তালায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৪

তালা (সদর) প্রতিনিধি: তালায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৪জন আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সকাল ৮টার তালা জাতপুর বাজার নামক স্থানে। গাড়ীতে থাকা প্রত্যক্ষদর্শি তালা জালালপুর ইউনিয়নের উজ্জল দত্ত জানায়, পাইকগাছা-খুলনাগামী ঢাকা মেট্রে-জ -৪৭৯৯ লোকালবাস জাতপুর বাজারের আগে সমকাল স্কুলের বিট পার হওয়ার সময় বাসটির ব্রেক ফেল করে। দ্রুতগতিতে গাড়ীটি বাজারে দাঁড়িয়ে থাকা ইজিবাইকে ধাক্কা দিলে ইজিবাইকটি একটি ইঞ্জিনভানে ধাক্কা দেয়। ইজিবাইকে থাকা ড্র্রাইভারসহ ২আরোহী মারাত্মক আঘাত পায় এবং ইঞ্জিনভানের ড্রাইভার আহত হয়। আহত লোকদের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোসলেম উদ্দিনের নেতৃত্বে তালা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ৪ জনের মধ্যে ১ জন তালা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। আহতরা হলেন, তালা জালালপুর ইউনিয়নের মনোরঞ্জন অধিকারীর স্ত্রী মল্লিকা অধিকারী (৫০) এবং ছেলে মৃত্যুঞ্জয় অধিকারী (৩৫), ইজিবাইক চালক রুহুল আমিন (২৩) ডুমুরিয়া-খুলনা এবং মটরভ্যান চালক শ্যামল দাস (৩৫)। জাতপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই নাজমুল হুসাইন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তালা উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ।

শহরতলীর মাগুরায় ব্যক্তি মালিকানার সম্পত্তি দখল করলো সড়ক ও জনপদ

নিজস্ব প্রতিনিধি: বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্বেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ পূর্ব নোটিশ না দিয়েই ব্যক্তি মালিকানা সম্পত্তি ব্যবহার ও ভাংচুর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে থাকা পণ্য সামগ্রী লুটপাট হয়েছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পরিবারটি। সাতক্ষীরা-খুলনা সড়কের মাগুরা গোপিনাথপুরে মেইন রাস্তার পাশের্^ ব্যক্তি মালিকানা সম্পত্তিতে সড়ক ও জনপদ বিভাগ ৫ফুট চওড়া ও ৬ফুট গর্ত করে মাটি কেটে ব্যক্তি মালিকানা সম্পত্তি ফেলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উক্ত সম্পত্তির খাজনা রশিদ মোতাবেক ১৪২২ সন পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, সদর উপজেলার মাগুরা গ্রামে মো. সুলতান ইসলাম ও মোছা. নাজমা ইসলামের নামে মেইন সড়কের পাশের্^ ৭শতক জমি আছে। উক্ত জমির এস,এ খতিয়ান নং- ১৫৯/১, দাগ নং- ৫০৬ ও মৌজা- মাগুরা। সড়ক ও জনপদ বিভাগ উক্ত রাস্তার পাশের্^ ব্যক্তি মালিকানা সম্পতিতে ৫ফুট চওড়া ও ৬ফুট গর্ত করে মাটি কেটে ব্যক্তি মালিকানা সম্পত্তি ফেলেছে এবং মাহিন্দ্রা শ্রমিক ও একটি সাইকেল মিস্ত্রির দোকান ভাংচুর করা হয়েছে। হাইকোর্ট এর এ্যাপ্লিকেশন ফর ইনফরমেশন এর ৬৭/৩/৫৮৫৯ স্মারক নং সূত্রে জানা যায় এসএ খতিয়ান নং- ১৫৯/১, দাগ নং- ৫০৬ ও মৌজা- মাগুরার ৭শতক জমি একর (হুকুম দখল) করা হয়নি।
জমির মালিক মো. সুলতান ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ঐ সম্পত্তি একর (হুকুম দখল) করা আছে। কিন্তু কোন কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। সড়ক ও জনপদ বিভাগের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

গ্রাম-গ্রামান্তরে আলো ছড়াচ্ছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার

