স্মরণ: স. ম. আলাউদ্দীন: যখন জমবে ধুলা তানপুরাটার তারগুলায়


প্রকাশিত : জুন ২২, ২০১৮ ||

সুভাষ চৌধুরী

২০ জুন প্রত্যুষে শেষবারের বারে মতো সেই তাকে দেখেছিলাম সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের পশ্চিম প্রান্তের কেবিনের বেডে রক্তাক্ত অবস্থায় নিথর দেহ নিয়ে চির নিদ্রায় শায়িত অবস্থায়। ভেতরে বাইরে পুলিশ। আর তাদের ঘিরে রয়েছে উৎসুক হাজার জনতা, যাদের কাছে ক্ষণে ক্ষণে খবর উড়ে আসছে, ‘আলাউদ্দীন সাহেব বেঁচে আছেন’। কিন্তু না তাদের প্রত্যাশার ভ্রান্তি ভেঙ্গে দিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়ে গেলেন স. ম. আলাউদ্দীনের রক্ত সঞ্চালনহীন, হৃদস্পন্দন নিথর স্তব্ধ। হিমশীতল কৃষ্ণকায় ভারী দেহ নিশ্চল পড়ে রয়েছে হাসপাতালের বেডে। আগের রাতেই তার জীবনবায়ু চিরদিনের মতো নি:শেষ হয়ে গেছে আততায়ীর গুলিতে।
দিনভর উত্তাল তোলপাড় সাতক্ষীরার মানুষ ছিল উৎকন্ঠিত। সাহসী আলাউদ্দীন সাহেব খুন হয়েছেন। তারপর কি হবে তা নিয়ে। মানুষের মনের ওপর বিষাদের ছায়া পড়েছিল, তাদের হৃদয় ভেঙ্গে গিয়েছিল। দিনভর নানা জল্পনা কল্পনা হা হুতাশ আর শোক প্রকাশের পর শহীদ রাজ্জাক পার্কের জনারণ্যে বিকালে তার নামাজে জানাজা, সেখানে তার মুখচ্ছবি আমার আর দেখার সুযোগ হয়নি। তারপর মিঠাবাড়ির জন্মভিটায় চিরশয়ানে।
এরপর টানা ২২টি বছর। কখন কিভাবে যে এতোগুলি বছর পার হয়ে গেলো তা ভাবতে অবাক লাগে। এই তো সেদিনই না দেখলাম তাকে একটি সবুজ রংয়ের মোটর সাইকেলে সাতক্ষীরার এ গ্রাম সে গ্রাম ঘুরে বেড়াতে। তার প্রিয় পরিবহন বলাকায় ঢাকায় প্রায়ই যাতায়াত করতে। সেদিনই তো দেখলাম তাকে স্বাধীনতাপূর্ব থেকে সর্বশেষ ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদের সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে। হরতাল ধর্মঘট অবরোধের মধ্যেও তাকে দেখেছি সবে যাত্রা শুরু করা ভোমরা স্থল বন্দরে যাতায়াত করতে দেখেছি। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসই সাক্ষ্য দিচ্ছে যিনি একজন এমপি হিসেবে অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে গায়ে কাদা মাটি মেখে অগোছালো উসকো খুসকো অপরিস্কার বাবরি চুল দাঁড়ির মধ্যে খাঁটি মেঠো বাঙ্গালির অস্তিত্বকে দৃঢ়তার সাথে জানান দিচ্ছেন। দেশজনতা প্রত্যক্ষ করেছে ৭১ এর রণাঙ্গনে তাকে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করতে। আর দরাজ কন্ঠে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে। নিরাভরণ অসাম্প্রদায়িক দেশপ্রেমিক নির্ভেজাল বাঙ্গালি বাবরি দোলানো কৃষ্ণকায় আলাউদ্দীনকে আর দেখা যাবেনা কোনোদিন। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘যখন জমবে ধুলা তানপুরাটার তারগুলায়… শেওলা এসে ঘিরবে দীঘির ধারগুলায়’।
১৯ জুনের কালো রাতের পর ২০ জুন বিকালে আমার ওপর সংবাদকর্মীরা দায়িত্ব দিয়েছিলেন আলাউদ্দীন সাহেবের মৃত্যু ও তার জানাজার খবরটি লিখে দিতে। আমি লিখেছিলাম। চোখের জল থামাতে পারিনি সেদিন। কারণ তার অতি আগ্রহ ও পরম যতনে জন্ম লাভ করা দৈনিক পত্রদূত আমি প্রথম থেকেই দেখভাল করতাম। যে পত্রিকায় লেখা থাকতো সম্পাদক প্রকাশক স. ম. আলাউদ্দীন। তার সেই পত্রিকায় তার মৃত্যু আর জানাজার খবর ছাপার জন্য প্রস্তুত করাটা আমার কাছে যে কতোটা বেদনাদায়ক তা বোধ করি সবাই অনুভব করতে পারবেন না। সেদিন নিজেও ভাবতে পারিনি তারই পত্রিকায় তার চলে যাবার খবরটি পরিবেশন করতে হবে। আর তা আমাকেই লিখে দিতে হবে।
