৩৪তম মৃত্যুবার্ষিতে স্মরণ: নির্লোভ নিরহঙ্কার সাংবাদিক অধ্যাপক তবিবুর রহমান


প্রকাশিত : জুন ২৬, ২০১৮ ||

সুভাষ চৌধুরী: পত্রিকার নাম দৈনিক পূর্বদেশ। মফ:স্বল পাতায় ইয়া বড় এক ছবি। ছবির ক্যাপসন ‘সাতক্ষীরা শহরের মধ্যস্থানে অকেজো নলকূপ’। এ ঘটনা ১৯৭২ সালের। রিপোর্টে বলা হয় মহকুমা শহর সাতক্ষীরার জনসংখ্যা ৩০ হাজার। পানীয় জলের নলকূপ আছে ২০৩টি। তবে তা কাগজে কলমে। বাস্তবে তার অর্ধেকেরও কম। আর সাতক্ষীরা মহকুমার সাতটি থানায় নলকূপের সংখ্যা ২৪৫০টি। এটাও কেবল কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই। সাতক্ষীরার মানুষের খাবার পানির সমস্যার কথা এভাবেই তুলে ধরেছিলেন প্রয়াত কবি সাহিত্যিক ও সাংবাদিক অধ্যাপক তবিবুর রহমান। সাতক্ষীরায় আজও পানি সমস্যার সমাধান হয়নি। জনসংখ্যা বেড়েছে। সেই সাথে মানুষের পানির চাহিদাও বেড়েছে। কিন্তু পৌরসভা খাবার পানি সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
সাংবাদিক অধ্যাপক তবিবুর রহমান ৩১-৭-১৯৬৮ তারিখে প্রকাশিত দ্য মর্নিং নিউজের অপর এক রিপোর্টে লেখেন ১৯১৪ সালে ভাইসরয় অব বৃটিশ ইন্ডিয়া কোলকাতা থেকে নাভারন হয়ে সাতক্ষীরার মধ্য দিয়ে সুন্দরবন পর্যন্ত রেল লিংক স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেটি অনুমোদনও করেছেন। সে অনুযায়ী দ্রুত গতিতে কাজও চলছে। এ রিপোর্টের শিরোনাম ছিল ‘সাতক্ষীরা নীডস রেইল লিংক ফর ট্রেড প্রসপেক্টস’। সাতক্ষীরায় রেইল লিংক স্থাপনে সাংবাদিক তবিবুর রহমানের সেই প্রত্যাশাও পূরণ হয়নি। সাতক্ষীরায় রেল লাইন আসেনি। কবে আসবে তাও কেউ জানেনা।
শুধু কবি আর সাহিত্যিকই নন, সমসাময়িক পত্র পত্রিকায় সাংবাদিকতা করে যিনি মানুষের কথা এভাবে বারবার তুলে ধরেছেন সেই কিশোর বয়স থেকে আমৃত্যু, তাকে নিয়ে লেখালেখি হয়নি। সংবাদপত্রের পাতায়, সাময়িকী, সংকলনে, বই পুস্তকে যে মানুষটির নাম খোদিত হতো, যার ‘আহত মরালির স্বর’ কাব্যগ্রন্থ আজও যাকে বাঁচিয়ে রেখেছে সেই কবিকে নিয়ে বারবার আলোচনা হয়েছে, কিন্তু লেখালেখি হয়নি। উপেক্ষিত অথচ আলোকিত কবি অধ্যাপক তবিবুর রহমানের ৩৪তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ ২৬ জুন। লোভ লালসা আত্মপ্রচার ও খ্যাতির মোহ তাকে স্পর্শ করতে পারেনি কখনও। নির্লোভ নিরহংকার নিভৃতচারী হিসেবে বহুমুখী শিল্প সাধনা করে গেছেন তিনি। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অধ্যাপক তবিবুর রহমানকে কোনোদিন শহরে কোনো যানবাহন চড়তে দেখা যায়নি। সকাল দুপুর বিকাল এমনকি রাত অবধি তিনি হেঁটে বেড়িয়েছেন। তার হাতে থাকতো ছাতা, একটি ব্যাগ কিংবা একটি খাম। এমনকি বেশ কিছু খবরের কাগজসহ নানা কাগজপত্র। তার বাচনভঙ্গি ছিল মধুর। কথা বলতেন স্পষ্ট ভাষায়। তার চলনে বলনে কথনে ফুটে উঠতো খাঁটি বাঙালির রূপ।
১৯৭১ সালের ২৬ জুলাই তারিখে প্রকাশিত দ্য মর্নিং নিউজের আরেক রিপোর্টে তবিবুর রহমান লেখেন ‘দ্য সুন্দরবনস এন্ড ইটস ফিদার্ড ট্রাইবস’। এই রিপোর্ট পড়ে এক জার্মান পর্যটক চলে আসেন সাতক্ষীরায়। তিনি সুন্দরবন স্বচক্ষে দেখে অভিভূত হন। সুন্দরবন ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করেন। তিনিও তার লেখায় তুলে ধরেন সুন্দরবনের শ্যামল সৌন্দর্য, এর সমস্যা ও সম্ভাবনা। ১৯৬৯ এর ৪ জুলাই এক রিপোর্টে তবিবুর রহমান লেখেন পাটকেলঘাটা ব্রীজের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় খুলনা সাতক্ষীরা সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না। তবিবুর রহমান যখন সাংবাদিকতা করেছেন তখন তিনি খুব সামান্য অংকের সম্মানী পেতেন। যেমন ১৯৬৮ এর অক্টোবরে তিনি সম্মানী পান ৯৫ টাকা ৪০ পয়সা। নভেম্বরে ৭১ টাকা, ডিসেম্বরে পান ৩১ টাকা। তার সময়ে তিনি প্রতি লাইন ছাপা নিউজ বাবদ দশ পয়সা আর মাসিক রিটেইনার হিসেবে পেতেন দশ টাকা মাত্র। ১৯৬৮ সালে তৎকালিন এসডিও আবদুল হাকিমের বরাত দিয়ে এক রিপোর্টে তিনি পূর্ব পাকিস্তানে প্রত্যাগত ভারতীয় নাগরিকদের সংখ্যা তুলে ধরেন। সাতক্ষীরা মহকুমায় এই সংখ্যা ছিল ৬১ হাজার ১২৪ জন। এরমধ্যে দেবহাটায় ৬২৯ পরিবারে ৪২৪৩ জন, কালিগঞ্জে ৮৬৮ পরিবারে ৬৩৭৩ জন, তালায় ৩৭২ পরিবারে ২৩৮৪ জন, কলারোয়ায় ১৯৭৬ পরিবারে ১২১৩৫ জন, আশাশুনিতে ১৫৯ পরিবারে ১০২৯ জন, শ্যামনগরে ২২০৩ পরিবারে ১৪৪১৬ জন, সাতক্ষীরা শহরে ১৫০৯ পরিবারে ৯৫২৭ জন এবং সাতক্ষীরা সদর থানায় ১৮৮২ পরিবারে ১১০১৫ জন।
তিনি ছিলেন একজন সৎ এবং কর্মনিষ্ঠ সাংবাদিক। দিনভর তিনি শুধু কাজই করতেন। সেই সকালে একবার বেরিয়ে যেতেন আর ফিরতেন দুপুরে কিংবা বিকালে। ফের বেরিয়ে ফিরতেন রাতে। তিনি ছিলেন বই পাগল। সব সময় বই পড়তেন। কাগজপত্র ঘাটাঘাটি করতেন। পত্রিকায় বা কোনো সংকলনে লিখে তৃপ্ত হতেন। এভাবেই তিনি সমাজ চিত্র তুলে ধরতেন। অথচ তার চিত্র আমরা কেউই তুলে ধরিনি।
পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাট মহকুমা শহরে ১৯৩৮ এ জন্মেছিলেন তিনি। ১৯৫০ সালে তার পিতা ডা. গোলাম নবী সপরিবারে সাতক্ষীরায় চলে আসেন। ১৯৫৪ সালে সাতক্ষীরা পিএন হাইস্কুল থেকে দ্বিতীয় বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন তিনি। আর্থিক কারণে কিছু সময়ের জন্য তার লেখাপড়ায় ছেদ পড়ায় তিনি ১৯৫৮ সালে সাতক্ষীরা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। তিনি যখন ক্লাস ফোরের ছাত্র তখন তার লাইব্রেরীতে নিজের কেনা বইয়ের সংখ্যা ৪০০। ছেলে বয়সে স্কুলে যাবার সময় পরিবার থেকে তার হাতে প্রতিদিন দেওয়া হতো চার পয়সা। এর দুই পয়সায় মিষ্টি মিঠাই কিনে খেতেন তিনি। বাকি দুই পয়সা দৈনিক জমিয়ে সপ্তাহ শেষে বই কিনতেন তবিবুর রহমান। ১৯৬০ সালে তিনি বিএ পাস করার পর বাগ আঁচড়া হাইস্কুলে সহকারি শিক্ষক পদে যোগ দেন তিনি। ১৯৬৪ সালে বাংলা সাহিত্যে এমএ শেষ করার পর অধ্যাপনায় যোগ দেন সাতক্ষীরা কলেজে। লেখালেখি করে ও প্রাইভেট পড়িয়ে তার লেখাপড়ার খরচ তিনি নিজেই যোগাতেন। তার কর্মজীবনের সবটুকু কেটেছে সাতক্ষীরা কলেজে। শিক্ষকতা ও সাহিত্য সেবার পাশাপাশি অধ্যাপক তবিবুর রহমান পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন সাংবাদিকতা। ১৯৬৪ সালে দৈনিক পাকিস্তানের সাতক্ষীরার নিজস্ব সংবাদদাতার দায়িত্ব গ্রহন করেন তিনি। কয়েক বছর পর তবিবুর রহমান যোগ দেন প্রভাবশালী ইংরাজী দৈনিক মর্নিং নিউজে। এক পর্যায়ে তিনি দৈনিক পূর্বদেশ ও সর্বশেষ রাজশাহীর দৈনিক বার্তায় সাতক্ষীরা মহকুমা প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছ্ড়াাও তিনি সাপ্তাহিক চিত্রালীতে সাংবাদিকতা করেছেন বহুদিন। দীর্ঘ সুঠামদেহী তবিবুর রহমান স্কুল ও কলেজ জীবনে কয়েকবার শ্রেষ্ঠ ভলিবল খেলোয়াড় হিসাবে পুরস্কৃত হন। কলেজ ও স্কুল টীমের ক্যাপটেইনের দায়িত্ব পালন ছাড়াও তিনি স্কাউটিংয়ে গুরুত্বপূর্ন পদ লাভ করেন। কলেজ সরকারি হওয়ায় ১৯৮০ সালে তবিবুর রহমানকে সাংবাদিকতা ছাড়তে হয। এরপরও তিনি অদম্য নেশা নিয়ে লেখালেখি করতে থাকেন এবং সাহিত্য সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গনে তার বিচরণ ছিল অপ্রতিরোধ্য। দুরারোগ্য আন্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৮৪ সালের ২৬ জুন পবিত্র শব ই কদরের রাতে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্য জগতে তার পদচারণা শুরু। সাতক্ষীরা পিএন হাইস্কুল এ সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে তিনি দৈনিক আজাদের ‘মুকুল মাহফিল’ এর সদস্য হন। এ সময় ঢাকার কিশোর মাসিক ‘সবুজ মিশনে’ তার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়। নবম ও দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ঢাকা ও কোলকাতার বহু কিশোর সাময়িকীতে তার কবিতা ও প্রবন্ধ ছাপা হতে থাকে। ১৯৫৩ সালে কোলকাতার কিশোর মাসিক ‘মৌচাক’ এর শারদীয় সংখ্যায় কিশোর তবিবুর রহমান অংকিত প্রথম জলরঙ ছবি ‘পানকৌড়ি’ প্রকাশিত হয়। সাতক্ষীরার কলেজে অধ্যয়নকালে ঢাকার মাসিক ‘ইয়ং পাকিস্তান’ এ তার প্রথম ইংরাজী কবিতা ছাপা হয়। নাট্য ব্যক্তিত্ব তবিবুর রহমান তারাশংকর বন্দোপাধ্যায় এর ‘দুই পুরুষ’ এ অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার লাভ করেন। যশোর এমএম কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে তবিবুর রহমান একাধিকবার সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ছিলেন বাংলা একাডেমির সদস্য। সাতক্ষীরা শহরে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংস্থা ‘কোরক’ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। পরবর্তীকালে তিনি সাতক্ষীরা সাংস্কৃতিক সংস্থার সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালে তবিবুর রহমান সাতক্ষীরা প্রগতিসংঘের পুরস্কার লাভ করেন। প্রয়াত সাংবাদিক কবি তবিবুর রহমান সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠায় অগ্রনী ভূমিকা গ্রহন করেন। তিনি ছিলেন সাতক্ষীরা পাবলিক লাইবেরীর আমৃত্যু সাধারন সম্পাদক। প্রয়াত কবি তবিবুর রহমান বিদগ্ধ বিস্মৃতা ‘কবি আজিজুন্নিসা খাতুন’ শীর্ষক প্রবন্ধ লিখে সমাদৃত হন। এর পরই বাংলা একাডেমি কবি আজিজুন্নিসার জীবনগ্রন্থ প্রকাশ করে। আলোকিত কবি তবিবুর রহমান রচনা করেন ‘আহত মরালির স্বর’ ও ‘মনন কথন ও নির্বাচন’ (অপ্রকাশিত) । উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সহায়িকা গ্রন্থ, বাংলা ভাষা ও রচনা (ষষ্ঠ শ্রেণিতে পাঠ্য) মুজাহিদ সহায়িকা, ধান শালিকের দেশ (ছড়া সংকলিত ,বাংলা একাডেমি), সংকলিত কবিতাগ্রন্থ ত্রিদিব, ফুলঝুরি ছাড়াও তিনি লেখেন অসংখ্য কবিতা প্রবন্ধ, ছোট গল্প।