ইমন হত্যা মামলা: বাদী চাচা আলমই মূলপরিকল্পনাকারী হিসেবে গ্রেপ্তার


প্রকাশিত : জুন ২৭, ২০১৮ ||

পত্রদূত রিপোর্ট: জেলা ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক শেখ হাসিবুল হাসান ইমনকে হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে হত্যা মামলার বাদী শেখ আলমগীর হাসান আলমকে সিআইডি পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছে। একই সাথে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে সিআইডি পুলিশ। সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুরের শেখ ইকবাল হাসান লিটনের পুত্র শেখ হাসিবুল হাসান ইমন (২১) কে গত ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি দিবাগত রাতে হত্যা করা হয়। হত্যাকারীরা সদর থানার মাটিয়াডাঙ্গা আমতলার ইকবাল বিশ্বাসের ঘেরে ফেলে রেখে যায়। পরদিন ১৭ জানুয়ারি সকাল ১০টায় সদর থানার পুলিশ ইমনের লাশ উদ্ধার করে। মামলার বাদী হিসেবে ইমনের পিতা মামলার সময় উপস্থিত থাকা সত্বেও পিতাকে বাদী হতে না দিয়ে ইমনের চাচা সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ আলমগীর হাসান আলম বাদী হন এবং বাদী ও তার সঙ্গে থাকা জনৈক আব্দুর রশিদের ইঙ্গিতে শেখ মুস্তাফিজুর রহমান মুরাদ (২৫), শেখ বখতিয়ার রহমান বিপ্লব ও রেজাউল মোল্লা রনিকে গ্রেপ্তার করায়। সে সময় সদর থানার পুলিশ কয়েক দফা রিমান্ড নিয়ে তাদের নিকট থেকে হত্যার ঘটনার স্বীকারোক্তি আদায়ে সম্ভাব্য সকল তৎপরতা চালিয়ে মামলার কোন সুরাহা করতে পারেনি। দ্বিতীয় পর্যায়ে মামলার তদন্তভার সিআইডি পুলিশ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের নিকট হস্তান্তর হলে তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা স. ম আলাউদ্দীন হত্যা মামলার আসামী কাজী সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেন। সাইফুল ইসলাম প্রথমে মামলার বাদী শেখ আলমগীর হাসান আলমের নাম ইমন হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে পুলিশকে তথ্য প্রদান করে। তারপরও মামলার অগ্রগতি আশাব্যাঞ্জক না হওয়ায় এবং মামলাটি কোনভাবে রাজনৈতিক প্রভাবের আওতায় না থাকতে পারে সে বিবেচনায় তৃতীয় পর্যায়ে মামলার তদন্তভার বাগেরহাট সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক সাইফুল ইসলামের উপর ন্যস্ত করা হয়। সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক কয়েক দফা সুলতানপুর গ্রাম ও ঘটনাস্থলে বিভিন্ন পর্যায়ে নিবিড় তদন্তের এক পর্যায়ে গত ২৫ জুন বেলা ১১টায় মামলার বাদী যিনি হত্যার মুল পরিকল্পনাকারি হিসেবে ক্লু পাওয়ায় শেখ আলমগীর হাসান আলমকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
সিআইডি পুলিশ নিশ্চিত হওয়ার পর শেখ আলমগীর হাসান আলমকে ইমন হত্যার মুল নায়ক হিসেবে বিবেচনা করায় তাকে গত ২৬ জুন আদালতে সোপর্দ করে এবং ৫দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক রিমান্ড আবেদনের শুনানির দিন আগামী ১০ জুলাই মঙ্গলবার ধার্য করেন বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে।

 


উল্লেখ্য যে, ইমন হত্যা মামলার বাদী শেখ আলমগীর হাসান আলম নিজেকে রাজনীতিবিদ হিসেবে উল্লেখ করায় এবং তার দল ক্ষমতাসীন থাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ইতোপূর্বে একাধিক মামলার আসামী হিসেবে চিহ্নিত থাকার পরও কোন মামলায় শাস্তি তো দুরের কথা গ্রেপ্তার পর্যন্ত এড়িয়ে নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
আশাশুনি থানার ২/৬/২০০১ তারিখের ১ নং মামলার চার্জশীটভূক্ত আসামী ছিল শেখ আলমগীর হাসান আলম। ওই হত্যা মামলায় শৈয়ব মোহাম্মাদ আইয়ুব নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিল। এছাড়া ১৯৯৬ সালে তৎকালিন দৈনিক সাতক্ষীরা চিত্র সম্পাদক মো. আনিসুর রহিমকে হত্যা প্রচেষ্টা মামলার মুল আসামী থাকার পরও রাজনৈতিক প্রভাবে মামলাটি আলোর মুখ দেখতে পায়নি। সুলতানপুর গ্রামের তার পরিবারের আশে পাশের ব্যক্তিরা আলমের ভয়ে তটস্থ থাকতে দেখা যায়। পুলিশ কর্মকর্তাগণ ইমনের বাড়িতে ইমনের পিতা শেখ ইকবাল হাসান লিটনের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করার চেষ্টা করলে আলমের তিন বোন ‘লিটন’কে পাগল বলে তাকে কোন কথা বলতে দেয়না বলে তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
ইমন হত্যা মামলায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের তিন সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল টিম যে ময়না তদন্তের রিপোর্ট দিয়েছে তা নানা কারণে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হয়েছে বলে দেখা যায়। ময়না তদন্তে আঘাত ও জখমের চিহ্নের সুস্পষ্ট উল্লেখ করা, নরহত্যা বলার পরও শ্বাসরোধ করে মৃত্যু ঘটেছে বলা হয়। মামলার বাদী ইমনের লাশ গোসল করানো ব্যক্তিদেরও পুলিশের কাছে স্বাক্ষ্য প্রদানে ভয়ভীতি দেখানোর কথা গ্রামে প্রচারিত। ফলে গ্রামবাসি সকলের ভিতর যে বিশ্বাস বিগত দেড় বছর যাবত প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল বাগেরহাট সিআইডি পুলিশ বাদীকে হত্যার মুল পরিকল্পনাকারি হিসেবে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করায় তা প্রতিফলিত হয়েছে।
ইমনের মাতা পিতাসহ ঘনিষ্টজনের ভিতর স্বস্তির ভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। গত ২৫ জুন ইমনের চাচাতো ভাই শাবাব ও প্রতিবেশী ভ্যান চালক রাজ্জাককে জিজ্ঞাসাবাদ করে ২৬ জুন বাড়িতে ফেরত দিয়েছে সিআইডি পুলিশ। সিআইডি পুলিশ আশা করছে অচিরেই অন্যসব আসামীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।