মাদক ও আমাদের যুব সমাজ


প্রকাশিত : জুন ১, ২০১৮ ||

 

 রোকনুজ্জামান / নাঈম আহম্মেদ তুহিন:: আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মের উল্লেখযোগ্য অংশ আজ সর্বনাশা মরণনেশার শিকার। সে নেশা হলো মাদক। যে তরুণের ঐতিহ্য রয়েছে সংগ্রামের, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের, যুদ্ধজয়ের আজ তারা নি:স্ব হচ্ছে মরণনেশার করাল ছোবলে। মাদকনেশার যন্ত্রণায় ধুকছে শত-সহ¯্র প্রাণ। ঘরে ঘরে সৃষ্টি হচ্ছে নানা সমস্যা, অপরাধ ও উদ্বেগ। ভাবিত হচ্ছে সমাজ। মাদকের সর্বনাশা থাবার নিচে আজকের বিশ্ব অসহায়ভাবে আত্মসমর্পন করতে বসেছে।

মাদকের ছোবলে সমাজদেহ ক্ষত বিক্ষত হয়ে পড়েছে। তরুণ সমাজ উদভ্রান্ত, লক্ষ্যহীন, সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে, নৈতিকতার অপমৃত্যু অত্যাসন্ন হয়ে পড়েছে। এই সময় বিখ্যাত সমাজবিজ্ঞানীর কন্ঠে প্রতিধ্বনিত হয়েছে মাদক নিয়ে তীব্র উদ্বেগাকুলতা addiction, intoxication, perversion and contamination must be resisted to minimize social stability, youth depression and dejection.. অর্থ: সাধারণত যেসব বস্তুতে মাদকতা আছে সেগুলোই মাদকদ্রব্য। অর্থাৎ যেসব দ্রব্য মানুষের স্বাভাবিক বুদ্ধি ও চিত্তের বৈকল্য এবং স্নায়ুবিক ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকতা এনে দেয়, তাকে মাদকদ্রব্য বলে চিহ্নিত করা হয়।

মহানবী (স.) বলেছেন, যাবতীয় নেশাজাতীয় দ্রব্যই মাদক আর সকল মাদকই হারাম। মাদকাসক্তির ফলে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবণে অধ:পতন হয়। মাদকদ্রব্যের ভয়াবাহ বিস্তার গোটা বিশ্বের জন্য আজ উদ্বেগজনক। আজ যুক্তরাষ্ট্রের সমাজজীবনে এটা এক নম্বর সমস্যা। প্রায় ৪ কোটি আমেরিকান নর-নারী কোকেন সেবন করে, কমপক্ষে ২ কোটি মারিজোয়ানা সেবন করে, ২লক্ষ হেরোইন সেবনকারী। কিন্তু সমস্যা শুধু ইউরোপ আমিরেকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এ অশুভ ছায়া এশিয়া আফ্রিকার দেশে দেশে ইতোমধ্যেই আশক্সঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমার মাঝে মাঝে হাসি পায় এ কথা ভেবে যে উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অর্থনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশ এগিয়ে না থাকলেও মাদকদ্রব্যের ব্যবহারে বাংলাদেশ অনেকটা এগিয়ে।

আমাদের তরুণরা এখন ভয়াবাহ মাদকাসক্তির শিকার। বাংলাদেশে কি পরিমাণ মাদকদ্রব্য ব্যবহারকারী রয়েছে তার আপাতত সঠিক পরিসংখ্যান নেই। বেসরকারি হিসাব মতে বাংলাদেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা এক কোটির বেশি। তবে বাংলাদেশে ৩৫০টি বৈধ গাজার দোকান আছে এবং দর্শনাতে মদ উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বৈধ লাইসেন্স ছাড়াও বাংলাদেশের আনাচে কানাচে দেশি মাদকদ্রব্য প্রচুর পরিমাণে তৈরি ও বিক্রি হচ্ছে। আমাদের দেশের অধিকাংশ যুবক যুবতীরা, তরুণ তরুণীরা মাদকের দিকে বেশি ঝুকে পড়ছে।

বর্তমানে কিছু স্কুলের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় সেখানকার কিছু তরুণ ধূমপান করছে। শিক্ষকদের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা ধূমপানসহ বিভিন্নরকম মাদকদ্রব্য সেবন করছে। চিকিৎসকের মতে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের আচার-আচরণ কিছুট খাপছাড়া হয়ে যায়।

যেমন-খিদে না পাওয়া, ওজন দ্রুত হ্রাস পাওয়া, বইপত্র হারিয়ে ফেলা এমনকি চুরির অভ্যাসও দেখা দেয়। পরিবারের সদস্যদের এটা লক্ষ্য রাখতে হবে এবং তাদের সন্তানদের মধ্যে উক্ত লক্ষণ প্রকাশ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

মাদকাসক্তির মতো সর্বনাশা ছোবল দেশের তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আজকের ও আগামীর দিনের সুস্থ, সুন্দর ও সুখকর সমাজ পেতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই মাদকের প্রতিরোধ করতে হবে।আর এজন্য প্রয়োজন ব্যক্তিগত উদ্যোগ, সামাজিক প্রতিরোধ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ। আর মনে রাখতে, মাদকাসক্তির করাল গ্রাস থেকে জাতিকে রক্ষা করার দায়িত্ব দল মত নির্বিশেষে সবার। লেখক: ছাত্র (১০), বুধহাটা বি বি এম কলেজিয়েট স্কুল, সাতক্ষীরা