজুর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন ফোরামের সহ সভাপতি জান্নতুন নাহার, আলমগীর কবীর সুমন, প্রাক্তন সহসভাপতি শেখ মোখলেছুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক বুশরা তাহসিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান, অর্থ সম্পাদক নূর আলী, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল¬াহ আল মামুন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হেলেন সওদাগর, আইন বিষয়ক সম্পাদক দেবাশীষ চক্রবর্তী, নির্বাহী সদস্য কার্তিক চন্দ্র সরকার, বিপ¬ হোসেন, শাহারুন নেছা (সাথী) প্রমুখ। সভায় প্রধান অতিথি বলেন, আইন একটি মহান পেশা। পেশার মাধ্যমে অহসায় নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়। তিনি আরো বলেন, মানুষ যখন অত্যাচারে পড়ে, বিচার পায় না, তখন আইনজীবীদের কাছে আশ্রয় গ্রহণ করে। তখন তাদের উপরকার করাই হলো আইনজীবীদের উদ্দেশ্য। তিনি আগামী দিনের আইনজীবীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, কর্মক্ষেত্রে সততা নিষ্ঠার সাথে কাজ করলে সাফল্য পাওয়া যাবে। জন্য তিনি আইনের সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি না করার পরার্মশ প্রদান করেন। সভায় জেলা পরিষদের চেয়াম্যানের হাতে স্টুডেন্টস ফোরামের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

আজ আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস

 

মো. জাবের হোসেন

আজ পহেলা মে। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। অনেক দেশে দিবসটি লেবার ডে হিসেবে পালিত হয়। শ্রমজীবী মানুষ শ্রমিক সংগঠন সমূহ রাজপথে সংগঠিতভাবে মিছিল শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিবসটি পালন করে। বিশ্বের ৮০টি দেশে পহেলা মে জাতীয় ছুটির দিন। তাছাড়া আরো অনেক দেশে বেসরকারিভাবে দিবসটি পালিত হয়। দিবসটি সকল শ্রমজীবী মানুষদের জন্য অনুপ্রেরণার দিন। মূলত দিবসটি শিকাগো শহরের হে মার্কেটের ম্যাসকারা শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে পালিত হয়। ১৮৮৬ সালের আজকের এই দিনে দৈনিক আট ঘন্টা কাজের দাবিতে শ্রমিকরা সেখানে জমায়েত হয়েছিলো। এরপূর্বে শ্রমিকেরা অমানবিক পরিশ্রম করতো। দিনে রাতে ১০ থেকে ১২ ঘন্টা পরিশ্রম করতে হতো। সপ্তাহে দিন কাজ করতে হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরো দীর্ঘক্ষণ পরিশ্রম করতে হতো। সেদিন সেখানে ঘিরে থাকা পুলিশের উপর অতর্কিত বোমা হামলায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিহত হয় তারপর পুলিশ সদস্যরা শ্রমিকদের উপর গুলি বর্ষণ শুরু করে। এতে বেশ কয়েকজন সাধারণ শ্রমিক সদস্য নিহত হয়।

১৮৮৯ সালে সালে ফরাসী বিপ্লবের শতবার্ষিকীতে প্যারিসে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রেমন্ড লাভিনে প্রস্তাব রাখেন আগামী বছর (১৮৯০ সাল) থেকে বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করার প্রস্তাব দেন। যেটি ১৮৯১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। এরপর ১৮৯৪ সালের মে দিবসের দাঙ্গার ঘটনা ঘটে। ১৯০৪ সালে আমস্টারডামে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে মে দিবস উপলক্ষে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। যে প্রস্তাবে দৈনিক আট ঘন্টা কাজের সময় নির্ধারণের দাবি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বজুড়ে পহেলা মে তারিখে মিছিল শোভাযাত্রা আয়োজনের জন্য আহবান জানানো হয়। এই সম্মেলনে ১লা মে তারিখে সকল শ্রমজীবী মানুষের কাজ না করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই সাথে অনেক দেশে ১লা মে তারিখে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালন করার প্রতি দাবি জানানো হয়।

