শিবপুরে দুই মেম্বরের মামলায় গ্যাড়াকলে দুই আওয়ামী লীগ নেতা


প্রকাশিত : June 21, 2018 ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: সদর উপজেলার শিবপুরে দুই ইউপি সদস্যর জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাল্টাপাল্টি মামলার কারণে যেকোন মুহূর্তে উভয়পক্ষের সমর্থকদের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বছর দুয়েক আগে শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা ইউপি সদস্য খালেদা আক্তারের স্বামী বাবুর আলী আমেরিকা প্রবাসী মিন্টন হোসেনের প্রায় ১০বিঘা জমি ক্রয় করে। জমি কিনে দেওয়ার সূত্রে মিন্টনের জমিসহ পাশ^বর্তী জমির হারি নিয়ে মাছ চাষ করে বাবুর আলী। কিন্তু হারির টাকা যথা সময়ে দিতে না পারাই বাবুর আলীর লীজকৃত ঘেরটি শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মহাদেব সরকারের কাছে লীজ প্রদান করে মিন্টন। এসময় বাবুর আলীর ক্ষতিপূরণ দাবির ফলে শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্যের উপস্থিতে বাবুর আলীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৮৬হাজার টাকা দেয় মহাদেব সরকার এবং বাবুর আলী মহাদেবের ঘেরের পাশে ক্রয়সূত্রে ঘের করতে পারবে তবে লীজসূত্রে নয়- এমন অঙ্গীকার নামায় সাক্ষর করে উভয়পক্ষ। তবে বাবুর আলী মহাদেব মেম্বরের ঘেরের পাশে জমি ক্রয় করে ঘের বাঁধতে গেলে ঝিটকীর সাজ্জাত হোসেনের নেতৃত্বে বাঁধা সৃষ্টি করে ইউপি সদস্য মহাদেব সরকার। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির সহযোগিতায় নিজের ক্রয়করা সম্পতিতে ঘের বাঁধে বাবুর আলী। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার সকালে সাজ্জাত হোসেনের নেতৃত্বে মহাদেব সরকার ও তার বাহিনী বাবুর আলীর ঘেরের বেড়িবাঁধ ভেঙে দেয়। ঘেরের বেড়িবাঁধ ভাঙার সময় বাবুর আলীর স্ত্রী খালেদা আক্তার বাঁধা দিলে উভয়পক্ষের ভিতরে কথাকাটাটি হয়। বিষয়টি মিমাংসার জন্য মহাদেব সরকার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য ইব্রাহিম খলিলকে ফোন করে আসতে বলে। ঘটনাস্থলে ইউপি সদস্য খলিল পৌছানোর সাথে সাথে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। এতে মারাত্মকভাবে আহত হন ইউপি সদস্য মহাদেব সরকার, খালেদা আক্তার ও বাপ্পী হোসেন। নাম প্রকাশ্য অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, উভয়পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ইউপি সদস্য মহাদেব সরকারের ভাই জয়দেব সরকার খলিলকে সংঘর্ষ ঘটনায় মামলার ক্ষেত্রে তাদের পক্ষ নিয়ে সাক্ষী হওয়ার জন্য বললে তিনি সাক্ষী হবেন না বলে জানান। পরবর্তীতে সংঘর্ষের ঘটনায় মিথ্যা সাক্ষী না দেওয়ার কারণে খলিলকে সংঘর্ষের ঘটনায় হুকুমদাতা হিসেবে সাজ্জাদের কথা মত খলিলের নামে মামলা করেন মহাদেব সরকার। অপরদিকে বাবুর আলীর স্ত্রী ইউপি সদস্য খালেদা আক্তার বাদি হয়ে সাতক্ষীরা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমনী আদালত-১ এ সাতজনকে আসামী করে মামলা করে। খালেদার মামলায় শিবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান (মানি) ও মহাদেবের মামলায় ইউপি সদস্য ইব্রাহীম খলিলের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে স্থানীয়রা আরো জানান, উভয়পক্ষ সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত। তবে খলিল ও মানিকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। একারণে উভয়পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে ও যেকোন মূহুর্তে রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তারা। তবে মামলা সম্পর্কে কোন প্রকার মন্তব্য করতে রাজি হননি উভয়পক্ষ।