আসাদুজ্জামান সরদার: অনেক দিন পর প্রবাসী মেয়ে-জামাইয়ের মুখোচ্ছবি দেখে আনন্দে আপ্লুত হলেন মুজিবর রহমান। তাদের সাথে আলাপচারিতা শেষে হাসি মুখে ফিরলেন বাড়িতে। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ১২নং মৌতলা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে ইচ্ছে হলেই মেয়ে-জামাইয়ের সাথে ভিডিও কলে কথা বলেন তিনি। মুজিবর রহমানের বাড়ি পশ্চিম মৌতলায়। তার মেয়ে-জামাই থাকে ইতালির রোমে। তিনি মেয়ে-জামাতার সাথে কথা বলতে প্রায়ই আসেন মৌতলা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে। ভিডিও কলের মাধ্যমে শোনেন তাদের কথা, বলেন বাড়ির খবর।
তিনি বলেন, এখানে বসে মেয়ে-জামাইকে দেখে খুব ভাল লাগে। সেখানে যাওয়ার পর মেয়ের বাচ্চা হয়েছে। নাতি তুলতুলে গালে আধো আধো গলায় আমার সাথে কথা বলে। শুনে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। আগে এই সুযোগ ছিল না। এখন সবকিছু ডিজিটাল হয়ে গেছে।
শুধু মুজিবর রহমান নয়, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে প্রতিদিন হাজারো সেবা গ্রহণ করছেন সীমান্তবর্তী সাতক্ষীরা জেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে রঘুনাথ মহালদার অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি তার জমির কাগজপত্র উঠাবেন। রধুনাথ মহালদার জানান, আগে জমির পর্চার জন্য বিভিন্ন অফিসে ছুটতে হতো। কিন্তু অনলাইনের মাধ্যমে কোন প্রকার হয়রানি এবং ঘুষ ছাড়া খুব সহজেই এখন জমির পর্চা তোলা যায়। আর ইউনিয়ন পরিষদে ডিজিটাল সেন্টার হওয়ায় এখন শহরে যাওয়া লাগে না। সাতক্ষীরার সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী আগড়দাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহজাহান আলী। তার ভাইয়ের মেয়ে ও জামাতা থাকেন সিঙ্গাপুরে। মোবাইল সম্পর্কে ভালো ধারণা না থাকায় মেয়ে-জামাতার সাথে যোগাযোগ করতে তাকে আসাতে হয় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে। তিনি বলেন, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার হয়ে আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। আগে মেয়ে-জামাইয়ের সাথে যোগাযোগ করতে হলে সাতক্ষীরা শহরে যেতে হতো। শ্যামনগরের উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের আবু সাইদ নামে এক তরুণ জানান, এসএসসি পরীক্ষা শেষ। এখন স্কুলে যেতে হচ্ছে না। তাই ইউনিয়ন পরিষদের ডিসিটাল সেন্টারে কম্পিউটার শিখছি। শুনেছি এখান থেকেই কলেজে ভর্তির আবেদন করা যায়। একই ইউনিয়নের শাহরিয়ার ইমতিয়াজ পলক বলেন, আগে হাতে চাকরির আবেদন করতে নানা ঝামেলায় পড়তে হতো। চালানের মাধ্যমে টাকা দিতে হতো। তারপরও বাড়ি প্রবেশপত্র আসতো না। এখন অনলাইনে আবেদন, আর এসএমএস-এ টাকা দেওয়া হয়। কত ঝামেলা যে কমেছে বলার অপেক্ষা রাখে না। বাড়ির পাশে ইউনিয়ন পরিষদ। যখন দরকার, চলে আসি। ঝামেলা শেষ। তিনি বলেন, দেশ অনেক এগিয়ে যাচ্ছে, ডিজিটাল হচ্ছে। তার প্রমাণ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। এখানে আসলে বোঝা যায় হয়রানি ছাড়াই মানুষ সেবা পাচ্ছে।
মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা আল আমিন বলেন, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে অনলাইনে জন্ম ও মৃত্যু রেজিস্ট্রার, কম্পিউটার কম্পোজ, প্রিন্ট, স্ক্যানিং, নাগরিক সনদ, ছবি তোলা, ফটোকপি, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, অনলাইনে জমির পর্চার আবেদন, জমির ডিসিআরের আবেদন, ই-মেইল, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, সরকারি-বেসরকারি ডাটা সরবরাহ, চাকরির আবেদন, অনলাইনে পরীক্ষার রেজাল্ট প্রদান, ওয়ারেশ কায়েম সনদ, ট্রেড লাইসেন্স এবং বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজে ভর্তির আবেদনসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হচ্ছে। এতে মানুষের হয়রানি কমছে। সেবা নিশ্চিত হচ্ছে। মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী বলেন, আগে মানুষ ইউনিয়ন পরিষদে আসতো না। ডিজিটাল সেন্টারের কারণে এখন ইউনিয়ন পরিষদই সেবার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