শ্রমিকদের অবদান বলে শেষ করা যাবে না। দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে তারা এই বিশ্বকে করে তুলেছে সৌন্দর্যময়। মে দিবসের সূত্রপাতের আগে শ্রমিকেরা যেমন অবহেলা শিকার ছিলো এখনো আমরা অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো দেখতে পাই। অনেক জায়গায় শ্রমিকরা এখনো পর্যন্ত তাদের যথাযথ পারিশ্রমিক পায়না। তাদের মূল্যায়ন করা হয়না। তাছাড়া আমরা এখনো দেখতে পাই, কিছু কিছু ক্ষেত্রে শ্রমিকদের ঘন্টার অধিক পরিশ্রম করতে হয়। বিশেষ করে আমরা একটা উদাহরণ দিলে ভালো বুঝতে পারবো। আমাদের দেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করার জন্য মালয়েশিয়ায় যায়। তারা কেউ আমাদের ভাই, বাবা, আত্মীয়স্বজন। আমরা তাদের কাছ থেকে জানতে পারি সেখানে তাদের কী পরিমাণ পরিশ্রম করতে হয়। সেখানে তাদের দিনের বেলা কাজ শেষেও রাতে কাজ করতে হয় অধিকাংশ সময়।

এখনো পর্যন্ত শ্রমিকেরাই বেশি শোষিত হচ্ছে। তাছাড়া আমরা দেখতে পাই আমাদের দেশের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলোতে কর্মীদের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে হয়। তারপর সেখানে আছে তাদের জীবনের ঝুঁকি। তাছাড়া তারা এতো পরিশ্রম করেও যথাযথ পারিশ্রমিক পায়না। আমরা যদি উদাহরণ দিতে যায় তাহলে আমরা বলে শেষ করতে পারবোনা।

শ্রমিকদের সম্মান জানাতে প্রতি বছর এই দিবসটি পালিত হয়ে থােেক অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণভাবে। দিবসটি শ্রমিক শ্রেণির আন্তর্জাতিক সংহতির দিন। বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের বিজয়ের দিন, আনন্দ উৎসবের দিন। দুনিয়ার মজদুর এক হও স্লোগান তুলে নতুন সংগ্রামের শপথ নেয়ার দিন। লেখক: সাংবাদিক সমাজ উন্নয়ন কর্মী

মহান মে দিবস

 

সুদয় কুমার মন্ডল

মে দিবস বিশ্ব শ্রমিক অঙ্গনে এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। অতীব তাৎপর্যপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক সার্বজনীন শ্রদ্ধা প্রকাশের দিন। বঞ্চনা নির্যাতন বৈষম্যের বিরুদ্ধে বীরোচিত সংগ্রাম শ্রমজীবি মানুষের অধিকার আদায়ের রক্তাক্ত স্মৃতি বিজড়িত গৌরবময় দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয়। এদিন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন সভা সমাবেশ এবং র‌্যালির মাধ্যমে শ্রম অধিকার দিবসের সচেতনা বৃদ্ধির চেষ্টা করে। স্লোগানে মুখরিত রাজপথ।

তাৎকালে বুর্জোয়াদের নির্দেশ মত বেঁধে দেওয়া সময় পর্যন্ত শ্রমিকদের (নারী শিশুসহ) কঠোর পরিশ্রম করতে হতো। শিল্প কলকারখানায় প্রতিদিন তাদের ১৬ ঘন্টা পর্যন্ত সময় কাজ করতে হতো। শ্রমিকদের শারিরীক সুবিধা অসুবিধার প্রতি কোন লক্ষ্য না রেখে বরং জোর পূর্বক কাজ আদায় করে নেওয়া হতো। শ্রমিকরা কাজ করতে করতে মারা গেলে বুর্জোয়ারা দায়ী থাকে না। শিল্পপতি বা কল কারখানার মালিকগণ কোন ক্ষতিপূরণ এমনকি সমবেদনা জ্ঞাপন করতো না। শ্রমিকদের বিনোদনের কোন  সুযোগ ছিলো না। তাদের মজুরি এত কম দেওয়া  হতো যে তাদের দিন আনা দিন খাওয়া ছিলো। তাদের দৈহিক নির্যাতন করা হতো। বুর্জোয়াদের অমানবিক নিষ্ঠুরতা বর্বরতা রোধ করার জন্য এবং শ্রমিকদের ন্যায্য মৌলিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ফলে শ্রমিকরা আন্দোলন মুখর হয়ে উঠে। জীবন বিপন্ন করে তারা  তাদের আন্দোলন তীব্র গতিতে অব্যাহত রাখে। বুর্জোয়ারাদের শোষণ দু:শাসন থেকে মুক্তির মানসে শ্রমিকদের বিবেক সচেতনতা উদ্বেলিত করেছিল। নিয়েছিল তারা প্রতিজ্ঞাপরায়ন মনে শক্ত অবস্থান।