গোড়া থেকেই দৈনিক পত্রদূত প্রকাশনা নিয়ে আমরা বেশ ঝামেলায় পড়েছিলাম। তখন জেলা প্রশাসক ছিলেন মুজিবর রহমান। আর পুলিশ সুপার ছিলেন মো. সানাউল হক। পুলিশ সুপার আমাকে জানালেন, আলাউদ্দীন সাহেবের দলীয় কিছু লোক পত্রিকাটির ডিক্লারেশনে বাঁধার সৃষ্টি করেছেন। একটি গোপন অভিযোগ এসেছে লিখিতভাবে। একে ওভার লুক করি কিভাবে। পাকিস্তানের সামরিক সরকার আলাউদ্দীন সাহেবকে রাজনৈতিক কারণে কোনো ধরণের সাজা দিয়েছিল যা তিনি সাফার করেননি এমন একটি অভিযোগের কথা তিনি আমাকে জানান এবং বিষয়টি যেনো আলাউদ্দীন সাহেবকে না জানাই বলেও জানান পুলিশ সুপার। আমি পুলিশ সুপারকে বলেছিলাম একে তো আইয়ুব খানের সামরিক সরকার, তার ওপর পাকিস্তান সরকার। এমন একটি সরকার যে বাংলাদেশ থেকে সমূলে বিতাড়িত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। উৎখাত হওয়া সেই সরকারের দেওয়া সাজা তো বাংলাদেশের প্রতি আলাউদ্দীনের নিখাদ দেশপ্রেমের চিহ্ন বহন করে। এতে তো তিনি প্রশংসিত ও অভিনন্দিত হবেন। তা না, তার পত্রিকার ডিক্লারেশনে সেটা বাঁধা হবে কেনো, বলেছিলাম আমি। এসপি বলেন, এটা আমি বুঝি, আপনার সাথে আমিও একমত। কিন্তু ডিসিকে একটু বুঝান।
আমি আলাউদ্দীন সাহেবকে কথাগুলি হু-বহু জানিয়েছিলাম। উনি খুব গম্ভীর হয়ে আমাকে সাথে নিয়ে গেলেন ডিসির কাছে। বললেন, ডিক্লারেশনে সমস্যা কি তা জানতে এসেছি। ডিসি মুজিবর রহমান বললেন, ফাইল এসপি সাহেবের কাছে আপনি তার সাথে কথা বলুন। আমি বললাম কথা বলেছি, তিনি আমাকে পাকিস্তানের সামরিক সরকারের দেওয়া সাজার কথা বলেছেন। আমরা জবাবে বলেছি এমনটি হয়ে থাকলে তা আলাউদ্দীন সাহেবের জন্য একটি প্লাস পয়েন্ট। বাংলাদেশ সরকার তাকে কোনো সাজা দিয়েছে কিনা বলুন। ডিসি বললেন, ঠিক আছে আমি দেখছি। এর কিছুদিন পর পত্রিকাটির ডিক্লারেশন পাওয়া গেলো। তবে সেটা ছিল ডিসি আবদুস সালামের হাত থেকে। এর আগে নতুন ডিসি যোগদানের দুই একদিন পর নিজের বাড়িতে বসে আমার সামনে তিনি ডিসিকে ফোন করেন। বলেন, ‘আমি কি আমাদের নতুন ডিসি সাহেবের সাথে কথা বলছি?’ উত্তর এলো জ্বী। এরপর তাকে তিনি ডিক্লারেশনের বিষয়ে বললেন, সবই হয়ে গেছে, আপনি শুধু ফাইলটা দেখে স্বাক্ষর দিলেই হলো।
দৈনিক পত্রদূত এর নামকরণ নিয়ে আলাউদ্দীন ভাইয়ের সাথে আমার একটা মত বিরোধ হয়েছিল। তিনি আমাকে পত্রিকার জন্য কয়েকটি নাম প্রস্তাব করতে বলেছিলেন। আমি যে নামগুলি দিয়েছিলাম তার একটি হচ্ছে দৈনিক বর্ণমালা। আশ্চর্য ব্যাপার আলাউদ্দীন সাহেব নিজেও এক বা একাধিক নাম ঠিক করে এনেছিলেন। আমি বর্ণমালা বলতেই তিনি বললেন কেনো দৈনিক পত্রদূত নাম দেওয়া হলে খারাপ কিসের। এই নাম নিয়ে তার সাথে একটু বাদানুবাদ হলো। অত:পর আমি হেরে গেলাম এবং ঈষিকায় দৈনিক পত্রদূতের লোগো করতে দিলাম। ঈষিকার পরিচালক আবদুল জলিল একদিন পর আমার হাতে সেই লোগোটা দিয়েছিলেন। দৈনিক পত্রদূত সেই লোগোটি অবশ্য পরে আর ধরে রাখেনি। পরিবর্তন করেছে।
