জেলায় বাড়ছে আউশের আবাদ


প্রকাশিত : জুন ৩০, ২০১৮ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: কম খরচ, অল্প পরিচর্যা, বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ প্রদানসহ সীমিত সময়ে ধান উঠায় সাতক্ষীরায় আউশের আবাদ বাড়ছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার ও সেচ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া ধানের দাম বেশি থাকায় কৃষকরা আউশ আবাদের দিকে ঝুকে পড়েছে। ইরির আবাদ শেষ করেই আষাঢ়ের শুরুতেই বৃষ্টির সাথে সাথে একই জমিতে আউশ ধান লাগাতে ব্যস্ত সময় পার করছে চাষীরা। মাত্র একশ’ দিনের মধ্যে এ ধান উঠায় কৃষকদের মাঝে এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। একই জমিতে আবার আমনের চাষ ও করবে অনেক কৃষক। ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, খাদ্য ঘাটতি হ্রাস এবং দারিদ্রতা কমাতে সরকার, কৃষি কর্মকর্তা সহ কৃষকেরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে জেলার ৩৪শ’ ৫০ জন প্রান্তিক চাষীকে বিনামূলে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এসব চাষীকে ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি সার ও ৫০০ টাকা সেচ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। যদিও এসব বিতরণে রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর আউশের আবাদ বিগত যে কোন বছরের তুলনায় ভাল হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। জেলায় কৃষকরা এবার উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ব্রি-ধান ৪৮, ৪৩, হাইব্রিড শক্তি-২ ও জামাইবাবু জাতের আউশ আবাদ করেছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, জেলার সাত উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৬ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ২ হাজার ৬৫০ হেক্টর, কলারোয়ায় ১ হাজার ৬৬০ হেক্টর, তালাতে ১২শ হেক্টও, দেবহাটায় ২৯০ হেক্টর, কালিগঞ্জে ৩৫০ হেক্টর, আশাশুনিতে ৬০ হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলাতে ১৪০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে; যা গতবারের তুলনায় প্রায় ৬১০ হেক্টর বেশি।

সদর উপজেলার পারকুখরালী গ্রামের আদর্শ কৃষক মো. মতিয়ার রহমান জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ১০ বিঘা জমিতে উফশী শক্তি-২ ও জামাইবাবু জাতের আউশ ধান চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় উৎপাদন খরচ ৭ থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা হতে পারে। ক্ষেতে ফলন ভালো হলে তিনি বিঘা প্রতি ১৫ থেকে ২০ মণ ধান পাবেন বলে আশা করছেন। তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার আউশ উৎপাদনে প্রণোদনা দিয়ে থাকে। কিন্তু তিনি একজন আদর্শ কৃষক হওয়া সত্ত্বেও কোনো ধরণের প্রণোদনা পাননি। এমন অভিযোগ অরো অনেক কৃষকের।
তালার মাগুরা, বালিয়াদহা, খলিষখালি ও সাতক্ষীরা সদরে অর্ধশতাধিক আউশ চাষীর সাথে প্রণোদনা নিয়ে কথা হয়। তারা সকলেই বলে প্রণোদনা পায়নি। এছাড়া বেশির ভাগ কৃষি প্রণোদনা দলীয় ভাবে বিতরণ করায় প্রান্তীক কৃষকদের মাঝে এর তেমন সুফল আসেনি।

সাতক্ষীরায় খরিপ-১/২০১৮-১৯ মৌসুমে উফশী আউশ ও নেরিকা আউশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩৪শ’ ৫০জন আউশ চাষীকে বিনামূল্যে বীজ, রাসায়নিক সার, সেচ সহায়তা ও আগাছা দমন সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ১১১০ জন, কলারোয়ায় ৭৯০ জন, তালাতে ৮১০ জন, দেবহাটায় ২শ’ জন, কালিগঞ্জে ২৫০ জন, আশাশুনিতে ১৪০ জন এবং ও শ্যামনগর উপজেলাতে ১৫০ জন কৃষককে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

৩১ মার্চ শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সদর উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেনের সভাপতিত্বে বিনা মূল্যে কৃষকদের মাঝে আউশের সার, বীজ বিতরণ করা হয়। সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাাক আহমেদ রবি সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৬৬০ জন কৃষককে নেরিকা আউশ এবং ৪৫০ জন কৃষককে উফশী আউশ ধানের বীজ বিতরণ করেন। প্রত্যেক কৃষককে ৫ কেজি নেরিকা আউশ বীজ, ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি, সেচ সহায়তা ও আগাছা নাশক সহায়তা হিসেবে ১ হাজার টাকা বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে প্রদান করা হয় এবং ৪৫০ জন কৃষককে প্রত্যেককে ৫কেজি উফশী আউশ বীজ, ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি এবং সেচ সহায়তা বাবদ বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে ৫০০ শত টাকা প্রদান করা হয়।
কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে উপজেলার কৃষি অফিস হলরুমে ৩ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় ২৫০জন কৃষককে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।

১১ এপ্রিল বুধবার আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৪০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সভাপতি এবিএম মোস্তাাকিম এর উদ্বোধন করেন।
৪এপ্রিল বুধবার ১০টায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে দেবহাটায় উপজেলা চত্বেরে ২শ’ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল গণি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল-আসাদ।

১ এপ্রিল রবিবার দুপুরে কলারোয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ৭৯০ কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতারণ করেন সাতক্ষীরা-১ (কলারোয়া-তালা) আসনের সংসদ সদস্য ও জন প্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ ।

১৬ এপ্রিল তালায় ৮১০ জন কৃষকের মাঝে উফশী আউশ ও নেরিকা আউশ ধানের বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য।

৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার শ্যামনগরে ১৫০ জন কৃষকের কৃষি উপরকরণ বিতরণ করা হয়েছে।স্থানীয় সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি এস এম জগলুল হায়দার কৃষি উপকরণ বিতরণ করেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কাজি আব্দুল মান্নান জানান, কৃষকরা দিন দিন আউশ উৎপাদনে আগ্রহী হচ্ছেন। বিশেষ করে সরকারের পক্ষ থেকে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার ও সেচ সহায়তা প্রদান করায় জেলায় আউশের আবাদ বাড়ছে। তিনি আরো জানান, উপকূলীয় জেলা হওয়ার পরও সাতক্ষীরায় ধান উৎপাদন খুবই ভালো হচ্ছে। বিশেষ করে এখন লবণসহিষ্ণু বিভিন্ন জাতের ধান উৎপাদন হচ্ছে।