উদ্দেশ্যে ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক নেতা স্পীজএর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হয়ে শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বীরোচিত আন্দোলনের ডাক দেয়। তাদের মৌলিক দাবি ছিলো যথা :-

মিল, কলকারখানাগুলোতে শ্রমিকদের দৈনিক ১৬ ঘন্টার স্থলে ঘন্টা শ্রম নির্ধারণ।

চাকরি শেষে এককালীন আর্থিক অনুদান প্রদান। জীবন জীবিকা নির্বাহের জন্য নূন্যতম মজুরী প্রদান।

শ্রমিকদের আইনগত নিরাপত্তা স্বাস্থ রক্ষা সংক্রান্ত।

শিশু শ্রম বিলোপ। শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ। সপ্তাহিক এক কর্মদিবস পরিপূর্ণ ছুটি নির্ধারণ।শ্রমিক সংগঠন অনুমোদন। কালেকটিভ বারগেইনিংসহ বিভিন্ন যৌক্তিক আইনগত অধিকারের দাবি ক্রমে ক্রমে শ্রমিক আন্দোলনের গতি অধিকতর তীব্র বেগবান করে তুলেছিলো। এক পর্যায়ে ১৮৮৬ সালে মে সন্ধ্যয় শিকাগোর হে মার্কেটে হঠাৎ আন্দোলনরত বিক্ষুব্ধ জনতার উপর অতর্কিত বোমা বিস্ফোরিত হয়। ফলে আন্দোলনকারীরা অনেকে হতাহত হয়। পুলিশও আন্দোলনকারীদের মধ্যো সংঘর্ষ বাধে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে আন্দোলনরত শ্রমিক জনতার উপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। ফলে ১১ জন শ্রমিক পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলে মারা যায় এবং অসংখ্য লোক হতাহত হয়। শ্রমিক পুলিশ ভীষণ সংঘর্য হয়। শ্রমিকরা কিছু পুলিশ হত্যা করে। চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। সংগ্রামী অকুতোভয় জনতা পিছু হটেনি। ১৮৮৭ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন শাসক কর্তৃক পুলিশ হত্যার অভিযোগে শ্রমিক নেতা স্পীজসহ জন অভিযুক্ত হয় এবং জনের প্রকাশ্যে ফাঁসি কার্যকর করা হয়। অবস্থা যদিও বেগতিক তবুও বিভিন্ন রাজনেতিক সংগঠন শ্রমিক আন্দোলনে শরীক হয়ে তাদের সহযোগিতা করেছিলো। ১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দে ১৪ জুলাই প্যারিসে অবস্থিত সমাজতন্ত্রীদের ঐকান্তি প্রচেষ্টায় দ্বিতীয় আর্ন্তজাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে পহেলা মে আর্ন্তজাতিক শ্রম দিবস হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতি ক্রমে গৃহিত হয়।

১৮৯০ খ্রি: প্রথম মে দিবস বা আর্ন্তজাতিক শ্রম দিবস পালন (ওখঙ) আই এল কর্তৃক দৈনিক ঘন্টা কাজের দাবিকে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। অন্যান্য দাবিগুলোও পর্যায়ক্রমে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। ফলে বিশ্বে শ্রমিকদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়।

১৮৯৩ সালের ২৬ জুন ইলিনয়ের গর্ভনর কর্তৃক জনকে নিরাপরাধ বলে স্বীকার শ্রমিকদের উপর হামলাকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করা হয় এবং তাদের যাবতজীবন নির্বাসন দেওয়া হয়।

