মিয়ানমার ও বেনাপোল সীমান্তে সড়ক নির্মাণ করা হবে: বিজিবি মহাপরিচালক


প্রকাশিত : জুলাই ৩, ২০১৮ ||

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম যশোরের বেনাপোল ও পুটখালি সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনও স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময় করেছেন। মাদক, অস্ত্র, নারী ও শিশু পাচাররোধে পুটখালি বিওপিতে স্থাপিত ওয়াচ টাওয়ার-আধুনিক সার্কিট ক্যামেরা হাউজ পরিদর্শন করেন তিনি। সোমবার সকালে বেনাপোল চেকপোস্ট নোম্যান্স ল্যান্ড এলাকা পরিদর্শনকালে বিজিবি মহাপরিচালককে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এসময় গার্ড অব অনার প্রদর্শন করা হয়। বিএসএফের পক্ষেও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। মাদক, অস্ত্র, চোরাচালান ও জঙ্গি রোধে সীমান্ত সড়ক নির্মাণ করা হবে। পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হলো সীমান্ত সীমান্ত সার্ভেল্যান্স এন্ড রেসপন্স সিস্টেম। ঢাকা বিজিবি হেড কোয়াটার থেকে সরাসরি তদারকি করা যাবে। এছাড়াও দৌলতপুর সীমান্তে দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সার্চ লাইটের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি। সীমান্তে মাদক, অস্ত্র ও নারী শিশু পাচারসহ চোরাচালান রোধে বিজিবি সব ধরণের ব্যাবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান বিজিবি মহাপরিচালক।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিজিবির বিজিবির দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল রিজিওন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মামুন, খুলনা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তৌহিদুল ইসলাম, ৬৪ বিএসএফে কমান্ডার রাবীব হোসেন, ২১ ব্যাটেলিয়নের সিও লে. কর্নেল তারিকুল হাকিম, ৪৯ ব্যাটেলিয়নের সিও লে. কর্নেল আরিফুল হক, পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, বিজিবি সুত্রে জানায়, ‘বর্ডার সার্ভেইল্যান্স এন্ড রেসপন্স সিস্টেম’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ৩৯৯ কিলোমিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্পর্শকাতর ওই এলাকাজুড়ে বিজিবির নজরদারি নিশ্চিত করতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ‘বর্ডার সার্ভেইল্যান্স এন্ড রেসপন্স সিস্টেম’ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে থার্মাল ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা, রাডার, সেন্সরযুক্ত বিভিন্ন যন্ত্র ও সমন্বিত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। বর্ডার সার্ভেইল্যান্স এর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুর্গম সীমান্তে ‘রেসপন্স টিম’ পৌঁছানোর লক্ষ্যে যেকোন ধরণের স্থল সীমান্তে চলাচল উপযোগী ‘অল টেরেইন ভেহিকেল’ এবং দুর্গম জল/নৌ সীমান্তে জন্য হাইস্পীড বোট সরবরাহ করা হবে।
‘বর্ডার সার্ভেইল্যান্স এন্ড রেসপন্স সিস্টেম’ এর মাধ্যমে নেটওয়ার্কভুক্ত সীমান্তে সংশ্লিষ্ট ‘কমান্ড’ পর্যায় থেকে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিট ছাড়াও কেন্দ্রীয়ভাবে সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম এর মাধ্যমে সীমান্তের নজরদারির লক্ষ্যে বিজিবি সদর দপ্তর, পিলখানায় সর্বাধুনিক ‘কমান্ড সেন্টার’ স্থাপন করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় মাদক, অস্ত্র, সবধরণের চোরাচালান ও সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিশেষ সহায়ক হবে।
চিহ্নিত স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ ৩৯৯ কিলোমিটার সীমান্ত আগামী ৩ বছরের মধ্যে সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে যশোরের পুটখালীর ৭ কিলোমিটার স্পর্শকাতর সীমান্তে ‘বর্ডার সার্ভেইল্যান্স এন্ড রেসপন্স সিস্টেম’ স্থাপনের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ সীমান্তের ১০ কিলোমিটার এলাকায় এই সিস্টেম স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। আগামী বছর নাগাদ কক্সবাজার জেলার অধিকাংশ সীমান্ত এলাকা, নওগাঁর হাপানিয়া সীমান্ত, দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলে ‘বর্ডার সার্ভেইল্যান্স এন্ড রেসপন্স সিস্টেম’ স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করা হবে।
এছাড়া সীমান্তের চেকপোস্টগুলোতে নিরাপত্তা ও নজরদারি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বেনাপোল ও হিলি চেকপোস্ট বিজিবি’র সিসিটিভি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সীমান্তের সকল চেকপোস্ট একইভাবে সিসিটিভি নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় ‘সার্ভেইল্যান্স এন্ড রেসপন্স সিস্টেম’ স্থাপন সম্পন্ন হলে সীমান্ত অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।