আজ আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস


প্রকাশিত : এপ্রিল ৩০, ২০১৮ ||

 

মো. জাবের হোসেন

আজ পহেলা মে। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। অনেক দেশে দিবসটি লেবার ডে হিসেবে পালিত হয়। শ্রমজীবী মানুষ শ্রমিক সংগঠন সমূহ রাজপথে সংগঠিতভাবে মিছিল শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিবসটি পালন করে। বিশ্বের ৮০টি দেশে পহেলা মে জাতীয় ছুটির দিন। তাছাড়া আরো অনেক দেশে বেসরকারিভাবে দিবসটি পালিত হয়। দিবসটি সকল শ্রমজীবী মানুষদের জন্য অনুপ্রেরণার দিন। মূলত দিবসটি শিকাগো শহরের হে মার্কেটের ম্যাসকারা শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে পালিত হয়। ১৮৮৬ সালের আজকের এই দিনে দৈনিক আট ঘন্টা কাজের দাবিতে শ্রমিকরা সেখানে জমায়েত হয়েছিলো। এরপূর্বে শ্রমিকেরা অমানবিক পরিশ্রম করতো। দিনে রাতে ১০ থেকে ১২ ঘন্টা পরিশ্রম করতে হতো। সপ্তাহে দিন কাজ করতে হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরো দীর্ঘক্ষণ পরিশ্রম করতে হতো। সেদিন সেখানে ঘিরে থাকা পুলিশের উপর অতর্কিত বোমা হামলায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিহত হয় তারপর পুলিশ সদস্যরা শ্রমিকদের উপর গুলি বর্ষণ শুরু করে। এতে বেশ কয়েকজন সাধারণ শ্রমিক সদস্য নিহত হয়।

১৮৮৯ সালে সালে ফরাসী বিপ্লবের শতবার্ষিকীতে প্যারিসে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রেমন্ড লাভিনে প্রস্তাব রাখেন আগামী বছর (১৮৯০ সাল) থেকে বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করার প্রস্তাব দেন। যেটি ১৮৯১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। এরপর ১৮৯৪ সালের মে দিবসের দাঙ্গার ঘটনা ঘটে। ১৯০৪ সালে আমস্টারডামে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে মে দিবস উপলক্ষে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। যে প্রস্তাবে দৈনিক আট ঘন্টা কাজের সময় নির্ধারণের দাবি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বজুড়ে পহেলা মে তারিখে মিছিল শোভাযাত্রা আয়োজনের জন্য আহবান জানানো হয়। এই সম্মেলনে ১লা মে তারিখে সকল শ্রমজীবী মানুষের কাজ না করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই সাথে অনেক দেশে ১লা মে তারিখে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালন করার প্রতি দাবি জানানো হয়।

শ্রমিকদের অবদান বলে শেষ করা যাবে না। দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে তারা এই বিশ্বকে করে তুলেছে সৌন্দর্যময়। মে দিবসের সূত্রপাতের আগে শ্রমিকেরা যেমন অবহেলা শিকার ছিলো এখনো আমরা অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো দেখতে পাই। অনেক জায়গায় শ্রমিকরা এখনো পর্যন্ত তাদের যথাযথ পারিশ্রমিক পায়না। তাদের মূল্যায়ন করা হয়না। তাছাড়া আমরা এখনো দেখতে পাই, কিছু কিছু ক্ষেত্রে শ্রমিকদের ঘন্টার অধিক পরিশ্রম করতে হয়। বিশেষ করে আমরা একটা উদাহরণ দিলে ভালো বুঝতে পারবো। আমাদের দেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করার জন্য মালয়েশিয়ায় যায়। তারা কেউ আমাদের ভাই, বাবা, আত্মীয়স্বজন। আমরা তাদের কাছ থেকে জানতে পারি সেখানে তাদের কী পরিমাণ পরিশ্রম করতে হয়। সেখানে তাদের দিনের বেলা কাজ শেষেও রাতে কাজ করতে হয় অধিকাংশ সময়।

এখনো পর্যন্ত শ্রমিকেরাই বেশি শোষিত হচ্ছে। তাছাড়া আমরা দেখতে পাই আমাদের দেশের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলোতে কর্মীদের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে হয়। তারপর সেখানে আছে তাদের জীবনের ঝুঁকি। তাছাড়া তারা এতো পরিশ্রম করেও যথাযথ পারিশ্রমিক পায়না। আমরা যদি উদাহরণ দিতে যায় তাহলে আমরা বলে শেষ করতে পারবোনা।

শ্রমিকদের সম্মান জানাতে প্রতি বছর এই দিবসটি পালিত হয়ে থােেক অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণভাবে। দিবসটি শ্রমিক শ্রেণির আন্তর্জাতিক সংহতির দিন। বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের বিজয়ের দিন, আনন্দ উৎসবের দিন। দুনিয়ার মজদুর এক হও স্লোগান তুলে নতুন সংগ্রামের শপথ নেয়ার দিন। লেখক: সাংবাদিক সমাজ উন্নয়ন কর্মী