অত:পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মে দিবস পালন করতে শুরু করে। ১৮৯০ সাল থেকে বিশ্বের প্রায় ৮০টির মতো দেশে পহেলা মে জাতীয় ছুটির দিন হিসাবে পালন করে। বঙ্গ দেশে ১৯৩৮ সালে নারায়নগঞ্জে মে দিবস পালিত হয়। পহেলা মে উপলক্ষে তৎকালিন পাকিস্থান আমলেও মে দিবস পালিত হয়। ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশে সরকারিভাবে ছুটি ঘোষণায় মে দিবস পালিত বা উদ্যাপিত হয়।

ভারতে মে দিবস পালিত হয় ১৯২৩ সালে মাদ্রাজে। যুক্তরাষ্ট্র কানাডা মে দিবস পালন না করে শ্রম দিবস পালন করে সেপ্টেম্বরের ১ম সোমবার।  হয়তো এর ভিতরে কোন অন্তর্নিহিত তাৎপর্য বিরাজমান।

সর্বোপরি পহেলা মে আর্ন্তজাতিক শ্রম দিবস হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত। বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশে মে দিবস পালন উপলক্ষে রাজনৈতিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান সমূহ স্ব উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এবং শ্রদ্ধাভরে দিনটি উদযাপন করে। শহীদ শ্রমিকদের উদ্দেশ্য যাবতীয় কর্মবিরতি পালন করে। প্রাণ উৎসর্গকৃত জীবনের স্মরণে প্রতিবছর ১মে সারাবিশ্বের শ্রমিকরা অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মুখর হয়ে দিনটি উৎযাপন করে।

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আর্ন্তজাতিক স্বৃকৃতির ফলশ্রুতি স্বরুপ বিশ্ব শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে পায়। তাই মহান মে দিবস নি:সন্দেহে প্রশংসনীয়। সমগ্র বিশ্বের শ্রমিকদের নিকট দিনটির তাৎপর্য অপরিসীম।

ওখঙ আর্ন্তজাতিক সংগঠন এমন একটি সংস্থা যা যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হয়। শ্রমিকদের ন্যয্য দাবি দাওয়া সংক্রান্ত বিষয় আন্তর্জাতিক  পর্যায় আলোচনা, পর্যালোচনা সিদ্ধান্ত প্রদান এই সংগঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিলো। ১৯৩টি দেশের মধ্যে ১৮৭ সদস্য বিশিষ্ট আর্ন্তজাতিক শ্রমসংগঠন কমিটি গঠিত হয়। এই সংস্থাটির উদ্দেশ্য ছিলো শ্রমিকদের স্বার্থে কাজ করা এবং তাদের ভাগ্য উন্নয়ন করা। পরিচালনা কমিটির কর্ম পরিকল্পনা করার সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা ছিলো। প্রোক্ত কমিটির ডাইরেক্টর বা পরিচালক নির্ধারিত সদস্যের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়। তিনি অন্যন্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত দিতেন।

এই কমিটি ২৮ জন সরকারী প্রতিনিধি ১৪ জন প্রতিনিধিত্বমূলক কর্মচারী, ১৪ জন শ্রমিক প্রতিনিধি আরো চার জন প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত হয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলন জেনেভা শহরে অনুষ্ঠিত হয়। এই সংস্থাটি ১৯৬৯ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কৃত হয়। আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে শ্রম আইন প্রাধান্য পায়। শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়। বিশ্ব শ্রমিকরা তাদের দূর্দশার দিনগুলির অবসান ঘটিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে উন্নত জীবন যাপনের পথ প্রশস্থ হয়।

পরিশেষে ১৮৮৬ সালের ১মে শ্রমিকদের দাবির বিনিময় প্রাণোৎসর্গীকৃত সে সব শ্রমিকদের মহান স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা অভিনন্দন। লেখক: সহকারী সম্পাদক, দৈনিক পত্রদূত সাতক্ষীরা।

 

