একাদশ সংসদ নির্বাচন: কেশবপুরে ইসমাত আরা সাদেকের সাথে জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা


প্রকাশিত : এপ্রিল ৬, ২০১৮ ||

এমএ রহমান, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে আওয়ামী লীগ শক্ত অবস্থানে থাকায় এবং বিএনপি তাদের শরীক জামায়াতের উপর নির্ভরশীল হওয়ায়, একাদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনে নৌকার প্রার্থীর সাথে জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বীতার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের ইসমাত আরা সাদেক এবং জামায়াতের অধ্যাপক মুক্তার আলী নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন। অন্যদিকে দ্বিধাবিভক্ত বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী আবু-সামাদ সুযোগ বুঝে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। এর বাইরে এড. আব্দুল মজিদ জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ভোটারদের সাথে গণসংযোগ করছেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৯০-যশোর-০৬ (কেশবপুর) আসনে সাধারণ ভোটারদের মাঝে নির্বাচনী আমেজ তৈরী হয়েছে। উপজেলা শহর ছাড়াও এলাকার বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজারের চায়ের দোকানগুলোয় সাধরণ ভোটাররা দলীয় প্রার্থীদের নিয়ে করছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আলোচনায় প্রধান্য পাচ্ছে আওয়ামী লীগের ইসমাত আরা সাদেক ও জামায়াতের অধ্যাপক মুক্তার আলীর নাম।
কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬’র সংসদ নির্বাচনে এই আসনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব এএসএইচকে সাদেক-কে নৌকার টিকিট দেয়া হয়। তিনি তাঁর প্রজ্ঞা, মেধা ও শ্রম দিয়ে ধীরে ধীরে কেশবপুরের মাটি নৌকার ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলেন এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের এক কাতারে আনতে সক্ষম হন, ফল হিসেবে নৌকার জয় হয়। ঐ সময় আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তিনি শিক্ষামন্ত্রী হন। তিনি কেশবপুরে ব্যাপক উন্নয়ন ও ঘরে ঘরে চাকরির ব্যবস্থা করে গণমানুষের নেতা হয়ে উঠেন। এ ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি নৌকার প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন।
১/১১ সরকারের সময় ২০০৮ সালের নির্বাচনে কেশবপুর-অভয়নগর মিলে ৯০-যশোর-০৬ সংসদীয় আসন গঠন হয়। এ সময় মরহুম সাদেক এর সহধর্মিনী ইসমাত আরা সাদেকের আগ্রহে নৌকার টিকিট নিয়ে আসেন অভয়নগর উপজেলার অধ্যক্ষ শেখ আব্দুল ওয়াহাব। ইসমাত আরা সাদেক আওয়ামী লীগের সকল নেতাদের সাথে নিয়ে প্রয়াত স্বামী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী সাদেকের স্বপ্ন বাস্তবায়নের কথা বলে উপজেলার গ্রামে গ্রামে নৌকার ভোট প্রার্থনা করেন। ফলে, কেশবপুর এলাকার ৪’দলীয় জোটের বিএনপি প্রার্থী (ধানেরশীষ) আবুল হোসেন আজাদকে প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে আব্দুল ওয়াহাব আওয়ামী লীগের এমপি নির্বাচিত হন।
২০১৪ সালে সংসদীয় আসনে আবার পরিবর্তন আসে। যশোর-০৬ আসন থেকে অভয়নগর উপজেলা বাদ পড়ে। এ নির্বাচনে সাদেক পরিবাবের ইমেজে ইসমাত আরা সাদেক নৌকার টিকিট নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। নৌকা বিজয়ের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন থাকায় তিনি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব¡ পান। তিনি কেশবপুর আওয়ামী লীগের ত্যাগী-নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে প্রয়াত স্বামী সাদেকের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেশবপুরের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ও