জাতির পিতা ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি নেই ভূমি অফিসে


প্রকাশিত : মে ১৪, ২০১৮ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: পয়সা না দিলি কাজ হয় না। ভূমি অফিস থেকে বলে জমির এ কাগজ নাই, ঐ কাগজ নাই। তার চেয়ে খরচাপাতি দিয়ে তাড়াতাড়ি কাজ করে নেওয়াই ভালো। এমন কথা বললেন শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের একাধিক জমির মালিক। ঈশ^রীপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার গাইনের নিকট জিম্মি এলাকার সাধারণ মানুষ। এব্যাপারে একাধিকবার পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশ হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। শ্যামনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুজন সরকার তাকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসী।
ঈশ^রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম শোকর আলীর কাছে মোবাইল ফোনে (০১৭১৪-১৩২০৬০) জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমরা কিছু বলতে পারবো না। প্রদীপ কুমার গাইনকে আমরা কিছু বললে উনি বলেন, তিনি প্রশাসন ও সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে চলেন। এর আগে একাধিকবার তিনি বদলী হলেও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের টাকা-পয়সা দিয়ে আবার এখানে চলে আসেন। বর্তমানে এ অফিসের পাশ দিয়ে গেলেও মিস্টি খাওয়ার কথা বলে টাকা আদায় করেন প্রদীপ কুমার গাইন।
অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তারা জানান, ‘সম্প্রতি তিনি আশাশুনি ভূমি অফিসে বদলি হলেও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আবারও বহাল তবিয়তে রয়েছেন তিনি। মামুর বাড়ির মধুর হাড়ির খোঁজ পেয়েছেন শ্যামনগরে। আর এ কারণে দীর্ঘ ১০ বছর যাবত শ্যামনগরে কর্মরত আছেন তিনি।’
কিছুদিন আগে ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন সহকারী কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার গাইনের কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি না থাকায় স্থানীয় ও জাতীয় কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে কিছুদিনের জন্য জাতির পিতা ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি রাখেন মাথার উপরে। কিন্তু তার কিছুদিন পরেই আবার যা তাই। গত ২৫ এপ্রিল এসিল্যান্ড শ্যামনগর, ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে পরিদর্শনে যান। এসময় কিছু ছবিও তোলেন তিনি। যে চেয়ারে বসে কার্যক্রম তদারকি করেন। সেখানেও নেই জাতির পিতা ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি। আর এ ছবিগুলো ‘এসিল্যান্ড শ্যামনগর,সাতক্ষীরা’ ফেসবুকে আপলোড করেন। সেখানে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে জাতির পিতা ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি নেই। এরপরেও কিভাবে? কোন খুঁটির জোরে তিনি এখানে কর্মরত রয়েছেন তা সাধারণ মানুষের বোধগম্য নয়।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪-এর শিরোনামে ‘জাতির পিতার প্রতিকৃতি’। সেখানে বলা হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংবিধিবদ্ধ সরকারি অফিসে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করিতে হইবে। কিন্তু; শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন ভূমি অফসে সহকারী কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার গাইনের মাথার উপরে নেই। (অফিসের ভিডিও, স্টিল ছবি ও নোটিশ সংরক্ষিত আছে)।
ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন সহকারী কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার গাইন বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সঠিক নয়। আমি সাংবাদিকদের ম্যানেজ করি। অফিসের ডেকোরেশন পরিবর্তন করায় বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি লাগানো হয়নি। তবে দুএকদিনের মধ্যে লাগানো হবে। কিন্তু আজও তিনি কোন প্রকার ছবি লাগানোর চেষ্টা করেননি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন বলেন, সরকারি সকল অফিসে জাতির পিতার ছবি রাখা বাধ্যতামূলক। যদি কোন অফিসে না থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কোন অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য থাকলে আমাকে জানাবেন। আমি তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।