মহান মে দিবসের ভাবনা

প্রকাশ ঘোষ বিধান

মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম আর সংহতির দিন মে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শ্রমিকের শ্রমের মর্যদা অধিকার বাস্তবায়নের দাবিতে চেতনা জাগ্রত হয়ে ওঠার দিন। মেহনতী মানুষের ঘামে, রক্তে শ্রমের অধিকারের বৈপ্লবিক অনুভব সঞ্চারিত হয়। মে দিবসে লাল পতাকার বিশাল বিশাল মিছিল। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত রাজপথ। দুনিয়ার মজদূর এক হও। শ্রমিকের মর্যাদা সংগ্রাম আর সংহতির দিন হিসেবে মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালিত হয়।

শ্রমকে ভিত্তি করে সভ্যতার সূচনা হলেও শুরু থেকে শ্রমিকের মর্যাদা বলে কিছুই ছিল না। শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষের অবস্থা ছিল খুব নাজুক। শ্রমিকদের নাম মাত্র মজুরী দিয়ে মালিকরা ইচ্ছামত কাজ করাতো। তাদের কাজের কোন নির্দিষ্ট কর্ম ঘন্টা ছিল না। এর প্রতিবাদ করলে মালিকরা চালাতো নির্যাতন। শ্রমিকদের ১৮ থেকে ২০ ঘন্টা কাজে লাগিয়ে মালিকরা টাকার পাহাড় গড়ে তোলে। সময় শ্রমিকরা সংগঠিত ছিল না। বিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন করে তারা ক্ষতি নির্যাতনের শিকার হতো। ১৯ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে আমেরিকায় শিল্প কারখানা গড়ে ওঠায় নব্য পুজিপতির উদ্ভব ঘটে। ক্রমন্বয়ে তাদের ভয়ঙ্কর চেহেরা উন্মেচিত হয়। এর বিরুদ্ধে শ্রমিকদের আন্দোলন জোরদার হতে থাকে। আমেরিকার শহরে সর্বস্তরের শ্রমিকরা সংঘবদ্ধ হতে থাকে। আমেরিকা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শ্রমিক সমিতি ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তুলতে লাগল। শ্রমের নায্য মজুরী ঘন্টা কর্ম সময়ের দাবিতে আন্দোলন জোরদার হতে থাকে। ১৮৮৪ সালে আমেরিকার লেবার ফেডারশেন ঘন্টা কাজের দাবিকে জোরদার করে তোলে। মালিকরা দাবি না মানলে অনির্দিষ্টকাল ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ১৮৮৬ সালে মে ধর্মঘট পালনের তারিখ নির্ধারিত হয়। সকল শ্রমিক সংগঠন ধর্মঘট পালনের একাত্মতা ঘোষণা করে। মালিকপক্ষ শ্রমিকদের আন্দোলন নস্যাৎ করতে অত্যাচার, হত্যা, গুম করার পথ বেছে নেয়। মে ধর্মঘটের দিনের পূর্বে এপ্রিল মিসিসিপির এক কারখানা শ্রমিককে হত্যা করে লাশ মিসিসিপি নদীর তীরে ফেলে রাখে। এতে আন্দোলন জলে ওঠে। ১৮৮৬ সালে মে আন্দোলন চরম অবস্থায় পৌছায়। আমেরিকার শিকাগো শহরে হে মার্কেটের জুতার কারখানার শ্রমিকগণ রাস্তায় নেমে ধর্মঘটে একাত্মতা ঘোষণা করে। মালিকদের পোষা গোন্ডাদের দিয়ে ধর্মঘটি শ্রমিকদের উপর আক্রমন চালাতে থাকে। আন্দোলন প্রতিহত করতে মে হে মার্কেটে আহত ধর্মঘটি শ্রমিক সমাবেশে লেলিয়ে দেওয়া পুলিশের গুলিতে শ্রমিক নিহত হয়। এর প্রতিবাদে মে হাজার হাজার শ্রমিক বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। মে প্রতিবাদ সমাবেশে পুলিশ আবারো গুলি চালায়। এতে শ্রমিক নিহত হয়। সমাবেশে শ্রমিক নেতা পার্সন্স ন্সাইজ বক্তৃতা করেন। প্রতিবাদ সমাবেশ চলাকালে প্রবল বৃষ্টির কারণে সভাস্থল থেকে লোকসমাগম কমতে থাকে। সুযোগে কুখ্যাত এক পুলিশ অফিসারের নেতৃত্বে ১৮০ জনের পুলিশ বাহিনী সভাস্থলে পৌছায়। পুলিশের প্রতি বোমা হামলার অভিযোগ এনে পুলিশ সমাবেশে গুলি চালায়। এতে ৫জন নিহত শতশত লোক আহত হয়। পুলিশ শ্রমিকদের গ্রেপ্তার দমন পীড়ন নির্যাতন শুরু করে। আন্দোলন গড়ে তোলার অপরাধে শ্রমিকের বিচার করা হয় এবং কয়েক জনের মৃত্যুদকার্যকর করা হয়। শ্রমিক নেতা হলেন এ্যালবাট পার্সস, আগাস্টাস স্পাইজ, স্যামুয়েল ফিভেন, মাইকল শোয়াব, জর্জ এঞ্জেল, লুই লিঙ্গ, অ্যাডাল ফিফার ওস্কার নিব। বিচারের নামে প্রহসনের মাধ্যমে পার্সন্স, স্পাইজ, জর্জ এঞ্জেল ফিফারের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ফাঁসির আগের রাতে লুই লিঙ্গ আত্মহত্যা করে ১৮৯৩ সালের ২৬ জুন ইলিনবের গভর্নর অভিযুক্ত শ্রমিক নেতাকে নির্দোষ বলে ঘোষণা দেন এবং পুলিশ অফিসারকে দোষী সাব্যস্থ করেন। এভাবে প্রাণের বিনিমিয়ে শ্রমিক শ্রেণি দৈনিক ঘন্টা শ্রমের অধিকার আদায় করে।

