গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই নকআউটে ব্রাজিল


প্রকাশিত : জুন ২৮, ২০১৮ ||

স্পোর্টস ডেস্ক: গ্রু চ্যাম্পিয়ন নিশ্চিত করেই মাঠ ছেড়েছেন নেইমাররা
উড়ে গেল শঙ্কার মেঘ। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই নকআউট পর্বে নাম লিখলো ব্রাজিল। বুধবার দিবাগত রাতে সার্বিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে ‘ই’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ষোলোতে উঠেছে তারা। গ্রুপের অন্য ম্যাচে কোস্টারিকার সঙ্গে ২-২ গোলের ড্রতে রানার্স-আপ সুইজারল্যান্ড।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সার্বিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। বিশ্বকাপে টিকে থাকার এই লড়াইয়ে পাউলিনিয়ো ও থিয়াগো সিলভার লক্ষ্যভেদে প্রত্যাশিত জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে সেলেসাওরা। একই সঙ্গে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘ই’ গ্রুপের সেরা হয়েছে তারা, আর কোস্টারিকার সঙ্গে ড্র করে ৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছে সুইজারল্যান্ড। অন্যদিকে শেষ ষোলোতে যাওয়ার স্বপ্ন থাকলেও ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্বেই থামতে হয়েছে সার্বিয়াকে।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ ঠিক হয়ে যাওয়ায় শেষ ষোলোতে ব্রাজিল মুখোমুখি হবে মেক্সিকোর। আর সুইজারল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে খেলবে সুইডেনের বিপক্ষে।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্রাজিল বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ পেয়েছে। সুযোগ নষ্ট ও সার্বিয়ান ডিফেন্ডারদের কারণে ব্যর্থ হলেও ৩৬তম মিনিটে এসে সফল হয় সেলেসাওরা। পাউলিনিয়োর চমৎকার গোলে লিড পায় পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। বার্সেলোনা সতীর্থ ফিলিপে কৌতিনিয়োর বাড়ানো লম্বা পাস বক্সের ভেতর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এগিয়ে আসা সার্বিয়ান গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে তিনি পাঠিয়ে দেন জালে।

পাউলিনিয়োর গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল
অথচ গোলের জন্য অত সময় অপেক্ষাই করতে হয় না, যদি গাব্রিয়েল জেসুস বল জড়াতে পারতেন জালে। ২৯ মিনিটে নেইমারের পাস ধরে বক্সের ভেতর দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিলেন ম্যানচেস্টার সিটি ফরোয়ার্ড। সার্বিয়ান এক ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে জায়গাও তৈরি করলেন শট নেওয়ার জন্য। গোলমুখে শটও নিলেন, কিন্তু আরেক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে হতাশায় জার্সিতে মুখ লুকাতে জেসুসকে।

তার আগে এই ফরোয়ার্ডের পাস থেকে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন নেইমার। কিন্তু সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি প্যারিস সেন্ত জার্মেই ফরোয়ার্ড। ফরোয়ার্ডের দুই তারকা ব্যর্থ হলেও আরেকবার ব্রাজিলের গোলের পথ তৈরি করে দেন কৌতিনিয়ো। তার বাড়ানো চমৎকার পাস থেকেই লক্ষ্যভেদ করেন পাউলিনিয়ো। ওই গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে ব্রাজিল।

বিরতি থেকে ঘুরে এসেও আক্রমণাত্মক ব্রাজিল। ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগও পায় দ্রুত। কিন্তু আবারও ব্যর্থ নেইমার। মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো কৌতিনিয়োর পাস দ্রুতগতিতে বক্সের ভেতর ঢুকলেও সুবিধা করতে পারেননি পিএসজি তারকা।

পরের কয়েক মিনিট অবশ্য সার্বিয়ার। ৫৩ থেকে ৬৫- এই ১২ মিনিটে ব্রাজিলের রক্ষণের কঠিন পরীক্ষা নিয়েছে ইউরোপের দলটি। একের পর এক আক্রমণে সমতায় ফেরানোর দারুণ সুযোগও তৈরি করে তারা। ৬১ মিনিটে লিয়াইকের ক্রস ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক আলিসন ঝাঁপিয়ে প্রতিহত করলেও ছুটে আসা বল সামনে থেকে হেড করেছিলেন মিত্রোভিচ। কিন্তু গোলবারের নিচে গোলরক্ষক না থাকলেও তার হেড হাঁটু দিয়ে প্রতিহত করেন ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভা।

থিয়াগো সিলভার গোলের পর ব্রাজিলের উৎসব
সার্বিয়ার একের পর এক সুযোগ নষ্ট হলেও ভুল করেনি ব্রাজিল। ঘুরে দাঁড়িযে উল্টো ৬৮তম মিনিটে থিয়াগো সিলভার দুর্দান্ত হেডে তারা ব্যবধান দ্বিগুণ করে। নেইমারের নেওয়া কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে হেড করে লক্ষ্যভেদ করেন পিএসজি ডিফেন্ডার।

শেষ পর‌্যন্ত ২-০ গোলের জয়েই মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। তাতে ‘ই’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই উঠেছে শেষ ষোলোতে।