যশোরে দুই পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা


প্রকাশিত : এপ্রিল ৩, ২০১৮ ||

 

যশোর প্রতিনিধি: যশোরের অভয়নগরের বাশুয়াড়ি পুলিশ ক্যাম্পের দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি মামলা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন এসআই ফরিদ আহম্মেদ ও এএসআই খাদেমুল গফফার। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. মিজানুর রহমান অভিযোগ আমলে নিয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ১০ এপ্রিল ধার্য করেছেন। রোববার অভয়নগরের ইছামতি গ্রামের হাজী কাইয়ুম মোল¬ার ছেলে আবুল কালাম মোল¬া মামলাটি করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আবুল কালাম  মাদকসেবী ছিলেন। মাদকের ব্যবসাও করতেন। গত ৩০ জানুয়ারি তিনি মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনের ফিরে আসার জন্য যশোরের পুলিশ সুপারের কাছে একটি আবেদন করেন। তার এ আবেদন গৃহিত হয় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে।

তিনি অভিযোগ করেন, মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ায় স্থানীয় বাশুয়াড়ি পুলিশ ক্যাম্পের কথিত ক্যশিয়ার তাকে টাকার জন্য হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়ান। টাকা দিতে অস্বীকার করলে ক্যাম্পের পুলিশ তাকে নানাভাবে হুমকিও দেন। ক্যাম্পের এএসআই খাদেমুল গফফার তাকে লোক মারফত ও ফোন করে দেখা করতে বলেন। তার সঙ্গে দেখা না করায় চরমভাবে ক্ষিপ্ত হন এএসআই খাদেমুল। এক পর্যায়ে কালাম মোল¬ার কাছ থেকে মাসোহারা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তার ভাই তরিকুল ইসলামকে ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যান এএসআই খাদেমুল গফফার। তরিকুলের কাছ থেকে ৩২ কেজি গাঁজা, ৫০০ গ্রাম হেরোইন ও ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে আবুল কালামকে জানানো হয়। এএসআই খাদেমুল গফফার দ্রুত তার সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে বলেন। এসআই ফরিদ আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনিও একই কথা বলেন।

ঘটনা শুনে তরিকুলের স্ত্রী রোকসানা খাতুন ক্যাম্পে গিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। এক পর্যায়ে তারা ৫০ হাজার টাকা জোগাড় করে দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে। শুধু টাকা নিয়েই ক্ষ্যান্ত হননি এএসআই খাদেমুল গফফার। ‘মামলা হবে না’ বলে আশ্বাস দিয়ে রোকসানা খাতুনের গলার সোনার চেন ও কানের দুল খুলে নেন। টাকা ও গহনা নেওয়ার পরও তরিকুল ইসলামকে মাদক মামলায় আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়ে দেন ওই দুই পুলিশ কর্তকর্তা।

মামলার অভিযোগে আরো উলে¬খ করা হয়েছে, পুলিশের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের রেকর্ড রয়েছে তাদের কাছে। এ বিষয়টি জানতে পেরে ওই দুই কর্মকর্তা আবুল কালামকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন।

আবুল কালাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বাশুয়াড়ি পুলিশ ক্যাম্পের কর্মকর্তা এসআই ফরিদ আহম্মেদ ও এএসআই খাদেমুল গফফারের বিরুদ্ধে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তদের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। মোবাইল ফোনে কথোপকথনের রেকর্ডিং করায় তারা চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয়েছেন। মোবাইল ডকুমেন্ট ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশের কথিত সোর্স ইমরুলকে বাড়িতে পাঠান ওই দুই কর্মকর্তা।

‘ইমরুল বাড়িতে এসে আমাকে না পেয়ে রেকর্ডিং ফেরত ও ৩০ হাজার টাকা দিলে পুলিশ আর হয়রানি করবে না বলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জানিয়ে চলে যায়। মামলার বাদী দাবি করেন বর্তমানে তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশের ভয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ।