সরেজমিন কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মোবাইলে ফেসবুকে ব্যস্ত কর্তব্যরত চিকিৎসক মহাসীন, বাইরে রোগযন্ত্রণায় ছটফট করছে এক স্কুলছাত্রী


প্রকাশিত : জুলাই ৩, ২০১৮ ||

বিশেষ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জের মহৎপুর গ্রামের শেখ আহম্মদ আলীর মেয়ে পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী রাফিজা খাতুন (১৪)। পিতা অন্যত্র বিয়ে করে সেখানে অবস্থান করায় দিনমজুর মা’র সংসারে থেকে অতি কষ্টে পড়ালেখা করছে সে। অর্থাভাবে স্কুলের পরীক্ষার ফিস্ জমা দিতে না পারায় মনের কষ্টে ১ জুলাই রবিবার সকাল ৭ টার দিকে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে বাড়িতে থাকা ইদুর মারা বিষ খায় রাফিজা। পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পেরে তাকে চিকিৎসার জন্য প্রতিবেশী অবসরপ্রাপ্ত সহকারী মেডিকেল অফিসার শেখ শামছুর রহমানের কাছে নিয়ে যায়। প্রায় ১০ বছর আগে অবসর নেয়া এই চিকিৎসক ১ দিন চিকিৎসার পর রাফিজার অবস্থা সংকটাপন্ন হলে অন্যত্র চিকিৎসার জন্য যেতে বলেন। এরপর অসহায় মা প্রাণপ্রিয় সন্তানকে মোটরচালিত ভ্যানে তুলে নিয়ে সোমবার বেলা ১ টার দিকে ছুটে যান কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত ছিলেন উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার মহাসীন আলী (৩০)। তার কাছে চিকিৎসার জন্য বললে তিনি ওই রোগীকে ভর্তি করা যাবে না বলে তাকে সাতক্ষীরায় নিয়ে যেতে বলেন। বাইরে ভ্যানে শুয়ে থাকা রাফিজা তখন মৃত্যুযন্ত্রনায় ছটফট করছিল। অপরদিকে রাফিজার দরিদ্র মা আনজুয়ারা খাতুন মোবাইলে ফেসবুকিং নিয়ে ব্যস্ত মহাসীন আলীর নিকট মেয়েকে বাঁচানোর জন্য বারবার আকুতি জানাচ্ছিলেন। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেননি পাষ- মহাসীন আলী। অসহায় আনজুয়ারা খাতুন তার মেয়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে উপস্থিত অনেকেরই পা জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করতে থাকেন। বিষয়টি জানতে পেরে মেয়েটিকে ভর্তি করে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঘটনাস্থলে এই প্রতিবেদক ও অপর এক সংবাদকর্মী মহাসীন আলীর নিকট অনুরোধ জানালে তিনি তখনও নির্লিপ্ত ছিলেন। ততক্ষণে পার হয়ে গেছে আরও ১৫ মিনিট। এসময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. আকছেদুর রহমানকে অফিস কক্ষে না পেয়ে একপর্যায়ে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তৈয়েবুর রহমানকে বিষয়টি জানান হয়। তিনি এসে রাফিজাকে ভর্তির ব্যবস্থা করেন।
এদিকে মহাসীন আলীর এধরণের ন্যাক্কারজনক আচরণে বিভিন্ন স্থান থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, তাদের স্বজন ও কুশলিয়া ইউপি’র সদস্য শেখ খায়রুল আলমসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত সকলেই অবাক হন। তারা বলেন, ইনি তো একজন কসাই, চিকিৎসক নন। মানুষের জীবনের মূল্য তার কাছে নেই। তার মতো ব্যক্তির স্থান হাসপাতালে হওয়া উচিত নয়, জরুরী বিভাগে তো নয়ই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন স্টাফ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রায় দু’বছর আগে কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে মহাসীন আলী এখানে যোগদান করেছেন। তার আচার-আচরণ বরাবরই খারাপ।
এব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার প.প. কর্মকর্তা ডা. আকছেদুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি আমি জানি না। তবে এধরণের ঘটনা ঘটে থাকলে তা অত্যন্ত দু:খজনক। মহাসীন আলীর দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাফিজা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিল। তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও শংকামুক্ত নয় বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক পাষন্ড উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার মহাসীন আলীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীসহ সচেতন মহল।