গড়েরকান্দায় সাতক্ষীরা নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের আলোচনা সভা

পৌর ৫নং ওয়ার্ডের গড়েরকান্দায় সাতক্ষীরা নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় গড়েরকান্দায় নৈশ স্কুলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন, ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহিনুর রহমান শাহীন। সভায় বক্তব্য রাখেন, নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের আহবায়ক এড. ফাহিমুল হক কিসলু, সুধাংশু শেখর সরকার, স্বপন শীল, প্রকৌশলী আবেদুর রহমান, ডেইলী সাতক্ষীরার সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুম, আলীনুর খান বাবুল, লোদী ইকবাল প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, আব্দুল মালেক।
বক্তারা বলেন, ৫নং ওয়ার্ডের জলাবদ্ধতা একটি প্রধান সমস্যা। নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা। শহরের প্রাণ কেন্দ্রে এলাকাটি অবস্থিত হলেও কোন উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। অবিলম্বে তারা এসব সমস্যা সমাধান এবং জেলায় জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য সকল নদী ও খাল খনন, বধ্যভূমি অবৈধ দখল মুক্ত, বাইপাস সড়কের সংযোগ আলীপুর চেকপোস্ট পর্যন্ত বর্ধিত, খড়িবিলার বিল, আবাদানির ৩ শ বিঘা খাস জমিতে সাতক্ষীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, রেল লাইন স্থাপন, ভোমরাস্থল বন্দরের আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ, সুন্দরবনে পরিবেশ বান্ধব পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

ফিংড়ী নিত্যকালি মন্দিরে কমিটি গঠন

ফিংড়ী প্রতিনিধি: সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ ফিংড়ী নিত্যকালি মন্দিরে কমিটি গঠন ও আলোচনা সভা শুক্রবার বিকাল তিনটায় মন্দির প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রভাষ চন্দ্র মন্ডলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ফিংড়ীর ইউপি চেয়ারম্যান সামছুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন লুৎফর রহমান, ইউপি সদস্য সুকুমার সরদার, নাসিমা পারভীন। আলোচনা সভায় প্রাক্তন কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে কল্যাণ ঘোষ সভাপতি ও কমলেশ সরদারকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

শ্যামনগরে সাংবাদিকের বাড়ি থেকে সোলার প্যানেল চুরি

নিজস্ব প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সাংবাদিক রনজিৎ বর্মনের নিজ বাড়ি থেকে সোলার প্যানেল চুরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলা সদরের নকিপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ৫০ ওয়াটের সোলার প্যানেলটি কে বা কারা চুরি করে নিয়ে গেছে। সোলার প্যানেলের মডেল নং- জঢ৭৫১১। সিরিয়ল নং-১৩১৪০০৭৯৫৮৩১। জানা যায়, এ ব্যাপারে শ্যামনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। যার নং ২২৭। তাং-৬-৪-১৮। এদিকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সোলার প্যানেল চুরির ঘটনা কমবেশি ঘটছে। উপজেলা সদরের নিকটবর্তী বাদঘাটা গ্রামের ময়না জানায় তার বাড়ির প্যানেলটি সম্প্রতি চুরি হয়েছে। চিংড়াখালী বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক জয়দেব বিশ^াস জানান সম্প্রতি নকিপুর শীতলতলা মন্দিরের সোলার প্যানেলটি কে বা কারা চুরি করে নিয়েছে। কয়েক মাস আগে উপজেলার দেবীপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সোলার প্যানেলটিও চুরি হয়েছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগি মহল প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

শ্যামনগরের গোবিন্দপুর থেকে কাশিমাড়ী পর্যন্ত সড়কটির বেহাল দশা

কাশিমাড়ী (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে শ্যামনগর উপজেলার অন্যতম ব্যস্ততম ও জনগুরুত্বপূর্ণ শ্যামনগরের গোবিন্দপুর থেকে কাশিমাড়ী বাজার পর্যন্ত সাড়ে ৩ কি. মি. সড়কটির বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। জরাজীর্ণ সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় ভোগান্তির শিকার বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সড়কটির ৮০ভাগ খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত, খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তারপর একটু বর্ষা হলে সড়কটিতে যানবাহন চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। সাড়ে ৩ কি. মি. দীর্ঘ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ততম এ সড়কটিতে ২০ থেকে ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান মারাত্মকভাবে খারাপ হয়ে গেছে। সড়কটির বিভিন্ন জায়গায় কয়েক ফুট পর্যন্ত উঁচুনীচু হয়ে গেছে। যার ফলে জরাজীর্ণ দশার জন্য জনজীবনে ব্যাপক দুর্ভোগ নেমে এসেছে। ব্যস্ততম এই সড়কে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, অটোভ্যান, ইঞ্জিনভ্যান, মটরসাইকেল, ইট, বালু সিমেন্ট বোঝায় মালবাহী ট্রাক, ইজি বাইক, মাহিন্দ্রাসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। মাঝে মধ্যে ভারী যানবাহনগুলি গর্তের ফাঁদে পড়ে উল্টে যাওয়ার ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। তাছাড়া ছোট-খাটো দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। সড়কটির বেহাল দশার জন্য পথচারী সময় নষ্ট হচ্ছে। যাবাহনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রোগী ও শিশুরা।
তাছাড়া এই সড়ক দিয়ে কাশিমাড়ী বোল্লারটোপ মৎস্য সেটে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছে কয়েক শতাধিক মৎস্যবাহী বড় যানবাহন। এই সড়ক দিয়ে শ্যামনগর হতে কাশিমাড়ীর ঘোলা ত্রিমোহনা খেয়াঘাট হয়ে আশাশুনি দিয়ে সরাসরি জেলা শহরের সাথে যোগাযোগ করা যায়। যার ফলে এটি এখন অন্যতম ব্যস্ততম সড়কে পরিণত হয়েছে।
এব্যাপারে বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা ক্ষোভের স্বরে বলেন, এটাতো পিচের রাস্তা নয়, যেন উঁচুনিচু চাষ করা জমি। রাস্তাটির বেহাল দশার জন্য গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্ষোভের সাথে বলেন, প্রতিদিন আমরা ইঞ্জিনভ্যানে/ব্যাটারি চালিত মোটরভ্যানে কলেজে যায়। যাওয়ার সময় জয়নগর থেকে গোবিন্দপুর পর্যন্ত মনে হয় যেন এবার নাগর দোলায় বসে আছি। প্রচন্ড ধাক্কা ধাক্কিতে বেশ নাগাল পেতে হয় আমাদের। যার ফলে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছি।
শ্যামনগর হতে কাশিমাড়ী পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন বেহাল অবস্থায় থাকার ফলে ২০১০ সালে ঠিকাদার আনছার সাহেব কর্তৃক কিছু ইট, বালু ও খোয়া দিয়ে আপাতত চলাচলের একটা ব্যবস্থা করে। কিন্তু দীর্ঘদিনের চলাচলের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে বিগত ১/২ বছর আগে শ্যামনগর হতে গোবিন্দপুর পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ৬কিলোমিটার রাস্তাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পিচ দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করে দেয়। কিন্তু গোবিন্দপুর থেকে কাশিমাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সাড়ে ৩ কিলোমিটার রাস্তাটির ভাগ্যে আর পিচ জুটলো না। এমন কথা এখন কাশিমাড়ীর জনসাধারণের মুখে মুখে। রাস্তাটি সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসি।

সাতক্ষীরায় এডিসন স্মার্ড প্লাগ ইন মোবাইল শো-রুমের উদ্বোধন

আব্দুর রহিম: এডিসন স্মার্ড প্লাগ ইন মোবাইল শো-রুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে জামান মেমোরিয়াল ক্লিনিকের পাশে ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কোম্পানীর জেনারেল ম্যানেজার কাজী জহিরউদ্দিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রাসেল, সাতক্ষীরা জোনাল সেলস্ ম্যানেজার এজাজ আহমেদ খান, ম্যানেজার নুর হোসেনসহ প্রমুখ।

ল স্টুডেন্টস ফোরামের সাধারণ সভা শনিবার

সাতক্ষীরার ল স্টুডেন্টস ফোরামের সাধারণ সভা শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার সন্ধ্যায় ল কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করবেন ল স্টুডেন্টস ফোরামের সভাপতি নাজমুল হক। সভায় ফোরামের নির্বাচন, পহেলা বৈশাখ, ফোরামের নিজস্ব উদ্যোগে স্মরণিকা তৈরি, প্রথম পর্বের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ল স্টুডেন্টস ফোরামের সকল সদস্যকে যথা সময়ে উপস্থিত থাকার জন্য আহবান জানিয়েছেন ল স্টুডেন্টস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক কাজী সাহাব উদ্দীন সাজু। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

