স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদন্ড, রায় ঘোষণার পূর্বে আসামীর পলায়ন


প্রকাশিত : এপ্রিল ৬, ২০১৮ ||

 

বদিউজ্জামান: শ্যামনগরে স্ত্রী সালমা খাতুনকে হত্যার দায়ে স্বামী কামরুল ঢালীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার আদেশসহ ৫০ হাজার জরিমানা করেছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল। বৃহস্পতিবার দুপরে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক হোসনে আরা আক্তার এ রায় প্রদান করেন। একই সাথে এ মমালায় বাকী তিন আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত। এদিকে, এ ঘটনায় সাজা ও  খালাসপ্রাপ্ত আসামীরা আদালতে হাজিরা দিয়ে রায় ঘোষণার পূর্বেই সাংবাদিকদের উপস্থিতি এবং রায় বিপক্ষে যেতে পারে আচ করতে পেরে আদালত এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী কামরুল ঢালী (৩৫) শ্যামনগর উপজেলার মীরগাং গ্রামের মৃত বাক্কার ঢালীর ছেলে। খালাসপ্রাপ্ত আসামীরা হল, মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত কামরুল ঢালীর বোন মলিদা খাতুন, ভগ্নিপতি নাজির গাজী ও চাচাতো ভাই মাহমুদ ঢালী।

মামলার বিবরণে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার চুনকুড়ি গ্রামের সুন্নত আলী মোল্যার মেয়ে সালমা খাতুনের সাথে ২০০৫ সালে একই উপজেলা মীরগাং গ্রামের কামরুল ঢালীর ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে কামরুল ঢালী তার শ্বশুর বাড়ি থেকে ১০ হাজার টাকা মূল্যের একটি কাঠের তৈরী নৌকা নেয়। বিয়ের এক বছর পর তাদের একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়, যার নাম সিয়াম আহম্মেদ। এর পরও প্রায়ই কামরুল ঢালী তার স্ত্রীকে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করতো। এরই জের ধরে ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই দুপুরে কামরুল ঢালী তার স্ত্রীকে ঘরের দরজা আটকানোর হাক দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। এক পর্যায়ে সে তার স্ত্রী সালমা খাতুনের মুখে শাড়ি ঢুকিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে দেয়। পরে, নিহতের স্বামী কামরুল ঢালী তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে মর্মে ওসিকে দেয়া তথ্য মতে ওই দিনই শ্যামনগর থানায় ২২/৯ নম্বর একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। যার তদন্ত দেয়া হয় পিএসআই শেখ ওহিদুজ্জামানের উপর। এদিকে, সালমা খাতুনের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে তার পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের ভাই রাশেদুল মোল্যা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একই বছরের আগস্ট মাসের ১৭ তারিখে নিহতের স্বামী কামরুল ঢালীকে প্রধান আসামী করে চার জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয় শ্যামনগর থানার এসআই অনিমা রানী দাসকে। তিনি দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১০ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি এ মামলায় চার আসামীর বিরুদ্ধে সালমা খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(ক)/৩০ ধারায় আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। কিন্তু বিচারক মামলাটির অভিযোগ গঠনের দিন ধারা পরিবর্তন করে ১১(ক)/৩০ ধারায় চার্জ গঠন করেন।

মামলার নথি, সুরোতহাল রিপোর্ট ও মেডিকেল রিপোর্টসহ ১১ জন সাক্ষীর জবানবন্দি পর্যালোচনা শেষে বিচারক বৃহস্পতিবার দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে এক নম্বর আসামী কামরুল ঢালীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার আদেশসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অপরদিকে, নির্দোষ প্রমানিত হওয়ায় বাকী তিন আসামীকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।

মামলায় আসামীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সাবেক পিপি এড. আবু বক্কর ছিদ্দিক। অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিশেষ পিপি এড. জহুরুল হায়দার বাবু এবং তাঁকে সহযোগিতা করেন, এড. নাদিরা আক্তার। রাষ্ট্র পক্ষ থেকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।