পূর্ববঙ্গের চিঠি


প্রকাশিত : June 23, 2018 ||

সৌহার্দ সিরাজ

তরা কই গ্যাচোচ অনিমা
পূর্ববঙ্গ ছাইরা এইপারে তরা কই আইলি!
এক মাস ধইরা তোগো খুঁজতাছি
তরা কই আচোস, কেমন আচোস?
দ্যাশের কতা তগো মনে নাই?
গ্যারামের কতা মনে আহে না?

তোই কি জানোস তর পেরমিক মোসলেম
দুইডা পোলার বাপ হইছে
হ্যার বউডা ব্যাবাক দিন অসুচতো থাহে
কত্ত ডাকতার দ্যাহাইলো
কাজ অয় না, শুদু কয় প্যাটে ব্যতা
ছ্যারাডার বরো দুক্কো রে।

তগো বারির লগে একটা খাল আচিলো
হ্যার ধারে কালীপূজা হইত,
কত্ত আনন্দ হইত, যাত্রা গান হইত দুইদিন ধইরা
চাল্নার জ্ঞানবাবুর মাইয়ারা কী অভিনয় করতো!
আ্দারের মুসাফির!
মনে আচে তর গীতাদির কতা?
পূজার ঘরডা খুব ভালা আচিলো না
এহোন হেই ঘর পাকা হইচে,
ছাদ দিয়া দিচে সরকার, কারেন দিচে
আমাগো দ্যাশ এহোন অনেক ভালা রে।

গত মাসের তেরো তারিক তোগো খুচতে
এপারে আইলাম
আওনের সময় মায়ে কইচিলা
তুই ত যাইতাচোস গ্যাদা
সুক শান্তির কতা কইয়া আমাগোর ব্যাবাক লোকজন
ইন্ডিয়া গেলো গা,
ওপারে অরা কেমন আচে আল্লাই কইবার পারে।

কেউ তোগো কতা কইবার পারে না কেন্
গেলি কই তরা!
পূর্ববঙ্গ থিকা কত লোক আইচে!
সারা পশ্চিমবঙ্গ বইরা গ্যাচে আমাগো দ্যাশের লোকে
উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, হুগলি, নদিয়া, বর্ধমান
এইহানে এত্ত লোক আইলো কেমনে!
এ্যারা কবে আইলো নিজের দ্যাশ ছাইরা!
নব্বই সালে ইন্ডিয়ায় বাবরি মসজিদ
ভাঙ্গনের পর তিকা হেই কামডা হইচে
এ্যাহোন বুচতাচি।

অনিমা তরা কি আর বারিত যাইবি না?
জন্মভূমির মাটি ভুইল্যা যাইবি!
মায়ে কত্ত তদের কতা কয়
আমার ছোডো বোনডা ডাঙ্গর হইচেল
গত বৎসর তারে বিয়া করাইচি
হ্যার জামুই নোয়াআইল্যা, গারমেন্টচের সুপারভাইজার
হ্যাও ডুকচে।
তদের হিমসাগর আম গাচে এবার ফলন খুব ভালাই দিচে
কুলগাচডা আর নাই, এত্ত বালা কূল আচকাল দ্যাহোন যায় না
হানিপ শিকদারের লোকজনে হ্যার দখল নিচে জানোচ ত!

কত মানুষের লগে দেহা হইল,
মনোরঞ্জন কাকা -আমাগোর মেম্বার আচিলো
চিত্ত খুরো -যাত্রাদলে বিবেক গাইত
আমার বাপের লগে অনেক নাইট গাইচে
আমারে দ্যেইখাই কী যে খুশি হইছে অরা,
আমার ছোডো ভাইয়ের দোচতো
গোবিন্দর লগে দ্যাহা হইছে,
শংকর সরকার, সুভাষ ঢালী, অসিত মন্ডলেরে
এহোনতরো খুইজ্জা পায় নাই,
হাসনাবাদ, মসলন্দোপুর, কৃচনোনগর
কত্ত জায়গায় ত গ্যালাম গা।

উৎপলের মা কাকন মাসি কত্ত কতা কইলো
আগের মতো আমাগোর বিলে হরকচ ধান ভালা হয় কিনা
কাডোলতলার গাঙ্গে এহোনো বোয়াইল মাছ আহে?
পঞ্চরামের বারিত কি বৎসরের চরক পূজাডা হয়?
তিন রাচ্তার মোরে এ্যাহোনো ষষ্টির ম্যালা বসে!
মাসি দেহি কিচ্চু ভোলে নাই!

সবাই ভালা আচে কিন্তু সুক নাই
এত্ত বরো দ্যাশ!
বসিরহাট, বনগা, বারাসাত, কলিকাতা, নবদীপধাম
গুরতে ভালোই লাগে, ভারা কম।
কত ছচতা ফল এ দ্যাশে!
আঙ্গুর বেদানা য্যানতেরি মাগনাই
দিয়া দ্যায়
কিন্তু মনে সুক নাই কারো, ক্যান্!
হিন্দুর দ্যাশে হিন্দুই আইচে
হিন্দুর মতো কইরা আরামে গুরতাচে খাইতাচে!
মালাউন বইলা কেউ গাইল পারে না
তাইলে সুক কই গ্যালা?

আগের দিনে ব্যাবাক কানাগুষা চলতো
চ-ির মায়ে ত একবার কোইয়াই ফালাইলো-
ওই যে বরডার দ্যাকতাচো,
ওর ওপারেই আচে-ইন্দ্রপুরী,
বুজো? সরগো।
গ্যালে বুজবা, চল্, যাই বি?

এপারে ত মনে কারোরি সুক গ্যাকতাচি না!
কামুই ভালা, খাওয়োন ভালা, ভয় নাই
কিন্তু নিজ দ্যাশের সুকের স্মৃতির
সবাইরে কাঁদাইতাচে
সবার বুকের মধ্য দিয়া একডা গোপন কান্নার ¯্রােত যাইতাচে
হেই কান্নার কূলে শুদু বাংলাদ্যাশ আর নিজের গ্যারাম,!
কী সুন্দর দ্যাশ তরা ফ্যালা আইচোত রে!

অনিমা তরা কি বাংলায় আচোশ নাকি
বাংলার বাইরে?
ননিতাল না রায়পুর?
কিচু কিচু লোক নাকি ক্যারালার দিকে যায়
হেইডা আবার কন দিকে, তা ত জানি না।

এত্ত কষ্ট কইরা আইলাম তরে একবার দেখুম বইলা
ক্যালাসে তুই ছেকেন্ড হইতি আমি ফাস্ট,
তর কি বিয়া অইচে? জামুই কি করে?
পোলা পাইনের কি অবচ্তা?
কপালডা মোগো ব্যাবাকই খারাপ
কইতইবো।
এত্তো খুজি, দ্যাহা অয় না।

চন্দনের বাসায় থাইক্কা আর কদিন তদের খুজুম,
হ্যারপর যামুগা।
হ্যার বউডারও মন বেশি ভালা না রে,
আত্মীয় নাই, স্বজন নাই, কার লগে কতা কয়, ক তো দেহি
এসটার জলসা আর জি বাংলা কতক্ষণ ভালা লাগে, কইবার পারো!
তরা ভালা থাইস রে পাগলি!