খোলা কলাম: হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার গ্রামীণ খেলাধূলা


প্রকাশিত : জুন ১০, ২০১৮ ||

সাকিব আল সালিম
খেলাধূলা এক মহান যুদ্ধ যেটা নির্মল, পবিত্র এবং আনন্দদায়ক। তবে আধুনিকতার ছোয়ায় আমাদের সেই আনন্দদায়ক যুদ্ধ ক্ষেত্রের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। যে যুদ্ধে বাঙালির সাফল্য ছিল আকাশ ছোয়া, সেই যুদ্ধে আমাদের কি অবনতি হচ্ছে ? এমন প্রশ্ন অনেকের মনে। কারণ এখন আর মাঠের পাশ দিয়ে গেলে হা-ডু-ডু, কানামাছি ভো ভো প্রভৃতি খেলাধূলা সংশ্লিষ্ট শব্দ শোনা যায় না। আর দেখা যায় না বাচ্চাদের জয়ের উচ্ছাস পরাজয়ের ভেঙে পড়া। এক সময় বাংলাদেশর বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের খেলধূলা হয়ে থাকতো। যেমন: কাবাডি, মোরগ লড়াই, ষাঁড়ের লড়াই, গাদন, কানামাছি, লুকোচুরি ইত্যাদি। এসব খেলার নাম যেমন শ্রুতিমধুর তেমনই আনন্দদায়ক। এসব খেলা সুনাম বয়ে আনতো একেক এলাকার। তবে সেসব খেলা আজ বিলুপ্তির পথে। রূপকথায় পরিণত হচ্ছে সেসব খেলাধূলা। কি কারণ আমাদের এই অবনতির? আজকে কানামাছি, কাবাডি এসব খেলার জায়গা দখল করেছে ডরেমন, টম এ- জেরির মত আকর্ষনীয় কার্টুন। আজ শিশুরা আনন্দ পাচ্ছে স্মার্ট ফোনের রেসিং গেম খেলে। আজ মানুষ কর্ম সূত্রে হচ্ছে শহরমুখী। বিলাসবহুল জীবনের জন্য খেলার মাঠে নির্মিত হচ্ছে মার্কেট বা বাসভবন। তার কুফল পড়ছে শিশু-কিশোরদের উপর। যে শিশু খেলতে খেলতে খেতে পছন্দ করতো সে আজ ইউটিউব দেখতে দেখতে খায়। গ্রমীন জীবনেও তার প্রভাব লক্ষনীয়। খেলার সময় তাদের হাতে নেই। যেটুকু সময় পায় সেটুকু চলে যায় কোন বড় কচিং সেন্টারে বা প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে। তবে লেখাপড়া শেখার জন্য কি খেলধূলার প্রয়োজননেই? মনিষী ব্যারন পিয়ারে দ্যা কুবার্তা বলেছেন’ খেলাধূলা না করলে নিছক বিদ্যা অনুশীলনে যৌবনের উদ্যম, শক্তি ও কর্মক্ষমতার অপচয় ঘটবে। যে সময় কিশোরা খেলাধূলার পেছনে ব্যায় সেই সময়টা অনেক যুবকই মাদক গ্রহণ বা ইন্টারনেটের অপব্যবহারে ব্যায় করেন। কুল্যা গ্রামের একজন সাবেক খেলোয়াড় আতাউর রহমান (আতি) বলেন, একটা সময় নিয়মিত প্রচীন খেলা হতো। তবে এখন বিশেষ দিবস ছাড়া সেসব খেলা হয় না। এভাবে চলতে থাকলে একসময় এসব খেলা হালিয়ে যাবে। শিক্ষিত সমাজ মনে করেন, জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে হলে লেখাপড়ার পাশাপাশিখেলাধূলার বিকল্প নেই। মস্তিস্কেও সাথে শরীরের ক্ষমতার সমতা রাখর জন্য খেলাধূলা আবশ্যক। খেলাধূলার মাধ্যমে একজন মানুষ ছোট থেকে হয়ে ওঠে সময়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তার ভিতরে বেড়ে ওঠে নেতৃত্বগুন, সে শেখে কিভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়। বিশ্বাঙ্গনে সুনাম বয়ে আনতে খেলাধূলার অবদান অসামান্য। বর্তমান সরকার খেলাধূলার প্রতি খুবই সজাগ। প্রতিবছর সকল স্কুল থেকে জাতীয় পর্যায়ে আয়োজন করা হয়ে থাকে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্ট। সরকারী উদ্যোগে প্রতিবছর বিভিন্ন গ্রমীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন খেলাধূলার আয়োজন হয়ে থাকে। বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে সকল উপজেলায় নির্মিত হচ্ছে সুপরিবেশ সম্পন্ন খেলার মাঠ। তবে সরকারের একক উদ্যোগে গ্রামীন খেলাধূলা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট মৌসুমে নয় সকল মৌসুমে সকল গ্রামীন খেলাধূলার চর্চা করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে সকল দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে এবং বিভিন্ন গ্রামীন খেলার আয়োজন করতে হবে। শিশু-কিশোরদের উৎসাহিত করতে হবে। তবেই টিকে থাকবে গ্রাম্য বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধূলাসমূহ।