খোশ আমদেদ


প্রকাশিত : মে ২৪, ২০১৮ ||

মাহে রমজান
সাখাওয়াত উল্যাহ: মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে লাখো শুকরিয়া আমরা মাহে রমজানের ৭ম রোজা অতিক্রম করতে চলেছি। ইতোপূর্বে কয়েকটি রোজার মূল উদ্দেশ্য, তাকওয়া অর্জন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আজও তাকওয়া সম্পর্কে কিছু বলতে চাই।
তাকওয়া অর্জনই রোজার উদ্দেশ্য: আল্লাহকে ভয় করে চলার নাম তাকওয়া-আর এটাই রোজার উদ্দেশ্য। মানুষের সমগ্র জীবনকে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগীতে পরিণত করাই হচ্ছে ইসলামের আসল উদ্দেশ্য। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে চিন্তা করা উচিৎ ‘আল্লাহ কিসে খুশী হন, আর কিসে অসন্তুষ্ট হন।’ সকলকে আল্লাহর সন্তোষজনক কাজ করা উচিৎ এবং অসন্তেষজনক কাজ পরিহার করা উচিৎ। ১) রোজাদার ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে রোজা ভাঙ্গার কাজ করে না। ২) কঠিন পিপাসায় কলিজা ফেটে যাওয়ার উপক্রম হলেও এক ফোটা পানি পান করেন না। ৩) ক্ষুধার কারণে চোখে তারা ফুটতে শুরু করলেও কোন কিছু খাবার ইচ্ছা করেন না। ৪) পরকাল (যেখানে হিসাব নেয়া হবে, সেখানকার কথা) রোজাদার ভুলে থাকতে পারবে না। এভাবে তাকওয়া সৃষ্টি হয়। আল্লাহকে আলেমুল গায়েব মনে করে গোপনেও কেউ আইন ভংগ করতে পারে না। নামায় কয়েক মিনিটের ইবাদত। যাকাত বছরে একবার আমল করার ইবাদত। হজ¦ দীর্ঘ সময় লাগলেও জীবনে মাত্র একবার করার ইবাদত। তাও সকলের জন্য নয়, কেবল মাত্র ধনীদের জন্য। কিছু রোজা সকলের জন্য ভিন্নধর্মী ইবাদত। শেষ রাতে সেহ্রী খাওয়া, দিনের বেলায় খানাপিনা সব বন্ধ করা, সন্ধ্যায় ইফতার করা, একটু আগেও নয়, একটু পরেও নয়। ইফতারের পরে বিশ্রাম বাদ দিয়ে লম্বা ইবাদত তারাবীর নামায আদায় করা। একজন সিপাহীর মতো এক মাস ট্রেনিং দিয়ে সারা বছর ট্রেনিং কাজে কাজে লাগানোর মত রোজা একটি এবাদত। রমজান শেষ হবার পর তাকওয়ার প্রভাব আমলে জারী থাকতে হবে।
ইফতারের খাবার: আমরা ইফতারের বহু জিনিষ খাই। আমাদের দেশে সাধারণত বুট, মুড়ি, পেয়াজু, বেগুনী, চপসহ ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার দ্বারা ইফতার করা হয়ে থাকে। মনে হয় যত বেশী খাওয়া যায় ততই ভাল। ডাক্তারী মতে এসব ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার রোজারদের মোটেই উপযোগী নয় এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
ইফতারের ব্যাপারে রাসুল (স.) বলেছেন, অর্থ: তোমরা খেজুর দিয়ে ইফতার করো, কেননা তাতে বরকত রয়েছে। যদি খেজুর না থাকে তাহলে পানি দিয়ে ইফতার করো। পানি পাক ও পবিত্র। রাসূলুল্লাহ (স:) এই দুটি খাবারের কথা উল্লেখ করেছেন। অন্য খাবারের কথা উল্লেখ করা হয়নি। কেননা এতে অনেক উপকার ও স্বাস্থ্যের সুবিধা রয়েছে। রোজাদারদের শরীরে রোজার কারণে খাদ্য ও পানীয়ের অভাব দেখা দেয়। সুগার জাতীয় খাবার শরীরে অপেক্ষাকৃত দ্রুত মিশে যায় এবং শরীর পাকস্থলী কিম্বা অন্ত্রনালী থেকে তা সরাসরি গ্রহণ করতে পারে। গবেষণায় প্রমানিত হয়েছে যে, খেজুরের বৈশিষ্ট্য সর্বাধিক। তা রক্তে সুগারের পরিমানকে দ্রুত স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌছাতে পারে। ফলে শরীরের ক্লান্তি ও দুর্বলতা দুর হয়। খেজুরে রয়েছে প্রচুর সুগার। শরীরের উপর খেজুরের পাশর্^ প্রতিক্রিয়া খুবই কম। তা ছাড়াও তাতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান। হাদিস অনুযায়ী খেজুর না থাকলে পানি দিয়ে ইফতার করা উত্তম। তবে পানি যদি ফলের রস কিম্বা শরবত আকারে হয় সেটাও ভাল। যাতে করে শরীর প্রয়োজনীয় সুগার গ্রহণ করতে পারে। মহান আল্লাহ তায়ালা কেবল তাকেই ভয় করে রোজা থেকে পুরোপুরি শিক্ষা গ্রহণ করার তৌফিক দান করুন-আমীন।