ডিক্লারেশন পাবার পর প্রেস এবং পত্রিকা ছাপা নিয়ে পড়েছিলাম মহাসংকটে। সাতক্ষীরায় প্রেসের সংকট ছিল। আহমাদিয়া প্রিন্টিং প্রেস। জাহান প্রিন্টিং প্রেস ও শাপলা প্রিন্টিং প্রেস। চুক্তি হলো শাপলার সাথে। কিন্তু শাপলার তেমন প্রিন্টিং সাপোর্ট ছিল না পত্রিকা প্রকাশ করার। আলাউদ্দীন সাহেব নানা কারণে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়লেন। সে কাহিনী বড়। এমন সময় শেখ আব্দুস সাত্তার বললেন, সাতক্ষীরায় নয়, আমরা খুলনা থেকে প্রথম সংখ্যা ছাপবো। পূর্বাঞ্চল প্রেস থেকেই ছাপা হবে পত্রদূত। আলাউদ্দীন সাহেবের সম্মতি নিলেন তিনি। এরপর আমাদের তিনজনের সমন্বয় হলো। দিন নির্ধারণ হলো ২৩ জানুয়ারি ১৯৯৫। এদিন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল জলিল আসছেন সাতক্ষীরায়। সেই দিনটিই পত্রদূতের প্রথম সংখ্যা প্রকাশের দিন ধার্য করলাম আমরা। টাকাকড়ি নিয়ে এবং সব রিপোর্ট হাতে লিখে আমি ও শেখ আবদুস সাত্তার ২২ জানুয়ারি দুপুরেই চলে গেলাম খুলনায়। পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যা ছাপা হয়েছিল দৈনিক পূর্বাঞ্চলের প্রেসে। গভীর রাতে ছাপা শেষে শেখ আবদুস সাত্তার খুব কম টাকাই দিলেন লিয়াকত সাহেবের হাতে। লিয়াকত সাহেব হাসলেন। তিনি বললেন, আমার ম্যানেজার কি বলবেন। সাত্তার সাহেব বললেন, আমি তোমার ম্যানজারকে চিনি না, চিনি তোমাকে। প্রথম প্রকাশের প্রধান শিরোনাম ছিল ‘যাত্রা শুরুর অঙ্গিকার’। লিখেছিলাম আমি। এতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বাণী ছাপা হয়েছিল। অনেক খবরের ভিড়ে আরও ছাপা হয়েছিল ল্যারি কলিন্স ও ডমিনিক ল্যাপিয়ের লেখা ‘ফ্রীডম অ্যাট মিড নাইট’ (শাসন ও দমনের ভাগ্য নিয়ে জন্ম যে জাতির, লন্ডন নববর্ষ ১৯৪৭) এর বাংলা আনুবাদ। বাংলায় ভাষান্তর করেছিলেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল হামিদ। দৈনিক পূর্বাঞ্চলে পত্রদূতের প্রথম প্রকাশে যারা আন্তরিকভাবে সব ধরণের সহায়তা করেছিলেন তারা হলেন দৈনিক পূর্বাঞ্চলের সম্পাদক মো. লিয়াকত আলি, তার পতœী ডেইলি ট্রিবিউন সম্পাদক ফেরদৌসী আলি ও সাতক্ষীরাস্থ পূর্বাঞ্চল প্রতিনিধি শেখ আবদুস সাত্তার। যিনি সম্পাদক সেই স. ম. আলাউদ্দীন এবং যারা প্রকাশনায় সহায়তা করেছিলেন সেই লিয়াকত আলি ও সাতক্ষীরার শেখ আবদুস সাত্তার এই তিনজনের কেউই আর জীবিত নেই। আর যেদিন আমি খুলনার ময়লাপোতা মোড়ে বসে বসে গল্পে গল্পে বার বার চা খেয়ে প্রকাশনার রাত কাটিয়েছিলাম যাদের সাথে নিয়ে সেই শেখ আবদুস সাত্তার এবং তালার সাংবাদিক ফজলুল হক মনিও নেই, মারা গেছেন। ভাবতে কষ্ট লাগে। অনুভবে দেখি আমি বেঁচে রয়েছি। সাথে বেঁচে রয়েছে সেই পত্রদূত।
২২ বছরে আমার গায়ের চামড়া আরও ঢিলে হয়েছে, দাঁত পড়েছে, চুল সাদা রং ধারণ করেছে, পড়েও গেছে। আর স্মৃতিতে জমেছে অনেক ধুলো। তাই সব কথা মনে থাকার কথাও নয়। আলাউদ্দিন সাহেব বেঁচে থাকলে তারও চামড়া ঢিলে হতো, তিনিও হয়তো ভুলে যেতেন অনেক কিছুই।