১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারীসে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রতিবছর ১লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক ঐক্য ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ সারা বিশ্বে মে দিবস পালতি হচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে দেশে সরকারীভাবে দিবসটি পালন হচ্ছে। শ্রমিকের নির্দিষ্ট শ্রম ঘন্টা, নুন্যতম মজুরী, বেতন বৈষম্য দুর করার দাবিতে আন্দোলন চলছে। এখন উন্নত দেশে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা, সম্মানজনক হলেও উন্নয়নশীল দেশের শ্রমিকদের ভাগ্য বদল হয়নি। বাংলাদেশ জেনেভা কনভেশনে স্বাক্ষর করে শ্রমজীবীদের অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু তা মানা হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক ও সাংবিধানিক আইন আমান্য করে শিশু শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। ৭৫ ভাগ নারী শ্রমিক দেশে তৈরী পোশাক শিল্পে কাজ করছে। তারা বেতন বৈষম্যসহ নানা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। কারখানায়  দুর্ঘটনার শিকার হয়ে শ্রমিকরা আহত ও প্রাণ হারাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে তাদের সম্মানজনক ক্ষতি পূরণ দেওয়া হয় না। শ্রমিক শ্রেণির স্বার্থ রক্ষায় আইন আছে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। মে দিবসে অনুষ্ঠানে নেতাদের বক্তৃতায় প্রতিশ্রুতি শোনা যায়। আজ মে দিবসে কোথাও শ্রমিক শ্রেণি আন্দোলন সংগ্রামের হাতিয়ার হিসাবে, আবার কোথাও আনন্দ উল্লাসে দিবসটি পালিত হচ্ছে। শ্রমিক শ্রেণির অধিকার বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি কোন পক্ষেই যথেষ্ট আন্তরিক না। এ কারণে শ্রমিকদের ভাগ্য বদল হয় না। মহান মে দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক শ্রমজীবী মানুষের অধিকার সমতার ভিত্তিতে এনে মানবতার ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠা করা। সরকার ও সংশ্লিষ্টদের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার সমন্নত রাখতে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ও শ্রমজীবীদের সম্মানজনক অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার জন্য চাই ঐক্য। জয় হোক মেহনতি মানুষের, মানবতার জয় হোক।