আলবেদা মাহে রমজান: প্রসঙ্গ: সবে কদর


প্রকাশিত : জুন ১০, ২০১৮ ||

সাখাওয়াত উল্যাহ: আজ ২৪ রমজান রবিবার। শেষ দশকের বিজোড় রাত ২৩ রমজান অর্থাৎ গতকাল আল্লাহর প্রিয় মাহবুব বান্দাগণ রাত জেগে নফল নামাজ, কোরআন তেলওয়াত, কবর জিয়ারত ও রোনাজারি করে রাতটি অতিবাহিত করেছে। আজ দিন শেষে মাগরিব থেকে শুরু হচ্ছে আর একটি বিজোড় রাত ২৫ রমজান। এ রাতটিও লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেখতে দেখতে আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিতে চলেছে পবিত্র এ মাসটি। আলবেদা মাহে রমজান।
কদর রাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য: লাইলাতুল কদরকে ‘লাইলাতুল হাকামও বলা হয় অর্থাৎ লাইলাতুল কদর হচ্ছে আল্লাহর সিদ্ধান্ত প্রবনের রাত। একারনে এ রাতটিকে ‘লাইলাতুত তাকদীরও বলা হয়। শবে বরাতের সেই ভাগ্যরজনীতে গৃহীত যাবতীয় সিদ্ধান্তের কপি সমূহ মহান আল্লাহ এই কদরের রাতে ফেরেশতাদের নিকট হস্তান্তর করেন। ফেরেশতাগন এই প্রাপ্ত সিদ্ধান্তের অনুলিপি এই রাতের পর থেকে বাস্তবায়ন শুরু করে। ফলে বরাতরজনীতে যাদের মৃত্যুর ফয়সালা হয়েছে ফেরেশতাগন তা কর্যকর করে থাকেন। যে শিশু জন্ম নেবে তার আয়োজন শুরু করে দেন। যারা পবিত্র হজ্জ্বের জন্য ভাগ্য রজনী শবে বরাতে মনোনীত হয়েছেন তাদের হজ্জ্বের কার্যক্রম শুরু করার কাজে ফেরেশতাগণ অংশগ্রহণ শুরু করেন।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) এর মতে, এই কদরের রাতে জীবন, মৃত্যু, রিযিক, বৃষ্টি বর্ষণ এবং হাজীদের সংখ্যা ইত্যাদি সিদ্ধান্তের অনুলিপি সমূহ ফেরেশতাদের হাতে অর্পণ করা হয়। এই দিক থেকে এই রাতটির গুরুত্ব এবং তাৎপর্য অপরিসীম। এখানে আলোচনার মূলত তিনটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য।
১) তাকদীর নির্দিষ্ট হওয়া যে, কখন কী ঘটবে? এটি সম্পূর্ণ চিরন্তন ফয়সালার উপর নির্ভরশীল।
২) কদরের রাতে এই তাকদিরটিকে ফেরেশতাদের নিকট প্রকাশ করা হয়। তবে এটি লাওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ করানো আছে। আর লাওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ করে ফেরেশতাদের নিকট প্রকাশ করার যে বিষয়টি তা কিন্তু শবে বরাতেই চুড়ান্ত হয়ে থাকে।
৩) সংশ্লিষ্ট ফেরেশতাদেরকে এ রাতে তাকদির সমূহ বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। বিস্তারিত এভাবে বলা যায় যে, কদরের রাতে
ক) রিযিক উৎপাদন এবং বৃষ্টি বর্ষণের দায়িত্বের অনুলিপি বা আদেশপত্র অর্পিত হয় হযরত মিকাঈল (আ.) এর নিকট।
খ) যুদ্ধ, বাতাস নিয়ন্ত্রণ, সৈন্যসামন্ত প্রস্তুত, ভূমিকম্পন সৃষ্টি করা, মেঘে মেঘে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে বিদ্যুৎ চমকানো, বজ্রপাতের আওয়াজ সৃষ্টি করা এবং ধ্বসিয়ে দিয়ে ধ্বংস করার আদেশপত্র হযরত জিবরীল (আ.) এর নিকট অর্পণ করা হয়।
গ) সর্বপ্রকাশ আমলের অনুলিপি হযরত ইসরাফীল (আ.) এর হাতে অর্পণ করা হয় এবং
ঘ) বিপদ-আপদ, বালা-মুসিবতের আদেশ নামা হযরত আযরাইল (আ.) এর হাতে ন্যস্ত করা হয়।
এসকল কাজ সম্পাদিত হয় কদরের রাতে। কারো কারো মতে শবে বরাতে মানুষের হায়াত, রিযিকের ফয়সালা হয়। আর শবে কদরে সে বিষয়গুলোর সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। যেগুলোর মধ্যে রয়েছে খায়ের ও বরকত এবং নিরাপত্তা রয়েছে।
কারো কারো মতে কদরের রাতে ধর্মীয় কর্মকা- এবং মুসলমানদের বড় ধরনের উপকারে আসে এমন বিষয়সমূহের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। আর শবে বরাতে মৃত ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে কদরের রাতে মালাকুল মওত হযরত আযরাইল (আ.) এর নিকট অর্পণ করা হয়। এছাড়াও উপরোক্ত বিষয়গুলো মহান আল্লাহপাকই সর্বাধিক জ্ঞাত।