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ২০১১ তে প্রকাশ করেছে কবি সাংবাদিক অধ্যাপক ‘তবিবুর রহমান রচনাবলী’ এই প্রকাশনার মুখবন্ধে তৎকালিন জেলা প্রশাসক বর্তমানে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুস সামাদ লিখেছেন ‘আপনি রাজপুত্রের দাপটে সাতক্ষীরার ধূসর নি:সর্গকে করেছেন শ্যামলিমাময়। বেত্রাবতীতে তুলেছেন আনন্দিত উচ্চারণের ঝড়। সে ঝড় একেবারে শেষ হয়ে যায়নি, বিস্তৃত হয়েছে শত নদীতে হাজারো ঝর্ণাধারা হয়ে। মুকুলের মাহফিলের সাহিত্য পাতা থেকে অভিজাতদের মুখপাত্র ‘দ্য স্টেটস ম্যান’, কাব্য চর্চাা থেকে ভলিবলের মাঠ, সংস্কৃতি সংগঠন থেকে সাংবাদিকতা, ক্লাসরুম থেকে আলোকময় সভা সর্বত্রই ছিলেন আপনি। আপনার সময়ের প্রতিষ্ঠার পথ ছিল অনেকটাই খোলা, তবু আপনি সে পথ মাড়াননি, পরিশ্রান্ত আত্মাকে বারবার ধুয়ে নিয়েছেন সাগর থেকে উঠে আসা সুন্দরবন ছোঁয়া দখিন হাওয়ায়। আপনার সময়ের আষাঢ জুড়ে ছিল জোনাকজ্বলা আলো, কখনও বা বিদ্যুৎ চমকানো স্ফুলিঙ্গ। সে আলো আঁধারকে একেবারে উড়িয়ে দিতে পারেনি। তবু আপনি ছড়িয়ে গেলেন রুপের প্রভা আপনার নির্বাচিত পঙতিমালার মতো শীতল পললে গড়া এ জনপদে। ‘এখন আলোকিত নদীর ঘাটে কেউ নেই জানি, তবু ভাবি ঘাটে এসে সে মেয়ে ছড়াবো আলো’। জীবনকে ভালবেসে কোনো কোনো জীবন হয়ে ওঠে গান, আপনার জীবনও সেরকম ধ্রুপদী সঙ্গীত। আমের মুকুলের গন্ধে ভরা এ ভূবনে আপনার বসবাস আপনাকেও করেছে পূণ্যগন্ধময় এবং ঝরেও গেলেন আপনি মুকুলের মতোই। ঝরেও ছড়ালেন গন্ধ আমের মুকুলের। এক উজ্জীবিত মানুষ আপনি, তবু আপনার আত্মায় উত্থিত হয় আহত মরালীর মতো দু:খ জাগানিয়া গান। আপনি নেই, তবু আছেন নক্ষত্রের রূপালি আলোর যাদুময় পরশ বুলিয়ে, ছড়িয়ে সবখানে।
নিভৃতচারী গুনী ব্যক্তি সাহিত্যিক সাংবাদিক শিক্ষক তবিবুর রহমানের জীবন ও কর্ম নিয়ে লিখেছেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক অধ্যাপক মিজানুর রহমান। তিনি তুলে ধরেছেন তার জীবন কথা, জন্ম ও বংশ পরিচয়, শিক্ষাজীবন, কর্ম জীবন, সংসার জীবন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা, সাংবাদিকতা, শেষ জীবন ও মৃত্যু, সমকালীন প্রতিক্রিয়া, স্বীকৃতি ও সম্মাননার নানা তথ্য উপাত্ত। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রয়াত অধ্যাপক অসিত কুমার মজুমদার তার সহকর্মী তবিবুর রহমানকে নিয়ে লিখেছেন ‘সীমাবদ্ধতার বেদনা তাকে পীড়িত করতো। উপযুক্ত শিক্ষার্থীর অভাবে তার মেধা ও শ্রম ক্ষীয়মাণ হচ্ছে এ বিষয়ে তিনি সচেতন ছিলেন। কিন্তু এ সকল প্রতিকূলতাকে তিনি চরম বলে মেনে নেননি। যেমন মৃত্যুর চিন্তা তার ওপর করতে পারেনি প্রভুত্ব। অকালপ্রয়াত সহকর্মীর স্মৃতি বহুকাল অম্লান থাকবে তার গুনমুগ্ধদের অন্তরে’।
সর্বজন শ্রদ্ধেয় সেই অধ্যক্ষ অধ্যাপক অসিত কুমার মজুমদার আজ আর আমাদের মাঝে নেই। আর অনন্তলোকচারী হয়েছেন যাকে নিয়ে আমাদের এতো গর্ব এতো অহংকার সেই অধ্যাপক তবিবুর রহমানও। মাত্র ৪৬ বছর বয়সে ঘটে তার জীবনাবসান। লেখক: সাতক্ষীরা প্রতিনিধি, দৈনিক যুগান্তর ও এনটিভি