কালিগঞ্জে জমে উঠেছে ঈদের বাজার বিপনী বিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়


প্রকাশিত : জুন ১০, ২০১৮ ||

নিয়াজ কওছার তুহিন: ঈদকে সামনে রেখে কালিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী নাজিমগঞ্জ, নলতা, মৌতলা, রতনপুর, বাঁশতলা, কৃষ্ণনগরসহ উপজেলার বিভিন্ন বিপনীবিতানে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। অন্য বছরের তুলনায় এবার জমে উঠেছে ঈদের বাজার। বিগত বছরের তুলনায় এবার ব্যবসা ভালো হবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। অতিরিক্ত ভিড়ের চাপ এড়াতে এবার আগেভাগেই কেনাকাটা শুরু করেছেন ক্রেতারা। নতুন ডিজাইন ও মান সম্মত পোষকের সমারোহ বেশি থাকায় অধিকাংশ ক্রেতা ছুটছেন নাজিমগঞ্জ ও নলতার বিপনী বিতানে। রমজানের প্রথম দিকে ছিটকাপড়ের দোকানে ভিড় থাকলেও এখন ক্রমশ: ভিড় বাড়ছে গামেন্টেস সামগ্রীর দোকানগুলোতে।
শনিবার সকালে নাজিমগঞ্জ ও নলতাসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে যেয়ে দেখা যায়, বড় ছোট সব দোকানে বিভিন্ন ডিজাইন ও রঙ-বেরঙের ঈদ পোষাকের সমাহার। নাজিমগঞ্জ’র গাইন বস্ত্রালয়, রাজ শপিং, এম রহমান, গাইন লিমিটেড, বস্ত্র বিতান, শাকিল এন্টারপ্রাইজ, মায়ের দোয়া বস্ত্রালয়, আহছানিয়া বস্ত্রালয়, রবি এন্টারপ্রাইজ, পায়েল শপিং সেন্টার, হাফিজুর রহমান এন্ড ব্রাদার্স, পল্লী বাংলা ফ্যাশনসহ উপজেলার বিভিন্ন দোকানে মেয়েদের আকর্ষনীয় পোষাক বেশি শোভা পাচ্ছে। কেনাকাটা চলছে ব্যাপক হারে। নাজিমগঞ্জ বাজারের কাপড়ের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, রোজার প্রথম দিন থেকে আমরা ঈদের বাজার ধরে ১৫ দিন আগে থেকেই নতুন পোষক তুলেছি। এবার ঈদ উপলক্ষে বাজারে ভারতীয় পোশাকের আধিক্য একেবারেই কম। বাজার দখল করেছে বাংলাদেশি পোশাক। এবছর দেশিয় শাড়ীর চাহিদা অনেক বেশি। তাদের মতে, এবছর সব রকম পোশাকের দাম এখনও পর্যন্ত সহনশীল। তিনি আরও জানান, ঈদে তরুনিদের প্রথম চাহিদা হচ্ছে গাউন। আর ছোটদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে ‘ডালি’ নামের পোষাক। এছাড়া টুপার্ট থ্রিপিচ, পাকিস্তানী লোন থ্রিপিচ, লেহেঙ্গা, গাউন ফ্রগসহ মেয়েদের রকমারী পোষাক বিক্রি হচ্ছে। ছেলেদের জিন্স প্যান্ট, সেমি লং পাঞ্জাবী, মোদি কোট, টি শার্ট বেশি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ঈদে এবার কাতান শাড়ির চাহিদা বেশ লক্ষ্যনীয়। এসব শাড়ি দেড় হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টিস্যু সিল্ক নামে ভারত থেকে একটি শাড়ি এসেছে। এটি দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া মুসলিন জামদানি ও টাঙ্গাইলের সিল্ক বিক্রি হচ্ছে সাড়ে চার থেকে ছয় হাজার টাকায়। দেশি বিভিন্ন শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ছয় শত টাকা থেকে দেড় হাজার টাকায়। তবে এবার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে সুতির শাড়ি। এগুলো দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। পছন্দের পোষাক ক্রয়ের জন্য এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ছুটছেন ক্রেতারা। নাজিমগঞ্জ ও নলতার প্রসিদ্ধ দোকানগুলোতে একদামে কেনাকাটার রেওয়াজ রয়েছে। কিছু দোকানে আবার চলছে দামাদামি। সব মিলিয়ে শিশু, কিশোর, তরুণ-তরুণিসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ পছন্দের পোষাক সংগ্রহ করে বাড়ি ফিরছে। ঈদের আগাম খুশী লক্ষ্য করা গেছে তাদের চোখেমুখে।