সিয়াম সাধনা বেজোড় রাতেই কদর।


প্রকাশিত : জুন ৮, ২০১৮ ||

সাখাওয়াত উল্লাহ: আজ ২২ রমজান শুক্রবার। আজ ইফতার পরবর্তী রাতটি হচ্ছে ২৩ রমজানের। এটি শেষ দশকের একটি বেজোড় রাত। অর্থাৎ লাইলাতুল কদরের রাত।
লাইলাতুল কদরের সময়কাল: পবিত্র কুরআন ও হাদিসে লাইলাতুল কদরের সুনির্দিষ্ট কোন দিন তারিখ বর্ণিত হয়নি। তবে বিভিন্ন হাদিসের বক্তব্য পর্যালোচনা করলে এটাই আমাদের সামনে প্রতিয়মাণ হয় যে, লাইলাতুল কদর রমজানুল মুবারকে হয়ে থাকে এর বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকের ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ তারিখে তথা যেকোন বিজোড় রাতে হতে পারে। তন্মধ্যে ২৭ তারিখেই হওয়া সম্ভাবনা বেশি। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আমাকে বলা হয়েছে যে, লাইলাতুল কদর শেষ দশকে আছে। সুতারাং আমার সাথে তোমরা যারা এতেকাফ করছো, তারা সেই শেষ দশকের দিনগুলোতে এতেকাফ করো। আমাকে একবার কদরের দিন-তারিখ জানিয়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে তা আমার ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই তোমরা শেষ দশ দিনে বিশেষত প্রত্যেক বেজোড় রাতে তালাশ করো। (বুখারী ও মুসলিম)
অন্য এক হাদিসে হযরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কিছু কিছু সাহাবীকে লাইলাতুল কদর ২৭ রমজানের রাতে হওয়ার কথা স্বপ্নে দেখানো হয়েছিল। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন ২৭ রমজানের রাতে লাইলাতুল কদর হওয়ার ব্যপারে তোমাদের স্বপ্ন সবই প্রায় একই রকম। তাই তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি, লাইলাতুল কদর লাভ করতে ইচ্ছুক, সে যেন শেষ দশকের ৭ম রাতে অর্থাত (২৭ শে রাতে) তালাশ করে। (বুখারী ও মুসলিম)
লাইলাতুল কদরের ফযিলত: সুরা কদর বা লাইলাতুল কদরের ফযিলতের ওপর একটি প্রামাণ্য দলিল যে, ‘কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম’। উম্মতে মুহাম্মাদী (সা.) এর পক্ষ থেকে এত বড় উপঢৌকন যা কল্পনাতীত অভাবনীয় ও অচিন্তনীয়। পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার কারনে রাতটি অধিক পরিমানে মর্যাদা সৃষ্টি হয়েছে। এ রাতেই অসংখ্য ফযিলত রয়েছে যথা:
১। এ রাতে বান্দাহর মর্যাদা বাড়ে, ২। এ রাতে পবিত্র কুরআন অবতির্ণ হয়েছে, ৩। এ রাতে আকাশের দুয়ারগুলো খুলে দেওয়া হয়। ৪। এ রাতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ এবং জিবরীল আমীন তাদের প্রভুর আদেশক্রমে অবতীর্ণ হয়, ৫। ফেরেশতাগণ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাম তথা শান্তির বানী নিয়ে আগমনন করেন।
হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: নবী কারীম (সা.) বলেছেন, যখন শবে কদর হয়, তখন সিদরাতুল মুনতাহার সকল ফেরেশতা অবতরন করেন। তাদের সাথে থাকেন। হযরত জীবরিল (আ.) ফেরেশতাগনের সাথে অনেক পতাকা থাকে। একটি পতাকা আমার রওযার (কবরের) ওপরে গাড়া হয়। একটি বায়তুল মুকাদ্দাসের উপরে, একটি মক্কায় মসজিদে হারামের উপরে আর একটি সাইনা (মিসর) এলাকার তুর পাহাড়ের উপরে। তারা এই রাতে একজনও ইবাদতকারী সবগুজার ইমানদার নর-নারীকে বাদ দেন না। বরং তারা সকল ইবাদতকারীকে সালাম প্রদান করেন এবং তাদের জন্য শুভ কামনা করেন। তবে মদখোর, শুকরের মাংস ভক্ষণকারী এবং জাফরানের রঙিন পোশাক পরিধানকারীকে ক্ষমা করবেন না। ফেরেশতারাও তাদের কারও সাথে সালাম মুসাফাহা করেন না।
হাদীস শরীফে এসেছে: ‘নিশ্চই শয়তান এই রাতে (কদরের রাতে) ফজর না হওয়া পর্যন্ত বের হয় না। সে এ রাতে কাউকেও অপ্রকৃতিস্থ-হতবুদ্ধি-সজ্ঞাহীন করার শক্তি রাখে না। সে এ রাতে কোন ধরনের ফ্যাসাদ সৃষ্টি করতে শক্তি রাখে না। এই রাতে কোন জাদুকর কাওকে যাদু করতে পারে না।
হযরত ফাররা (র.) বলেন: ‘কদরের রাতে মহান আল্লাহ সৌভাগ্য এবং নেয়ামত ছাড়া অন্য কিছু বরাদ্ধ দেন না। এ রাত ছাড়া অন্যান্য সময়ে তিনি বিপদ-আপদ, দান এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।