কলারোয়ায় চেয়ারম্যান-মেম্বরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন


প্রকাশিত : জুন ১২, ২০১৮ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়ায় স্বামী-দেবরকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে মারপিট করা ও জোরপূর্বক সাদা স্টাম্পে স্বাক্ষর করার চেষ্টার প্রতিবাদে উপজেলার ৩নং কয়লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ ইমরান হোসেনসহ চার জনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে কলারোয়া প্রেসক্লাবে ওই ইউনিয়নের আলাইপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী মাজেদা বেগম এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমার স্বামী একজন গ্রাম্য অসহায় ব্যক্তি। পেশায় একজন ভ্যানচালক। উপজেলার আলাইপুর মৌজায় ১৮ শতক জমি দীর্ঘ দিন যাবৎ আমরা ভোগ দখল করিয়া আসছি। উক্ত জমি ৯০ রেকর্ডে ভুলবশত: একই গ্রামে মৃত ওজিয়ার রহমারে ছেলে ওহিদুজ্জামান বাচ্চু ও সাইদুজ্জামানের রেকর্ড হয়। এমনকি জোর পূর্বক জমিটি দখল করে নেয়।
তিনি বলেন, এরপর আমার স্বামী সাতক্ষীরায় আদালতে রেকর্ড সংশোধননের জন্য মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ৮১৪/১৫। ইতোমধ্যে মামলাটি চলমান কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে এবং মামলার রায় আমাদের পক্ষে হবার সম্ভাবনা রয়েছে। মামলায় বিপর্যয় আঁচ করতে পেরে প্রতিপক্ষ ওহিদুজ্জামান ও সাইদুজ্জামান এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান শেখ ইমরান হোসেন ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বর আবু ফজল সন্ত্রাসী দলবল নিয়ে গত রোববার সকাল ১০টার দিকে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমার স্বামী ও দুই শিশু পুত্রকে বেদম মারধোর করে। এক পর্যায়ে বাড়ি থেকে আমার স্বামীকে উঠিয়ে নিয়ে আলাইপুর প্রাইমারি স্কুলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মারপিট করে আহত করে এবং ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শেখ ইমরান হোসেন সাদা একটি স্টাম্পে জোর করে স্বাক্ষর করে নেওয়ার চেষ্টা করে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, এ সময় আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দেখতে পায় আমার স্বামীকে পিটমোড়া দিয়ে বেধে রাখা হয়েছে। স্বামীকে বাঁচানোর জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করি। কিন্তু ইমরান হোসেন তখন আমার কোন কথা গুরুত্ব না দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ দিতে থাকে। তখন আমি এবং আমার সন্তানরা স্কুল ঘরের বাইরে এসে ডাক চিৎকার করলে এলাকাবাসী আমার স্বামীকে উদ্ধার করে আমার হাতে তুলে দেয়।
এই ঘটনার পর বিকাল সাড়ে ৫টা দিকে ইমরান চেয়ারম্যানের লোকজন আমার দেবর রেজাউল ইসলামকে কলারোয়া বাজারে নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তুলে নিয়ে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত অফিসে আটকে রেখে ওহিদুজ্জামান বাচ্চু ও ইউপি সদস্য আবু ফজল চেয়ারম্যানের নির্দেশে বেদম মারপিট করে। বর্তমানে আমার দেবর কলারোয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চেয়ারম্যান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে আমি, ছেলে-মেয়ে ও আমার স্বামীসহ বাড়ি ছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করছি।