গ্রাম বাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাঁশ তৈরি হস্তশিল্পের দাম বেশি হওয়াতে ব্যবহার বাড়ছে প্লাস্টিক সামগ্রীর

নিজস্ব প্রতিনিধি: গ্রাম বাংলার জনজীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাঁশ শিল্প। গৃহে ব্যবহৃত প্লাস্টিক সামগ্রীর দাম তুলনামূলক কম থাকায় বাঁশের তৈরি হস্তশিল্পের পরিবর্তে মেশিনে তৈরি প্লাস্টিক সামগ্রীর প্রতি আগ্রহ বাড়ছে গৃহিণীদের। ফলে সাতক্ষীরা গ্রাম বাংলা থেকে বাঁশ শিল্প অনেকটা বিলুপ্তির পথে। এ শিল্পের সাথে জড়িত অনেকেই বাপ-দাদার আমলের পেশা ত্যাগ করে পাড়ি জমিয়েছে অন্য পেশায়।
একসময় জেলায় প্রচুর বাঁশ হতো। বাশের কদরও ছিল জেলা ব্যাপি। এমনকি সাতক্ষীরা থেকে ট্রাকে করে বাঁশ অন্য জেলায় সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর কলারোয়া, তালাসহ বিভিন্ন এলাকায় বাঁশ চাষ হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি চাষ হচ্ছে তালায়। পানের বরজ করতে প্রচুর বাঁশের প্রয়োজন হয়। তাই বরজের কারণে এ অঞ্চলে বাঁশের চাহিদা অনেক বেশি। এখানে প্রতি বছর নতুন নতুন বাঁশ ঝাড় তৈরি করা হচ্ছে। সমাজের একটু অবস্থা সম্পন্ন লোকেরা বাঁশ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। কারণ বাঁশ রোপনের তিন বছর পর বাঁশ ব্যবহারের উপযুক্ত হয়। অনেকটা পুঁজি বিনিয়োগ করে রাখতে হয়।
পাটকেলঘাটার খলিষখালী ইউনিয়নের মঙ্গলানন্দকাটী গ্রামের মাষ্টার ইকরামুল কবির জানান, বাপ দাদার আমল থেকে তারা বাঁশ চাষ করে আসছে। বর্তমানে ২-৩ বিঘা জমিতে তিনি বাঁশ চাষ করছেন। বাশেঁর দাম ও ভাল পাচ্ছেন। একই গ্রামের মোকাম শেখ তিনিও পৈত্রিক সূত্রে বাঁশ চাষ করে আসছেন। তালা উপজেলার এমন কোন গ্রাম নেই যেখানে বাঁশ চাষ হয় না। অন্য ফসলের চাইতে বাঁেশ টাকা বেশি বলে জানান অনেকে।
গ্রামীণ জনপদে একসময় বাঁশঝাড় ছিল না এমনটা কল্পনাও করা যেতো না। যেখানে গ্রাম সেখানে বাঁশঝাড় এমনটিই ছিল স্বাভাবিক। বাড়ির পাশে বাঁশঝাড় এ যেন গ্রাম বাংলার চিরায়ত রূপ। বনাঞ্চলের বাইরেও এখন যেভাবে গ্রামীণ বৃক্ষরাজি উজাড় হচ্ছে তাতে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাঁশ। এক সময় গ্রামীণ জনপদে বাংলার ঘরে ঘরে তৈরি হতো বাঁশের তৈরি হাজারো পণ্য সামগ্রী। অনেকে এ দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো।
কয়েক বছর আগেও সাতক্ষীরাতে বাঁশের তৈরি জিনিসের কদর ছিল অনেক বেশি। চেয়ার, টেবিল, বইয়ের সেল্ফ, মোড়া, কুলা, ঝুড়ি, ডোল, চাটাই থেকে শুরু করে এমনকি ড্রইং রুমের আসবাবপত্র তৈরিতেও বাঁশ প্রচুর ব্যবহার করা হতো। এ ছাড়া মাছ ধরার পলো, হাঁস, মুরগীর খাঁচা, শিশুদের ঘুম পাড়ানোর দোলনা এখনো গ্রামাঞ্চলসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। একসময় জেলার হাট, বাজার, মেলাগুলোতে পশরা সাজানো হতো বাঁশের তৈরি হস্তশিল্প দিয়ে। প্রকৃতপক্ষে বাঁশের স্থান দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিক সামগ্রী। এখন বাঁেশর উৎপাদন কমে যাওয়াতে দাম বেড়েছে।
কারিগররা জানান, বাঁশের মূল্য বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি পড়ছে। দাম বেশি পড়াতে বাঁশের তৈরি পণ্য কিনতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে ক্রেতারা।
বাংলার ঐতিহ্য বাঁশ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দরকার বলে মনে করেন এখাতে সংশ্লিষ্টরা। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে বাঁশের হারানো গৌরব ফিরে পাওয়া সম্ভব এমন আশা বাঁশ চাষীদের।

