সিয়াম সাধনা: জাহান্নাম থেকে মুক্তির দশক কাল


প্রকাশিত : জুন ৫, ২০১৮ ||

সাখাওয়াত উল্যাহ: আজ ১৯ রমজান। মাগফেরাতে শেষ দিবস কাল। আগামী পরশু থেকে শুরু হবে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার নাজাতের দশক। রাসূল্লাল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশকে ইবাদতে অধিক পরিশ্রম করতেন যা অন্য সময় করতেন না। (মুসলিম-আয়েশা রা.)
শেষ দশক ও এতেকাফ:
রমজানের শেষ দশক অর্থাৎ ২১ রমজান থেকে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত জাহান্নাম থেকে মুক্তির সময়। এ সময়ে এতেকাফ করা হয়। কদরের রাত্রির ফযীলত যাতে ছুটে না যায় সে জন্য রমজানের শেষ দশকে মসজিদে এতেকাফ করতে হয়। রমজানের শেষ দশক এতেকাফ করা সুন্নত। রাসূল্লাল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটাকে সুন্নত বললেও প্রতি রমজানে এতেকাফ তিনি কখনও ছাড়েননি। একবার করতে না পারার কারণে পরে কাযা আদায় করেছিলেন।
এতেকাফের অর্থ:
এতেকাফের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে, কোন জিনিসকে আঁকড়ে ধরা এবং এর উপর নিজ সত্ত্বা ও আত্মাকে আটকে রাখা। আর পারিভাষিক অর্থ হচ্ছে, আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্য কোন ব্যক্তির মসজিদে বাস ও অবস্থান করা। সকল সময় এতেকাফ জায়েজ। তবে রমজান মাসে উত্তম এবং রমজানের শেষ দশকে কদরের রাতের জন্য তা সর্বোত্তম। নামায, রোজা, কোরআন তিলাওয়াত, ইসলামী জ্ঞানচর্চায় নিজেকে সম্পূর্ন ব্যস্ত রাখা এতেকাফের দাবি।
এতেকাফের উদ্দেশ্য:
আল্লামা হাফেজ ইবনে রজব বলেছেন, এতেকাফের উদ্দেশ্য হলো সৃষ্টির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং ¯্রষ্টার সাথে সম্পর্ক কায়েম করা। আল্লাহর সাথে পরিচয় যতো বেশি হবে, সম্পর্ক ও ভালবাসা ততো গভীর হবে।
আল্লামা ইবনুল কাইয়্যেম বলেছেন: আল্লাহর পথে যাত্রা অব্যাহত রাখা নির্ভর করে যোগ্য ও সঠিক মনের উপর। মন শতধা বিচ্ছিন্ন থাকলে সে পথে অগ্রসর হওয়া যায় না। সে জন্যই মনকে আল্লাহর দিকে ধাবিত করা দরকার। অথচ অতিরিক্ত পানাহার, মানুষের সাথে অতিরিক্ত মেলামেশা, বেহুদা ও বেশী কথাবার্তা এবং অতিরিক্ত ঘুম মনকে বিছিন্ন বিক্ষিপ্ত করে রাখে এবং ব্যক্তিকে সকল উপত্যকায় বিচরণ করায়। সে জন্য আল্লাহর পথে যাত্রা বাঁধাপ্রাপ্ত হয় কিংবা দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই মেহেরবান আল্লাহ রোজার মাধ্যমে অতিরিক্ত পানাহার ও যৌন কামনাকে রোজার বিধানের মাধ্যমে দূর করার ব্যবস্থা করেছেন।
আমরা যারা এখনও এতেকাফ করার নিয়ত করি নাই তাদের এক্ষণি নিয়ত করা দরকার। যাতে আগামী কাল থেকেই এতেকাফ শুরু করা যায়। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের এতেকাফ করার যোগ্যতা দান করেন এবং মহিমান্বিত রাতে ইবাদত বন্দেগীর মধ্যে থাকতে পারি সেই তৌফিক দান করেন। আমিন।