ভাদড়ায় মাদক ব্যবসায়ি মীর শামীম আটকের ১৬ ঘণ্টা পর মুক্তি!


প্রকাশিত : জুন ১১, ২০১৮ ||

মনিরুল ইসলাম মনি: মীর শামীম হোসেন নামের এক কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়িকে আটক করে ১৬ ঘণ্টা পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার ভাদড়া গোডাউন মোড় থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত মীর শামীম হোসেন সদর উপজেলার ভাদড়া মীর পাড়ার মৃত আব্দুল লতিফ মীরের ছেলে।
ভাদড়া বাজারের মো. রুহুল্ল¬াহ ও জালাল উদ্দিনসহ কয়েকজন জানান, তাদের গ্রামের মীরপাড়ার মীর শামীম হোসেনকে শনিবার রাত ১০টার দিকে ইয়াবা সেবন ও বিক্রির অভিযোগে সদর থানার উপ-পরিদর্শক হাজ্জাত হোসেনসহ কয়েকজন পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় কুশখালি ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শ্যামল ও ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেনসহ বহু লোক সেখানে জমায়েত হয়। উপস্থিত লোকজনের সামনে পুলিশ শামীমকে মাটিতে থুথু ফেলতে বলেন। থুথু ফেলতে অপারগতা প্রকাশ করায় সে যে ইয়াবা সেবন করেছে তা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন দুপুর দু’টোর দিকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মারুফ আহম্মেদ তাকে ছেড়ে দেন।
স্থানীয়রা জানান, গত ১৯ মে বৈকারী বাজার এলাকা থেকে একটি টেম্পো গাড়িতে ১০০ বোতল ফেন্সিডিল ও দুই কেজি গাজাসহ চালক শাহীনসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক মঞ্জুর হোসেন। পরদিন তাদেরকে ৫০ বোতল ফেন্সিডিলসহ গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। ওই ফেন্সিডিলের মালিক মীর শামীম হোসেন জেনেও পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি। বরং পুলিশ শামীমকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে।
তারা আরো জানান, ভাদড়া এলাকার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ি ছোট খোকনের ব্যবসায়িক পার্টনার হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করে যাচেছন বিএনপি নেতা মীর শামীম হোসেন। পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করার পাশপাশি তাদের সোর্স হিসেবে নিরীহ মানুষকে বিপদে ফেলতে তার জুড়ি নেই। এরই অংশ হিসেবে জমি নিয়ে বিরোধ থাকা প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর হোসেন বাবলু ও শফিকুল ইসলামকে গত ২ ফেব্রুয়ারি রান্না ঘরের দেয়ালের উপর ৫০ রাউ- টুটু বোরের গুলি রেখে তাদেরকে আনছার উল্ল¬াহ বাংলা টিমের সদস্য পরিচয়ে ডিবি পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর জাহাঙ্গীর হোসেনদের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ জমি জবরদখল করে সেখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন শামীম। সম্প্রতি জাহাঙ্গীর হোসেন জামিনে মুক্তি পেলেও শফিকুল জেল হাজতে রয়েছে।
এ ব্যাপারে মীর শামীম হোসেন নিজেকে মাদক ব্যবসা বা সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ডিবি পুলিশ যথাযথ তদন্ত করেই বাবলু ও শফিকুলকে আটক করেছে। শনিবার রাতে তাকে বিশেষ কারণে পুলিশ ডেকে নিয়ে পরে ছেড়ে দেয়।
জানতে চাইলে সদর থানার উপপরিদর্শক হাজ্জাত হোসেন জানান, শামীমকে আটকের পর জিজ্ঞাবাদে তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না পাওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মারুফ আহম্মেদের সঙ্গে সোমবার বিকেলে বারবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।