নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রায়ে পাচার মামলায় যাবজ্জীবন এবং অপহরণে ১৪ বছর সশ্রম কারাদ-


প্রকাশিত : জুলাই ৩, ২০১৮ ||

বদিউজ্জামান: পাচার মামলায় নজরুল ইসলাম ফকির (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদ- এবং স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে ইব্রাহিম (২৫) নামে এক যুবককে ১৪ বছরের সশ্রম করাদ- ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদ-ের আদেশ প্রদান করেছেন আদালত। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসনে আরা আক্তার পৃথক ২টি মামলায় এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত নজরুল ইসলাম ফকির তালা উপজেলার জেঠুয়া গ্রামের মৃত নওশের ফকিরের ছেলে এবং ইব্রাহিম কলারোয়া উপজেলার ধানদিয়া গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ঢাকার মিরপুরের নুরুল ইসলামের ছেলে ধানম-ি সরকারি হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র এনএম কাওছার পারভেজ অনিক (১৪) অংক পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করতে না পারায় বাবা-মা তাকে বকাঝকা করেন। এ ঘটনার পর ২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট কোচিংয়ে যাওয়ার নাম করে সে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। ৩০ আগস্ট যশোরের মনিহার সিনেমা হলের সামনে থেকে আসামি নজরুল ইসলাম ফকির তাকে অপহরণ করে এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগরের কাকরঘাটা গ্রামের আহম্মদ আলীর বাড়িতে আটকে রাখে। এক পর্যায়ে অনিক সেখানে থেকে পালিয়ে পরানপুর বাজারে গেলে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঘটনা শুনে আসামিকে আটক করে শ্যামনগর থানায় সোপর্দ করে। পরবর্তীতে অনিকের বাবা শ্যামনগর থানায় নজরুল ইসলাম ফকিরসহ তার সহযোগী জলিল আক্তার ও লুৎফর রহমান নান্টুর নামে ছেলেকে ভারতে পাচারের চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করে।
এ মামলায় ছয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও নথি পর্যালোচনা করে আসামি নজরুল ইসলাম ফকিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে উপরোল্লিখিত সাজা প্রদান করেন। এ মামলার অপর আসামি জলিল আক্তার ও লুৎফর রহমান নান্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দেন।
রায় ঘোষণাকালে নজরুল ইসলাম ফকির পলাতক ছিলেন বলে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি জহুরুল হায়দার বাবু নিশ্চিত করেছেন।
অপরদিকে স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে ইব্রাহিম (২৫) নামে এক যুবককে ১৪ বছরের সশ্রম করাদ- ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদ-ের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসনে আরা আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত ইব্রাহিম কলারোয়া উপজেলার ধানদিয়া গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে। তবে, সে সদর উপজেলার ঘরচালা গ্রামের মামা নজরুল ইসলামের বাড়িতে থাকতেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১২ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টার সময় মামলার বাদী সদরের ঘরচালা গ্রামের মফেজ উদ্দিন মন্ডলের ছেলে মহাসীনের ভাইজি দশম শ্রেণির ছাত্রী চম্পা খাতুন (১৫) কে স্কুলে যাওয়ার পথে আসামী ইব্রাহিম অপহরণ করে। এ ঘটনায় মহাসীন বাদী হয়ে ইব্রাহিমসহ তার সহযোগী নজরুল ইসলাম ও হাজিরা খাতুনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও নথি পর্যালোচনা করে আসামি ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে উপরোল্লিখিত সাজা প্রদান করেন। এ মামলার অপর আসামি নজরুল ও হাজিরা খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দেন। রায় ঘোষণাকালে আসামি ইব্রাহিম পলাতক ছিলেন বলে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি জহুরুল হায়দার বাবু নিশ্চিত করেছেন।