গণফোরাম জেলা শাখার জরুরী সভা অনুষ্ঠিত

গণফোরাম জেলা শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় স্থানীয় একটি হোটেলে জেলা গণফোরামের সভাপতি প্রভাষক মামুনুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। জরুরী সভায় বক্তব্য রাখেন গণফোরাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলীনূর খান বাবুল, সহ-সভাপতি ও আশাশুনি উপজেলা আহবায়ক যামিনী কান্ত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আশাশুনি উপজেলা সদস্য সচিব পংকজ কান্তি সরকার (বাপ্পি), সদর উপজেলা আহবায়ক ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন, সদস্য সচিব অনিমেষ ঘোষাল, জেলা গণফোরামের দপ্তর সম্পাদক ডা. আলী আকবর, রেজাউল হুদা সোহাগ, ইব্রাহীম হোসেন মধু, মহিলা গণফোরামের আহবায়ক ফেরদৌসী খান ময়না, সদস্য সচিব নাজমা বেগম, আক্তারুজ্জামান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে কালো টাকার মালিক সন্ত্রাসীরা নির্বাচন করার জন্য দৌড় ঝাপ শুরু করেছেন। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে যাতে কালো টাকার মালিকরা, পেশী শক্তি, অবৈধ অস্ত্রধারীরা সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে না পারে সেজন্যে ড. কামাল হোসেন সাধারণ নাগরিকদের নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার জন্য দেশবাসির প্রতি আহবান জানিয়েছেন। সাংবিধানিকভাবে সাধারণ জনগণ এদেশের সকল ক্ষমতার মালিক। সেই সাধারণ জণগণের মালিকানা ফিরিয়ে দেয়ার জন্য গণফোরাম ইতোমধ্যেই দেশব্যাপী গণসংযোগ, জনসভা, সাধারণ নাগরিকদের সাথে আলোচনার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচী ঘোষণা করেছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে সাতক্ষীরা জেলা গণফোরাম এপ্রিল মাস জুড়ে বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ভিত্তিক গণসংযোগ, পথসভা, সমাবেশসহ সাধারণ নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করার কর্মসূচী ঘোষণা করে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সুন্দরবনে দুই বাহিনীর গোলাগুলি: আতঙ্কে বনজীবিরা

শ্যামনগর (সদর) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা রেঞ্জ পশ্চিম সুন্দরবনে দুই দস্যু বাহিনীর মধ্যে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক গোলা গুলির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার প্রথম প্রহর রাত ১টার দিকে সুন্দরবনে মালঞ্চ নদীর চালতেবাড়িয়া সংলগ্ন পেটিকাটা নামক স্থানে ঘন্টাব্যাপী বন্দুক যুদ্ধে উভয়ের মধ্যে ৫০/৬০ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। এ সময় সুন্দরবনে অবস্থানরত বিশেষ করে চলমান মধু আহরণ মৌসুমে মৌয়ালদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ফিরে আসা মৌয়ালরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ খবর দিয়েছে।
মৌয়ালরা আরও জানায়, মধ্যরাতের দিকে সবাই ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলো। হঠাৎ প্রচন্ড গোলা গুলির শব্দে তাদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। সুন্দরবনে নবাগত বনদস্যু দাদা ভাই ও কাজল বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি ঘটনায় হতাহতের খবর জানতে পারেনি মৌয়ালরা। মধু আহরণ মৌসুমে মৌয়ালদের জিম্মি করে নগদ অর্থ, মধু ও মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যে কতিপয় বনদস্যু সুন্দরবনের একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্ত পর্যন্ত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে মৌয়ালদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার কথা বলা হলেও বিশাল এলাকা জুড়ে অপ্রতুল লোক বল নিয়ে সঠিকভাবে টহল দেওয়া অনেকটা দুরূহ।
উল্লে¬খ্য, সাম্প্রতিক সময়ে র‌্যাব ৮ এর কাছে বনদস্যু ডন ও ছোট ভাই বাহিনীর ২৭ সদস্য আগ্নেয়অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করে। হঠাৎ দাদা ভাই ও কাজল বাহিনীর আগমনে আবারও অশান্ত হয়ে পড়েছে সুন্দরবন। অন্য একটি মাধ্যমে জানা যায়, আত্মসমর্পনকৃত বাহিনী হতে দলছুট সদস্যরা নিজেদেরকে সংগঠিত করে সুন্দরবনে বনদস্যুতা শুরু করেছে। সার্বিক বিষয়ে কদমতলা স্টেশন কর্মকর্তা নাসিরুদ্দীন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মৌয়ালদের নিরাপত্তায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে টহল জোরদার করা হয়েছে।

