দশ কেজি সেদ্ধো চালি ঈদ হয় না, নদীতে মাছ না হলি ঈদ করবো ক্যামনে


প্রকাশিত : জুন ১৫, ২০১৮ ||

 

সামিউল মনির, শ্যামনগর: সুন্দরবন ঘেঁষা দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার নেবুবুনিয়া এলাকায় পৌছে চোখে পড়ে চল্লিশোর্ধ্ব বয়সী আজিজুল ইসলাম ডান হাতটা দাঁতে চেপে সামনের নদীর দিকে তাকিয়ে বাঁধের উপর বসে আছে। অনতিদুরে প্রায় অভিন্ন ভঙ্গিতে একই নদীর পানে তাকিয়ে রেজাউল ইসলাম ও পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সী কচি বিবিসহ আরও তিন জন। জোয়ারের সময় সামনের কপোতাক্ষ নদীতে জাল ধরার পর এখন সবার অপেক্ষা ভাটার। আইলার ভয়ংকর ছোবলের পর থেকে চতুর্দিকে নদী বেষ্টিত গোটা এলাকা এখন কেবলই লবন পানির জলাকার ও বৃক্ষশুন্য ধু-ধু মরুভুমি।

বাধ্য হয়ে মধ্যবিত্ত নি¤œবিত্ত প্রত্যেকের অবলম্বন পাশের কপোতাক্ষ, খোলপেটুয়া আর আড়পাঙ্গাশিয়া নদী। সেখান থেকে শিকার করা মাছ বেঁচা বিক্রি করে চলে তাদের সংসার। বৃষ্টিতে পিচ্ছিল হয়ে যাওয়া পথ ঠেলে পাশে পৌছে আজিজুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হয় তার ও পরিবারের ঈদ’র প্রস্তুতির কথা। মৃদু হেসে নির্বাক দৃষ্টি মেলে কয়েক মুহুর্ত তাকিয়ে থাকার পর সামনের কপোতাক্ষের দিকে আঙুল মেলে আজিজুল জানায়, ‘আমাগো ঈদ ওখানে’। অল্পক্ষণ বাদে তিনি আরও বলেন, নদীতে মাছ শাক হলি ছেলে মেয়েগো কাপড় চোপড় দিতি পারবো, বাজার ঘাট হবে। আর মাছ শাক না জুটলি সেমাই চিনিও কেনা হবে না।