অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূ পারুল ও তার শিশু ছেলে ইদ্রিসের মৃত্যু: শিশু মরিয়মের অবস্থা আশংকাজনক

নিজস্ব প্রতিনিধি: অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূ পারুল খাতুন ও তার শিশু ছেলে ইদ্রিস খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঈদের দিন (১৬ জুন) শনিবার মারা গেছে। গত ১২ জুন মঙ্গলবার রাতে কেরোসিনের ল্যাম্প জ্বালিয়ে ভাংড়ির দোকানে পেট্রোল বিক্রির সময় তাদের বসত বাড়িতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে দুই শিশু সন্তানসহ পারুল খাতুন ও তার স্বামী অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। আহত মেয়ে মরিয়মের অবস্থা আশংকাজনক। অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত গৃহবধূ পারুল খাতুন আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের ভাংড়ি ব্যবসায়ী খোকন মোড়লের স্ত্রী। নিহত শিশু ইদ্রিস তাদের ছেলে।
আহত খোকন মোড়লের ছোট ভাই আমিরুল ইসলাম মোড়ল জানান, আশাশুনির গোয়ালডাঙ্গা বাজারের পূর্ব পাশে তার ভাই খোকনের বসত ঘরের সাথে একটি ভাংড়ির দোকান ছিল। ওই দোকানে ভাংড়ি ক্রয় বিক্রির পাশাপাশি সে খুচরা পেট্রোলও বিক্রি করতো। গত ১২ জুন মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভাংড়ির দোকানে পেট্রোল বিক্রির সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। এসময় কেরোসিনের ল্যাম্প জ্বালিয়ে একটি পাত্রে পেট্রোল ঢালতে গেলে হঠাৎ করে পেট্রোলে আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন তার ভাংড়ির দোকানসহ বসত ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সাতক্ষীরা থেকে ফায়ার সর্ভিসের একটি ইউনিট গোয়ালডাঙ্গা বাজারে ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই খোকনের দাকানসহ বসতঘর পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়।
এসময় খোকনসহ ঘরে থাকা খোকনের স্ত্রী পাররুল খাতুন (৪০), তাদের শিশু মেয়ে মরিয়ম খাতুন (৮) ও ছেলে ইদ্রিস (৬) অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে ওই রাতেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ জুন শনিবার ঈদের দিন সকাল ৮টার দিকে গৃহবধূ পারুল খাতুন মারা যায়। মায়ের লাশ বাড়িতে আনার আগেই রাতে শিশু ইদ্রিসও মারা যায়।
এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খোকন মোড়লকে রিলিজ দেয়া হলেও আর চিকিৎসা করানো সম্ভব নয় বলে শিশু মরিয়মকে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মরিয়মের শরীরের দুই তৃতীয়াংশ আগুনে পুড়ে গেছে। তার অবস্থা খুবই আশংকাজনক। যে কোন সময় সেও তার মা ও ছোট ভাইয়ের পথ ধরতে পারে বলে জানান আমিরুল ইসলাম।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে নিহতদের লাশ পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়েছে।