শ্যামনগরে সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন সভাপতির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ


প্রকাশিত : জুন ৬, ২০১৮ ||

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি জিএম সালাউদ্দীন আহমেদ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগ সাজসে বিভিন্ন ভূয়া ভাউচার দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছেন। বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের গ্রামীণ ফোনের মডেম ও প্রায় ১৩ হাজার টাকা মূল্যের স্যামসং স্মাটফোনটি তিনি আত্মসাত করে নিজেই ব্যবহার করছেন। বিদ্যালয়ের মিটিং এ ৩০ হাজার টাকার রেজুলেশন করে সেই রেজুলেশন ফ্লুইড পেন দিয়ে কেটে ম্যানেজিং কমিটির অন্য সদস্যদের না জানিয়ে ৬০ হাজার টাকা লিখে ব্যাংক থেকে টাকা উঠায়ে ভুয়া ভাউচার দিয়ে টাকা আত্মসাত করেছেন। এছাড়া বিদ্যালয়ে রেজুলেশন খাতায় ল্যাপটপ ক্রয় অনুমোদন দেখিয়ে ল্যাপটপ ক্রয় না করে ৪৮হাজার ৫০০শত টাকা আত্মসাত করেন। এছাড়া যশোর বোর্ড বিদ্যালয়ের লাইব্রেরীতে বই ক্রয় করার জন্য ১৫ হাজার টাকা অনুদান দেয়। অনুদানের টাকায় বই ক্রয় না করে ভুয়া ভাউচার দিয়ে উক্ত টাকা আত্মসাত করেছেন। তিনি প্রধান শিক্ষক নিয়োগের নামে ২২ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণে এলাকায় চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আছে এবং উক্ত টাকা নিয়ে আলিসান বাড়ি তৈরী করেছেন। যা এলাকার মানুষের নজরে এসেছে। তার অপকর্মের কথা এলাকায় জানাজানি হলে তার প্যানেলে মনোনীত অভিভাবক সদস্যরা ম্যানেজিং কমিটির সদস্যপদে পাশ করতে পারবে না বলে তিনি ভোটার তালিকায় ত্রুটি রেখে দেন যাতে ভোটের পরে পাশকৃত ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারেন। তিনি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আজিজুর রহমান উক্ত ভোটার তালিকা স্বাক্ষর করে চুড়ান্ত করেন। নির্বাচনের পরে তিনি তাহার প্যানেলের ফেল করা প্রার্থীকে দিয়ে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন। এলাকার সুধী মহল বলতে চান তিনি উক্ত বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করেছেন। উক্ত সভাপতি শিক্ষকদের বলতেন আমার স্বাক্ষরে বেতন পান আমি যা বলব তা না শুনলে বেতন বিলে স্বাক্ষর করে দেব না। বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী বিদ্যালয়ের মোবাইল ফোনের ও ল্যাপটপ আত্মাসাতের প্রতিবাদ করায় এবং গণ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ায় অফিস সহকারী মোঃ তৌহিদুর রহমানের নামে মিথ্যা হয়রানি মূলক মামলা দায়ের করবে বলে ষড়যন্ত করছে। ল্যাপটপ ও মোবাইলের ব্যাপারে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন সভাপতি আমার নিকট থেকে ল্যাপটপ ক্রয় করার জন্য টাকা নিয়েছিলেন কিন্তু ল্যাপটপ বিদ্যালয়ে দেননি। আরও বলেন আমি অবসর গ্রহণের দিন চার্জ বুঝিয়ে দেওয়ার সময় সভাপতি আমার নিকট থেকে উক্ত মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেন। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিএম আজিজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বলেন আমি কিছু জানিনা পরে বলেন বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ ক্রয় করেছিল এটা আমার জানার বাইরে। সরেজমিনে তদন্ত করলে উক্ত বিদ্যালয়ের সভাপতি জিএম সালাউদ্দীন আহমদের ৪ বছরের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমানিত হবে।