নৌকার ঘাঁটি অটুট রাখার জন্য নৌকার অন্যতম দাবীদার ইসমাত আরা সাদেককে অনানুষ্ঠানিকভাবে একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুততি নেয়ার কথা বলায় তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামে-গ্রামে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে সাধারণ ভোটারদের সাথে উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে গ্রামীন জনপদেও সার্বিক খোঁজ-খবর ও নৌকায় ভোট দেয়ার আহবান জানাচ্ছেন।
এ দিকে, ২০০১ সালে হাইব্রীড নেতা আবুল হোসেন আজাদ কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হওয়ার পর থেকে নেতাকর্মী শূন্য হয়ে পড়ে কেশবপুর বিএনপি। নেতৃত্ব ও মূল্যায়নের অভাবে কেশবপুর তৃণমূল বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ নেতাকর্মী ও সমর্থক বিশেষ করে মহিলা ভোটাররা প্রত্যক্ষ/পরোক্ষভাবে জামায়াতের সদস্য হয়ে জামায়াতের তহবিলে নিয়মিত মাসিক টাকা দিচ্ছেন। কেশবপুর জামায়াতের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় ৪২০০০ সদস্য দলীয় তহবিলে নিয়মিত মাসিক টাকা জমা করেন। প্রমানস্বরূপ তারা গত উপজেলা নির্বাচনের উদাহরণ টানেন। জামায়াত প্রার্থী মাস্টার আব্দুস সামাদ, বিএনপি’র আজাদপন্থী আর এক হাইব্রিড নেতা সাধারণ সম্পাদক এড. বদরুজ্জামান মিন্টুর চেয়ে প্রায় ১৫হাজার ভোট বেশী পেয়ে দ্বিতীয় আর বিএনপি’র স্থান হয় তৃতীয়। এই সূত্রটি আরও দাবি করেন, বিএনপির দুর্বল নেত্বত্বের ফসল এখন জামায়াতের ঘরে। তাছাড়া, সাধারণ ভোটরদের মূল্যায়ন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল থাকায় জামায়াতের মহিলা ভোট ক্রমশ: বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে কারণে, আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর সাথে জামায়াত প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে।
যশোর-০৬-কেশবপুর আসনে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী কেশবপুর কলেজের সাবেক ইংরেজী অধ্যাপক মো. মোক্তার আলী একাদশ সংসদ নির্বাচনে তাঁর প্রার্থীতার বিষয়ে জানান, কেন্দ্রের এ’প্লাস সিগনাল পেয়ে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন। কেশবপুরে ২০দলীয় জোট থেকে তাকেই চুড়ান্ত প্রার্থী করা হবে বলে জোর দিয়ে বলেন। প্রতিক কি হবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, দলীয় প্রতিক না পেলে, স্বতন্ত্র প্রতিক নিয়েই জামায়াত প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন।
এদিকে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যশোর জেলা বিএনপির সহসভাপতি চেয়ারম্যান আবু বকরর আবু, পৌর বিএনপি’র সভাপতি সাবেক মেয়র আব্দুস সামাদ বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আবুল হোসেন আজাদের নাম শোনা গেলেও আবু বকর আবু ও সামাদ বিশ্বাস ছাড়া বাকীরা নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হননি।
কেশবপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এড. আব্দুল মজিদ ও বর্তমান উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ রানা নিজেদেরকে সম্ভাব্য সংসদ প্রার্থী হিসেবে এলাকায় প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।
কেশবপুর উপজেলার সরকারি ওয়েভ সাইটসূত্রে জানা গেছে, ১৪৪টি গ্রাম নিয়ে ৯০-যশোর-০৬ (কেশবপুর) সংসদীয় আসন গঠিত। এ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ১লক্ষ ৭৪হাজার ৩৩৫জন। এর মধ্যে, পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৮৭হাজার ২১১জন ও মহিলা ভোটার সংখ্যা-৮৭হাজার ১২৪জন। মোট পরিবারের (খানা) সংখ্যা ৬২হাজার ৩০৯টি।