কতবেল দেয়ার নাম করে ভাইজিকে কবরের মধ্যে ফেলে ধর্ষণ চাচার যাবজ্জীবন কারাদন্ড ৫০হাজার টাকা জরিমানা


প্রকাশিত : জুন ১১, ২০১৮ ||

বদিউজ্জামান: স্কুল ছাত্রী ভাইজিকে কবরের মধ্যে ফেলে ধর্ষণের দায়ে চাচা জিয়াউর রহমানকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসনে আরা আক্তার জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামী জিয়াউর রহমান সদর উপজেলার দক্ষিণ তলুইগাছা গ্রামের মৃত রাহাতুল্লাহ সরদারের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২৮ অক্টোবর বেলা দেড়টার দিকে আসামী জিয়াউর রহমান তার প্রতিবেশি ভাইজি সদর উপজেলার ভবানীপুর সরকারি প্রাইমারী স্কুলের ছাত্রী (১১)কে কদবেল খাওয়ানোর নাম করে বাড়ির পাশের একটি আম বাগানের পারিবারিক কবর স্থানে নিয়ে যায়। ওই সময় স্কুল ছাত্রীর সঙ্গে থাকা তার চাচাতো বোন (৭)কে ৪টি চালতে দিয়ে এবং পরে কদবেল দেয়ার আশ্বাস দিয়ে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয় আসামী জিয়াউর রহমান। পরে সেখানে একটি ভাঙ্গা কবরের মধ্যে ফেলে স্কুল ছাত্রী ভইজিকে ধর্ষণ করতে থাকে জিয়াউর রহমান। ঐ সময় সেখানে থাকা ২টি কুকুর ঘেউ ঘেউ করে ডাকতে থাকলে স্থানীয়রা সেখানে যাওয়ার আগেই ধর্ষক জিয়াউর রহমান ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এঘটনার পর মেয়েটির মা বাদী হয়ে সদর থানায় আসামী জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার এসআই আসাদুজ্জামান বিষয়টি অধিকতর তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ২ মার্চ আদালতে আসামীর বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করেন।
এ মামলায় ৪ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে আসামি জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদন্ডের আদেশ দেন।
মামলার রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি এড. জহুরুল হায়দার বাবু বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রায়ের সময় আসামি জিয়াউর রহমান পলাতক ছিলেন।