ভোমরায় হেটো দালাদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট যাত্রীদের হয়রানি করার অভিযোগ

রুবেল হাসান রনি: সাতক্ষীরা ভোমরা শুল্ক ষ্টেশন এর গেটের সামনে ও গেটের ভিতরে বাহিরের হেটো দালাল কর্তৃক পাসপোর্ট যাত্রীরা বিভিন্ন ভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে।
পাসপোর্ট যাত্রী ও স্হানীয় সুত্রে, বাংলাদেশ থেকে ভরতে যাওয়া ও ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্যে ভোমরা শুল্ক ষ্টেশনে আসা পাসপোর্ট যাত্রীদেরকে স্হানীয় কিছু হেটো দলালরা বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এরা পাসপোর্ট যাত্রিদের ব্যাগ তল্লাশি নামে যাত্রীদের নিকট টাকা দাবি করে, তাদের দাবিকৃত টাকা দিতে না চাইলে যাত্রিদেরকে কাস্টম এর সিপাহি দিয়ে তাদের ব্যাগের মালামাল জব্দ করার ভয় দেখিয়ে ২ থেকে ৩ শত টাকা আদায়
করছে। আর কোনো যাত্রীদের কাছে মালামাল একটু বেশি থাকলে তাদের নিকট থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। তাছাড়া পাসপোর্ট যাত্রিদের লাইনে না দাড়ানোর শর্তে ১ থেকে ২ শত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে জানা যায়।ভারতের সরুপদাহ গ্রামের সুভাস বিস্সাস বলেন, আমি ০৩রা এপ্রিল বাংলাদেশ শুল্ক ষ্টশনে আামার পাসপোর্ট নিয়ে গেলে মিঠুন আমাকে ব্যাগে কি আছে এবং ব্যাগ দেখতে চাই। সুভাস বিষ্সাস বলেন আমার ব্যাগে ব্যাবহারিক কাপর ও তার বাংলাদেশি মেহমানদের জন্য ৩টা নতুন শাড়ী আছে এর জন্য আামার কাছে এক হাজার টাকা দাবি করে। আমি দিতে না চাইলে নতুন শাড়ী নিয়ে যাওয়া যাবেনা বলে ব্যাগ অফিসের মর্ধ্যে ঠুকাতে বলে। আমি তখন কাস্টমগেটের সামনে ডিওটিরত লোকটিকে জানালে উনি মিঠুনের সাথে কথা বলতে বলে। সুভাস বিস্ষাস জানায় শেষ পর্যন্ত আমি ৬০০ টাকা দিয়ে রেহাই পেলাম।এই হেটো দালাল চক্রের মূল হোতার নাম মিঠুন বলে জানা যায়। ৪ই এপ্রিল বুধবার মিঠুন কোনো প্রকার কার্ড বিহিন সরাসরি জিরো পয়েন্ট হয়ে ভারতের দিকে যাওয়ার সময় ভোমরা নোমান্সল্যান্ডে ডিওটিরত বিজিবির সদস্যরা তাকে বাধা দিলে মিঠুন নিজেকে কাস্টমের ষ্টাপ বলে দাবি করেন এবং ইন্ডিয়া কাস্টমে যাত্রিদের ব্যাগ আনতে যাচ্ছেন বলে জানায়। মিঠুন কাস্টসে কাজ করে কিনা এবিষয়ে জানতে চাইলে ডিউটিরত কাস্টম সিপাহি মোঃ ইস্মত জানান যে মিঠুন কাস্টমসের কোনো কাজ করেনা।এই মিঠুন চক্রের হেটো দালালদেরকে ভোমরা শুল্ক ষ্টেশন এর ষ্টাপরা পরোক্ষভাবে সহোযোগিতা করে আসছে বলে যানা যায়।
উল্লেখ্য মিঠুন কয়েক বছর আগে কাস্টমসে কাজ করতো কিন্তু সিমাহিন দূর্নিতি করার জন্য কাস্টমস অফিসার তাকে বহিষ্কার করে দেয়।

