কালিগঞ্জে এমজেএফ বিশেষ প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আজহারের সীমাহীন দুর্নীতির তথ্য ফাঁস


প্রকাশিত : জুন ১৯, ২০১৮ ||

বিশেষ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জে এমজেএফ বিশেষ প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শেখ সহিদুর রহমানকে আহবায়ক ও সহকারী শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমানকে সদস্য করে ২ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সম্প্রতি ওই কমিটি সরেজমিন তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। তদন্তে আজহারুলের বিরুদ্ধে স্কুলের অর্থ আত্মসাতসহ সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, আজহারুল ইসলাম এমজেএফ ফাউন্ডেশন নামক একটি এনজিও’র নির্বাহী পরিচালক। তিনি বিশেষ প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়ার সুযোগে একক ক্ষমতা প্রয়োগ করে স্কুলের সম্পত্তি ও অর্থ আত্মসাত করেছেন। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে জানান, বিশিষ্ট সমাজসেবক নজরুল ইসলামের নিকট থেকে দু’দফায় প্রতিবন্ধী স্কুলের জন্য ১২ লক্ষ টাকা অনুদান নেন। ১৯-০৮-২০১৫ তারিখে স্কুলের নামে জমি না কিনে আজহারুল ৫ লক্ষ ৯১ হাজার টাকা মূল্যে ভাড়াশিমলা মৌজায় ১৪ শতক জমি তার নিজস্ব এনজিও’র নামে কোবালা দলিল করে নেন। এছাড়া স্কুলের উন্নয়ন ও বেতন-ভাতা ছাড়করণের জন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের নিকট থেকে তিনি নগদ সাড়ে ৩১ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন। ওই টাকা থেকে স্কুলের ভবন নির্মাণে ২৪ লক্ষ ও বেতন ভাতা ছাড়করণের জন্য মন্ত্রণালয়ে ৬ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে জানালেও তিনি এর সপক্ষে কোন ব্যয়ের হিসাব বিবরণী দেখাতে পারেন নি। তবে স্কুলের হিসাব রক্ষকের দাখিলকৃত খসড়া হিসাব অনুযায়ী সাড়ে ১২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানা গেছে। এখান থেকে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছেন আজহারুল। গত ০৩-০৫-২০১৮ তারিখে অনুষ্ঠিত তদন্তের দিন ক্যাশবুক ও লেজারবুক দেখাতে ব্যর্থ হন আজহারুল। অথচ এর ৫ দিন পর ৮ মে নিজের দুর্নীতি আড়াল করার উদ্দেশ্যে ক্যাশবুক ও লেজারবুক হারিয়ে গেছে মর্মে তিনি কালিগঞ্জ থানায় জিডি করেছেন।
এছাড়াও আজহারুল ইসলাম স্কুলের ভবন ও আসবাবপত্র এনজিও’র কাজে ব্যবহার, স্কুল ক্যাম্পাসে নিজস্ব পোল্ট্রি ফার্ম তৈরী করে পরিবেশ দুষণসহ নানা ভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্কুলের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থে এনজিও’র নামে কেনা জমি অবিলম্বে স্কুলের নামে লিখে দেয়ার পাশাপাশি সঠিক হিসাব-নিকাশ দাখিল ও নিয়মতান্ত্রিক ভাবে পরিচালনা পর্ষদ গঠনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দাখিলকৃত প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ জানান, প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দ ও আর্থিক অনুদান আত্মসাতকারী আজহারুল ইসলাম নিজেকে বাঁচাতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। একটি মহল তাকে রক্ষা করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের। আজহারুল ইসলাম রমজানের ছুটির মধ্যে স্কুল থেকে অনেক আসবাবপত্র সরিয়ে নিয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। এমতাবস্থায় প্রতিবন্ধী স্কুলের ভবিষ্যত নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছেন শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবকবৃন্দ। প্রতিবন্ধী শিশুদের ভবিষ্যৎ নষ্টের চক্রান্তে লিপ্ত আজহারুলের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে অভিভাবকসহ সচেতন মহল। বিশেষ প্রতিবন্ধী স্কুলটি রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।