আলবিদা মাহে রমজান: প্রসঙ্গ: কদর ও ফিতর


প্রকাশিত : জুন ১৩, ২০১৮ ||

সাখাওয়াত উল্যাহ: আজ ২৭ রমজান, বুধবার। গত রাতটি ছিল সাতাইশের। এ রাতটি লাইলাতুল কদর হওয়ার ব্যাপারে কয়েকটি দলিল পাওয়া যায়। হযরত হাসান (রা.) বলেন: লাইলাতুল প্রাপ্তির আলামত হলো-‘এরাতটি হবে মোলায়েম এবং উজ্জল গরমও নয়। সকালের সূর্য্য উদিত হবে, কিন্তু কিরণ থাকবে না। হযরত উবাইদ ইবনে উজাইব (রা.) বলেন, ‘আমি ২৭ রমজানে সমূদ্রে ছিলাম। আমি সমূদ্রের পানি হাতে নিয়েছি পানি পেলাম মিষ্টি ও কোমল’। এ রমজানের ২৭ এর রাতটি আমরা অতিক্রম করে এসেছি। আমাদের সামনে আরও একটি বিজোড় রাত রয়েছে ২৯ রমজানের। তারপরেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদুল ফিতরের পূর্বেই আদায় করতে হবে সাদাকাতুল ফিতর।
এই ফিতর যেমন রোযাদারের মনে আনন্দের বন্যা সৃষ্টি করে, তেমনি রমাযানুল মোবারকের রোযাগুলোকে যে ত্রুটি হয়েছে, সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের মাধ্যমে ত্রুটিপূর্ণ রোযাগুলো মহান আল্লাহর দরবারে কবুলের যোগ্য হয়। এজন্য খাছ দিলে, মন খুলে গরীব-দু:খী, অনাহারী, দুস্থ, এতিমকে নির্ধারিত পরিমাণে সাদকা প্রদান করাকে সাদাকাতুল ফিতর বলে। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে ভোগের শিক্ষা নয়, বরং শিক্ষাই প্রধানতম উদ্দেশ্য। যাতে করে তাকওয়া অর্জন করা যায়। নিজেকে সার্বিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখে সিয়ামের মত ইবাদত দ্বারা সুশোভিত করা এবং মানুষের সেবা করে মহান আল্লাহর বন্ধুত্বে নিজেকে জড়িয়ে ফেলা এবং নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা রোজার একটি গোপনীয় উদ্দেশ্য। পরকালের পরম শান্তির ক্ষেত্রে যেন কিছু প্রতিবন্ধক না হয় সে জন্যই সে যাবতীয় ত্যাগ-তিতীক্ষা, সেক্রিফাইসসহ নানাবিধ কল্যাণের কাজে ব্রতী হয়। রোযাদারের প্রতিটি কাজেই যেন রোযার প্রভাবে প্রভাবিক হয়। এ জন্য সে অধিক সাওয়াবের লক্ষ্যে রোযাদারকে ইফতার করায়, ধৈর্যের অনুশীলন করে, সহানুভূতি ও হৃদ্যতা চর্চা করে। রোযার শেষে এসে এই সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা হয় বলেই রোযার শেষে যে ঈদ পালিত হয় তার নামও ভারতীয় উপমহাদেশে, দক্ষিণ এশিয়ার সর্বত্র এবং বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা এই আনন্দ উৎসবকে ঈদুল ফিতর বলে জানেন। বিদেশীরা এই ঈদুল ফিতরকে ‘আদিল ফিতর’ বলে। যেমন- সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাইতে আদিল ফিতর বলতে দেখা যায়। এই ঈদুল ফিতরের আনন্দ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রকৃত রোযাদার ব্যক্তিরাই এই ঈদুল ফিতর উপভোগ করেন।
মোটকথা, সাদাকাতুল ফিতর হলো রমাযান শরীফে রোযা রাখার পর বান্দা পুরস্কার হিসেবে ঈদ যাপন করে থাকে। এই ঈদের মহানন্দে ধনী, গরীব-হতদরিদ্র, মিসকীন-অসহায় শ্রেণির লোকগুলো যেন সমভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে এজন্য পরিবারের সকল সদস্যের পক্ষ হতে নির্ধারিত হারে অর্থ-সম্পদ অভাবি লোকদের মাঝে বিতরণ করাকে ‘সাদাকাতুল ফিতর’ বলে। এটি আদায় করা প্রত্যেক মালেকে নিসাব বিত্তবান ব্যক্তির উপর ওয়াজিব।