গৃহবধুসহ সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যদের পিটিয়ে চিংড়ী ঘের দখল


প্রকাশিত : জুন ১২, ২০১৮ ||

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সনাতন ধর্মালম্বী সংখ্যালঘু পরিবারের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় চিংড়ী ঘের দখলে নিতে স্থানীয় প্রভাবশালী শাহাজান শেখ ও মনিরুল বাহিনীর সদস্যরা রীতিমত তান্ডল চালিয়েছে।
দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চিংড়ী ঘেরের বাসা ভেঙে গুড়িয়ে দেয়ার পর সংখ্যালঘু ঐ পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুভয়ে পালিয়ে বসতবাড়িতে আশ্রয় নিলেও হামলার হাত থেকে রেহাই পেল না তারা।
ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার বেলা সাড়ে বারটার দিকে শ্যামনগর উপজেলঅর আবাদাচন্ডিপুর গ্রামের পানখালী এলাকায়।
এদিকে শাহাজান ও মনিরুল বাহিনীর সন্ত্রাসীদের অব্যাহগত হুমকিতে সংখ্যালঘু পরিবারের ঐ সদস্যরা এখন শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন হওয়া সত্ত্বেও সুস্থতা শেষে বসতভিটায় ফিরতে আংতকগ্রস্থ হয়ে পড়েছে।
শ্যামনগর উপজো স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন মনিকা মন্ডল (৩২)জানায় তার স্বামী দেবাশীষ মন্ডল দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিকভাবে প্রাপ্ত ঐ জমি ভোগদখল সুত্রে চিংড়ী ঘেরে পরিচালনা করে আসছে। তিনি আরও জানান পার্শ্ববর্তী জমির মালিক শাহাজান শেখ গত কয়েক বছর ধরে দাবি করে আসছিল যে তার জমি দেবাশীষ মন্ডলের ঘেরের মধ্যে চলে গেছে।
মনিকা মন্ডল আাও জানায় এসএ রেকর্ড, হাল খতিয়ানসহ মিউটিশেন পর্যন্ত তাদের নামে রয়েছে। অথচ অকস্মিকভাবে সোমবার বেলা সাড়ে দশটার দিকে শাহাজান শেখ, তার ছেলে রাজু শেখ, মতলেব হোসেন, ভদ গাজীর ছেলে আব্দুর রব, মেহেদী, ওমর ফারুক, মনিরুল, বশির, তৌহিদ, এবং শহীদসহ ভাড়াটে ২০/২৫ জন ব্যক্তি লাঠিশোটা নিয়ে তাদের চিংিড়ী ঘেরে হামলা চালায়। এসময় চিংড়ী ঘেরের বাসা ভাংচুরের পর ঘেরে অবস্থানরতা প্রানভয়ে দৌড়ে অনতিদুরের নিজেরে পৈত্রিক বসতভিটায় আ¤্রয় নিলেও সন্ত্রাসীরা সেখানেও যেয়েও হামলা চালায়। এক পর্যায়ে হমলাকারীরা মনিাকা তার ভাশুরের স্ত্রী অঞ্জলী (৪০)সহ বিদেব মন্ডল, দেবাশীষ মন্ডল ও পঞ্চ মন্ডলকে এলাপাথাড়ী মারধর করে। এসময় পথচারী আব্দুল খালেক মারপিটের শিকার বক্তিদের সাহায্যে গিয়ে এলে মনিরুল তার হাতে থাকা ধারালো দিয়ে আব্দুল খালেকের পায়ে কোপ মারেন।
এক পর্যায়ে প্রতিেিবশীরা এগিয়ে এলে শাহাজান শেখ তার লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে। হামলার শিখার মনিকা মন্ডল, তার স্বামী ও পথচারী আব্দুল খালেক অন্যায়ভাবে সংখ্যালঘু পরিবারের উপর এমন নির্যাতনের প্রতিকার দাকি করে মাননীয় সংসদ সদস্য সহ জেলা পুলিশ সুপার এবং শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসারের দৃষ্টি আকর্সন করে প্রতিকার দাবি করেছে।
তবে শাহাজন ওশখ ও মনিরুল দাবি করেছে তারা সম্প্রতি কোর্টের নির্দেশ পেয়ে ঘের দখলে গিয়েছিলেন। হাতাহাতির কারনে সামান্য কিছু রক্তপাত হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে সম্পুর্ন অন্যায়ভাবে একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনকে এভাবে মারধরের ঘটনায় উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের শ্যামনগর উপজেলঅ মাখার সদস সচিব জয়দেব বিশ্বাস জানান বর্তমান সরকারের আমলেও এধরনের আচারন মেনে নেয়া যায় না। তিনি অতি দ্রুত অফরাধীদের সনাক্ত করে আইনের আওতা য়আনার দাবি জানান।
হামলার শিকার দেবাশীষ মন্ডল জানিয়েছে তারা এ ঘটনার বিচারের দাবি করে শ্রামনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করবে সন্ত্রাসী হামলার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে।