এলো খুশির ঈদ


প্রকাশিত : জুন ১৫, ২০১৮ ||

এসএম শহীদুল ইসলাম: “…ঈদ-অল-ফিতর আনিয়াছে তাই নববিধান/ওগো সঞ্চয়ী, উদ্বৃত্ত যা করিবে দান/ক্ষুধার অন্ন হোক তোমার!/ ভোগের পেয়ালা উপচায়ে পড়ে তব হাতে,/তৃষ্ণাতুরের হিসসা আছে ও পেয়ালাতে/দিয়া ভোগ কর বীর দেদার…/পথে পথে আজ হাঁকিব, বন্ধু, ঈদ মোবারক! আসসালাম!/ ঠোঁটে ঠোঁটে আজ বিলাব শিরনি ফুল-কালাম/বিলিয়ে দেওয়ার আজকে ঈদ!/আমার দানের অনুরাগে রাঙা ঈদগা’রে!/সকলের হাতে দিয়ে আজ আপনারে-/দেহ নয়, দিল হবে শহীদ।” দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর আজ বেলা শেষে দিনের আলো ফুরিয়ে গেলে অগণিত চোখ আকাশে খুঁজে বেড়াবে এক ফালি বাঁকা চাঁদ। আর চাঁদ দেখা গেলেই দেশবাসি মেতে উঠবে ঈদের আনন্দে। সরকারি ঘোষণার পাশাপাশি টিভি-বেতারে বাজতে শুরু করবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অবিনাশী সেই গানের সুর ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এল খুশির ঈদ।’ পাড়া-মহল্লার মসজিদ থেকে ভেসে আসবে ‘ঈদ মোবারক’ ধ্বনি।
আজ চাঁদ দেখা গেলে বাঁধভাঙ্গা খুশির জোয়ারে কাল শনিবার উদযাপিত হবে মুসলিম উম্মাহর সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মিলিত হবেন ঈদের ময়দানে। দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনার পাশাপাশি নিজকে পাপমুক্ত করার জন্য ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা পরম করুণাময় মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন। ধনী-গরীব, আতরাফ-আশরাফ সবাই ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে এক কাতারে আদায় করবেন পবিত্র ঈদের নামাজ। কোলাকুলি করবেন। আত্মায়-আত্মায়, প্রাণে প্রাণে মিলিত হবেন সবাই। মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও নাযাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করবেন। খোলা আকাশের বিশালতায় মন ও হৃদয়কে অকাতরে বিলিয়ে দিতে নিজকে প্রস্তুত করবেন ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা। ইতোমধ্যে ঈদের বাঁধভাঙ্গা খুশির উচ্ছ্বাসের ঢেউ লেগেছে সর্বত্র। রব উঠছে, ‘শাওয়ালের চাঁদ ওই উকি দিয়েছে, ঈদ এসেছে, ভাই ঈদ এসেছে। আজকে খুশির বাঁধ ভেঙেছে। ঈদ এসেছে।’ ‘রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। আপনাকে তুই বিলিয়ে দে আজ, আসমানি তাগিদ।’ ত্যাগের সুমহান মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা ইতোমধ্যে যাকাত-ফিতরা আদায় করেছেন। গরীব-দুখী অসহায় মানুষের জন্য বিলিয়ে দিয়েছেন অর্থ ও নতুন জামা কাপড়। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দূর-দূরান্ত থেকে আপনজনের মাঝে ছুটে এসেছেন অনেকেই। চিরচেনা গ্রামের মানুষের সাথে, পরিবার-পরিজনের সাথে দেখা করতে নাড়ির টানে ছুটে এসেছেন তারা। ঈদের কেনাকাটাও ইতোমধ্যে শেষ করেছেন অনেকেই। অনেকেই এখনো কেনাকাটা করতে পারেন নি। অনেকেই এখনো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন নি। ঈদের ময়দানকে ইতোমধ্যে ধুয়ে মুছে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। সাজানো হয়েছে নান্দনিক রূপে। ঈদের ময়দানের গেটকে সাজানো হয়েছে সৌন্দর্যের রং তুলিতে। শিশু-কিশোরদের হৈ-চৈ কোলাহলে মুখরিত শহর থেকে গ্রাম। সর্বত্র আনন্দ আর উচ্ছ্বাসের বাঁধডাঙা ঢেউ। খুশির এ প্লাবনে ছড়িয়ে পড়েছে মানবতার মুক্তিবাণী। বছর জুড়ে বিরাজ করুক ঈদের আনন্দ। হিংসা, হানাহানি, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে সবাই মিলিত হবেন মানবতার মুক্তির কাতারে। সুখের কণাগুলো সারা বছর ঘিরে থাকুক আমাদের জীবনে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, নৈরাজ্য, সাম্প্রদায়িকতা থেকে চিরমুক্তি লাভ করে ঈদ আমাদের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, অফুরন্ত শান্তি আর অব্যাহত সমৃদ্ধি। ঈদ মোবারক।