সাবেক জেনারেল এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৮ তে চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই। এ নির্বাচন প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগ বিএনপি জামায়াত পৃথক ও সম্মিলিতভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করেছিল। তা সত্ত্বেও সামরিক শাসনদন্ডের অঙ্গুলি হেলনে অনুষ্ঠিত হয় ভোটারবিহীন এ নির্বাচন। নির্বাচনের দিনে তালার একাধিক কেন্দ্রে ভোট গ্রহণে বাঁধা দিয়েছিল ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন যুবক। পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করেছিল। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো তারা ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে ফেলে দিয়েছে। তালার সেই যুবকরা সাতক্ষীরা জেলে আটক। খবর প্রচার হলো পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে চার্জশীট দিচ্ছে। বিচারে তাদের সাজা হয়ে যাবে। তবে পুলিশকে খুশী করতে টাকা দিলে ফাইনাল দেবে বলেছে। এ খবর আলাউদ্দীনের কানে পৌছায়। তিনি ওই যুবকদেরই নেতা। জেল খানায় যেয়ে তাদের সাথে দেখা করবেন ভাবলেন। এমন এক দিন ভর দুপুরে তার সাথে আমার দেখা শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে। বললেন, এদিকে আসেন। দুজনে ঢুকলাম হালিমা হোটেলে। বললেন, পাঁচ কেজি সন্দেশ দেন। সন্দেশ নিয়ে আমাকে তার মোটর সাইকেলের পেছনে বসিয়ে আলাউদ্দীন সাহেব নিয়ে গেলেন জেলখানায়। জেলর মো. ইব্রাহীম আমাদের ভেতরে ঢুকিয়ে নিলেন। আলাউদ্দীন সাহেব বললেন, তালার ওই ছেলেগুলির সাথে দেখা করবো, কথা বলবো। জেলর তাদের ডেকে পাঠালেন। জেলখাটা ছেলেগুলো আতংকগ্রস্ত ও উদভ্রান্তের মতো আমাদের সামনে এসে দাঁড়ালো। কেঁদে বললো। ভাই আমাদের নামে নাকি পুলিশ চার্জশীট দিচ্ছে। তাহলে তো শেষ হয়ে যাবো। আপনাদের কথায়ই তো ৮৮ এর ফক্কা নির্বাচনে বাঁধা দিয়েছিলাম। এখন চার্জশীট দেবে পুলিশ। আলাউদ্দীন সাহেব তাদের সবার হাতে অনেকখানি করে সন্দেশ দিলেন। বললেন, আগে খাও। এরপর বললেন, তোমাদের বিরুদ্ধে পুলিশ চার্জশীট নয়, ফাইনাল রিপোর্ট দেবে। তার ব্যবস্থা আমি করবো। আশ্বস্ত হলো জেলখাটা ছেলেগুলি। তাদের ফ্যাকাশে মুখে ফুটলো শুভ্র হাসি। আমরা বাইরে এলাম। আলাউদ্দীন সাহেব কথা বললেন, তালা থানার ওসির সাথে। ওসি ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়ার আশ্বাস দিলেন তাকে। বললেন, একটু অপেক্ষা করুন স্যার। আলাউদ্দীন সাহেব আমাকে বললেন ছেলেগুলির নামে চার্জশীট দেওয়া হচ্ছে এমন প্রচার দিয়ে কিছু রাজনীতিক টাকা আদায়ের ধান্দায় রয়েছে। আমরা এই ধান্দা ভেঙ্গে দেবো। ছেলেগুলি কিছুদিন পর কারামুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে এলো। পুলিশ ওদের মামলায় ফাইনাল দিয়েছে। আলাউদ্দীন সাহেব ছিলেন একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও জনমুখী রাজনীতিক। ৮৮ এর নির্বাচনে বাঁধা দেওয়া ছেলেগুলিকে রক্ষা করে তিনি সেই প্রমানই দিলেন। যতো ধুলো জমুক, স্মৃতি কিন্তু চাপা থাকে না। তালার সেই ছেলেগুলি আজও সে কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।
বাইশটি বছর পর স্মৃতির ধুলো সরিয়ে এসব বিক্ষিপ্ত কথামালা ভেসে উঠছে আমারও মানসপটে। কারণ ১৯ জুন ১৯৯৬ তে স. ম. আলাউদ্দীন আমাদের সবাইকে পেছনে ফেলে চলে গেছেন অনন্তলোকে। তার স্মৃতিকেই চারণ করি আমরা। লেখক: জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক যুগান্তর ও এনটিভি



error: Content is protected !!