চুকনগরে ক্রেতা সেজে হিরোইনসহ ৩ ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব

চুকনগর (খুলনা) প্রতিনিধি: চুকনগরে ক্রেতা সেজে হিরোইনসহ ৩ ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার রাতে বিভিন্ন স্থান হতে তাদেরকে আটক করা হয়।
এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাব ৬ এর একদল অফিসার খরিদ্দার সেজে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী উপজেলার আটলিয়া গ্রামের সোবহান মোড়লের পুত্র শাহিনুর রহমান মোড়লকে হিরোইন কেনার জন্য মোবাইল করে। এসময় শাহিনুর রহমান তাদেরকে আটলিয়ার একটি ভিতরের রাস্তায় যেতে বলে। শাহিনুরের দিক নির্দেশনা পথ দিয়ে তার পূর্ব থেকে অবস্থানের স্থানে পৌছায় র‌্যাব ৬ এবং হিরোইনসহ তার সাথে থাকা আরেক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী দেবহাটা উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের নুর মোহাম্মদের পুত্র মঈন উদ্দীন। তাদেরকে হাতেনাতে আটক করে র‌্যাব। পরে তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক কেশবপুর উপজেলার ভেরচী গ্রামের আব্দুল মজিদ খার পুত্র রিপন খাঁকে তার বাড়ি থেকে আটক করে র‌্যাব ৬ এর কর্মকর্তারা। এব্যাপারে ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হাবিল হাসান বলেন, আটকের সংবাদ শুনেছি। কিন্তু এখনও আমাদের কাছে হ্যান্ডওভার করেনি।

আশাশুনি সরকারি কলেজ কেন্দ্রের কক্ষ পরিদর্শককে অব্যাহতি

পত্রদূত ডেস্ক: আশাশুনি সরকারি কলেজে ও আশাশুনি মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের দীর্ঘ দিনের দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। দুই কেন্দ্রের আভ্যন্তরীণ এই রেষারেষির স্বীকার হচ্ছে সাধারণ পরীক্ষার্থীরা। দ্বন্দ্বের জেরে ইতোমধ্যে এক কক্ষ পরিদর্শককে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
কলেজের বিভিন্ন শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এইচএসসি পরীক্ষার সময় আশাশুনি সরকারি কলেজ কেন্দ্র ও আশাশুনি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের মধ্যে একটা চাপা দ্বন্দ্ব বিরাজ করে। আশাশুনি সরকারি কলেজ উপজেলার সর্ববৃহৎ কেন্দ্র। এখানে বাইরে থেকে যারা পরীক্ষা দিতে আসে তাদের নানাভাবে হয়রানি করা হয়। বিশেষ করে আশাশুনি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের সাথে এ মাত্রা আরও বেশি। এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট একটি অভিযোগ দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, আশাশুনি সরকারি কলেজ কেন্দ্রে গত বৃহস্পতিবার এইচএসসি পরীক্ষার ৩য় দিনে ইংরেজি ১মপত্র পরীক্ষা চলাকালে একটি কক্ষে (যেখানে আশাশুনি মহিলা কলেজের পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছে) কক্ষ পরিদর্শক সহকারী অধ্যাপক তৃপ্তি রঞ্জন সাহা অশ্লীল ভাষায় কথাবার্তা বলা, কথা কাটাকাটি করা, উত্তর পত্রের উত্তর কলম দিয়ে কেটে দেওয়ার চাপ প্রয়োগ করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কক্ষ পরিদর্শক সহকারী অধ্যাপক তৃপ্তি রঞ্জন সাহাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আশাশুনি সরকারি কলেজ কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে তাকে পরবর্তী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।