শ্যামনগর কেন্দ্রীয় মাদ্রাসার বিরুদ্ধে আদালতে ২ টি মামলা


প্রকাশিত : জুন ৬, ২০১৮ ||

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগর কেন্দ্রীয় দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ, ম্যানেজিং কমিটি গঠনের তঞ্চকতা ও ভারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালত, সাতক্ষীরায় মামলা হয়েছে। মামলা নং-৫৩/২০১৮। মামলাটি দায়ের করেন উক্ত মাদ্রাসার সহঃ সুপার মোস্তফা শাহাজাহান সিরাজ। মামলা সূত্রে প্রকাশ, শ্যামনগর কেন্দ্রীয় দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসাটি দাখিল থেকে আলিম, আলিম থেকে বর্তমানে ফাজিল শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছে। ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) কর্তৃক গত ১৩/২/২০১৫ তারিখে ইআবি/পরি/ফাজিল-প্রাঃ পা/২০১৭/৩২৪৪ নং স্মারকে প্রেরিত অফিস আদেশ দ্বারা অত্র মাদ্রাসাটি ১৭/২/২০১৭ তারিখ থেকে ১৪/২/২০২১ তারিখ পর্যন্ত ৪ বছরের জন্য নির্দেশক্রমে উক্ত মাদ্রাসায় ফাজিল (¯œাতক) প্রাথমিক পাঠদানের অনুমতি প্রদান করেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক মাদ্রাসাটি ফাজিল স্বীকৃত হলেও দাখিল পর্যায়ে এমপিওভুক্ত। ফাজিল (¯œাতক) মাদ্রাসায় সুপার নিয়োগ সংক্রান্ত গত ১৬/৫/১৮ তারিখে দুটি পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। ফাজিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠান প্রধান পদ অধ্যক্ষ, সুপারঃ কোন পদ নেই। অথচ পত্রিকায় সুপার পদে দরখাস্ত আবেদন আহবান করা হলে বিরোধ সৃষ্টি হয়। মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি গঠনে অভিভাবক সদস্য আলহাজ্ব শাহাদাৎ হোসেন ও আলাউদ্দীন কয়াল তাদের কোন সন্তান উক্ত মাদ্রাসায় লেখাপড়া না করায় কমিটি গঠনে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় বিজ্ঞ আদালত মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান, ম্যানেজিং কমিটির সকল সদস্যদের বিরুদ্ধে কারন দর্শানোর নোটিশে জারী করেছেন। মাদ্রাসার সুপার মাওঃ ইসমাইল হোসেন অবসর গ্রহণ করায় পদটি শুন্য হয়। নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক ব্যক্তিরা জানান, বর্তমানে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক সুপার পদে ১০ জন প্রার্থীর আবেদন পাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে ফাজিল মাদ্রাসার উপাধাক্ষ্য মাওঃ মোঃ আবু ইউসুফ, আলিম মাদ্রাসার (আলিম নন এমপিও ভুক্ত) অধ্যক্ষ এ,এ,এম ওজায়েরুল ইসলাম, সুপার মোঃ আবুল কাশেম, মোঃ খবির উদ্দীন, আ.ফ.ম হাবিবুর রহমান প্রমুখ। আবেদনকারীরা অধ্যক্ষ এ,এ,এম ওজায়েরুল ইসলাম এর ঘনিষ্ঠ ও বন্ধু স্বজন। এ প্রতিষ্ঠানে অনেক অর্থের বিনিময়ে হত্যা ও ধর্ষণ মামলার আসামী অধ্যক্ষ এ,এ,এম ওজায়েরুল ইসলাম কয়েক মাস জেল হাজত খাটলেও উক্ত পদে নিয়োগের জন্য মাদ্রাসার কমিটি ও বিভিন্ন দপ্তরে দৌড় ঝাপ করার গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তঞ্চকতাপূর্ণ ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমান মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনছার আলী দাখিল শাখার সহঃ শিক্ষক (বাংলা)। মাদ্রাসায় সহঃ সুপার থাকা সত্বেও তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান প্রধান না করায় জেনারেল শিক্ষক মাদ্রাসার প্রধান হওয়ায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এ ঘটনায় বিজ্ঞ আদালতে ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাস্টার আনছার আলী উক্ত এএএম ওজায়েরুল ইসলাম এর প্রতিবেশী ও বন্ধুসূলভ থাকায় তার দ্বারা কমিটিকে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগটা পরিকল্পিতভাবে হওয়ার পায়তারা চলছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। অবসরপ্রাপ্ত সুপার মাওঃ ইসমাইল হোসেন নিয়মিত মাদ্রাসায় যেয়ে কমিটি ও শিক্ষকদের বিভ্রান্তি করে লেখাপড়ার পরিবেশে নষ্ট করছে এবং উক্ত ওজায়েরুল ইসলামকে নিয়োগের স্বপক্ষে সহযোগীতা করে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় বিজ্ঞ আদালত মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান, ম্যানেজিং কমিটির সকল সদস্যদের বিরুদ্ধে কারন দর্শানোর নোটিশে জারী করেছেন। এলাকাবাসী যথাযথ নতুন কমিটি গঠন পূর্বক বিধি মোতাবেক পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে স্বচ্ছতার সাথে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের দাবী তুলেছে।