কলারোয়ায় ঝাড়ফুক দিয়ে উটের অর্থ আয়!


প্রকাশিত : জুন ৬, ২০১৮ ||

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: সচারচার হাতির পিঠে চড়ে হাতি দিয়ে অর্থ উপার্জনের দৃশ্য চোখে পড়লেও মরুভুমির জাহাজখ্যাত উট দিয়ে অর্থ উপার্জন তেমনটা চোখে পড়ে না। তাও আবার সেই উট ঝাড়ফুক দিয়ে অর্থ আয় করছে। এমনই দৃশ্য দেখা গেলো কলারোয়ার দেয়াড়া ইউনিয়নের খোরদো বাজারে।

মানুষের বাড়ি বাড়ি, হাট বাজারের দোকানে দোকনে, পথচারীদের উট প্রদর্শনী করে অর্থ উপার্জন করলো উটের মালিক, যেনো অনেকটা হাতি প্রদর্শনের মতো। শুধু মানুষের মাঝে গিয়ে উট দেখিয়ে অর্থ উপার্জনেই ক্ষ্যান্ত নয়, নানান রোগের উপশমের জন্য ঝাড়ফুক দিয়ে অর্থ আয় করছে সেই উটও। উটমালিকের বরাত দিয়ে এমনই কথা জানালেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

উপজেলার দেয়াড়া, যুগিখালী, কুশোডাঙ্গাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমানভাবে উট দেখিয়ে চাল, ধান, টাকা সংগ্রহ করছেন তারা।

সম্প্রতি উপজেলাধীন খোরদো দলুইপুর এলাকায় উটমালিক যশোরের অভয়নগর নোয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আকবর আলী ও তার সহযোগীরা ভ্রাম্যমান উট প্রদর্শনী করে সাধারণ মানুষের চিত্তবিনোদন দিয়ে আয়ের পথ খুঁজছেন।

উটের মালিক আকবর আলী জানান- ‘প্রায় দেড় লক্ষ টাকা মূল্যের ওই উট বিভিন্ন মেলায় তাবু ঘিরে দশ টাকা হারে নিয়ে প্রদর্শনী করে থাকেন। এখন মেলা না হওয়ায় ও গ্রামাঞ্চলের মানুষের সুবিধার্থে ভ্রাম্যমাণভাবে মানুষের বাড়ি বাড়ি, বাজারের দোকান ও রাস্তায় রাস্তায় প্রদর্শনী করে কিছু রোজগার করে চলেছেন।’ তিনি আরো জানান ‘বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ধান, চাউল, নগদ টাকাসহ ২/৩ হাজার টাকার মতো আয় হয়।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান ‘শুধু উট দেখে টাকা বা অন্যান্য জিনিস দেয়া হচ্ছে না। তৈল নিয়ে উটের নাক, মুখের সংস্পর্শে ঘোরালেই ব্যথানাশক বা নানান ব্যাধি ভাল হওয়ার নিমিত্তে উটমালিকের ইশারায় ঝাড়ফুক দিচ্ছে উট।’ আসলে এর সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হলেও গ্রামাঞ্চলের সহজ সরল মানুষ কেউ কেউ সেটা করছেন। অনেকই দ্বিধাদ্বন্দ্বে আবার কেউ আরবের মরুভুমি প্রান্তরে থাকা উট এমনটাই বিশ্বাসের মন্তব্য করতে দেখা যায়।

প্রশ্নবিদ্ধ ও আশ্চর্যজনক ঝাড়ফুকের বিষয় জানতে চাইলে আকবর আলী জানান- ‘আরবের মরু প্রান্তরের সংস্পর্শে থাকা আল্লাহর সৃষ্ট প্রাণী উট অছিলা মাত্র, সুস্থ করার মালিক আল্লাহতালা।’